Tag: সাংগ্রাই

  • বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    বৈসাবি উৎসবে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাহাড়-সমতলের সবার জন্য সম্প্রীতির আহ্বান

    এবিএনএ: পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের আহ্বান জানান।

    শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান—দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট সব নৃগোষ্ঠীর মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান।

    জাতীয় সংস্কৃতির অংশ বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব উৎসব পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এবং সমাজে শান্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জাতীয় ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সমাজে সম্প্রীতির বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।

    সমান অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

    শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের সমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড় বা সমতল—যেখানেই বসবাস হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। এই ঐক্য ধরে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    সুখ-শান্তির প্রত্যাশা

    বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ দেশের মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করেন।

  • ঢাকায় বসছে পাহাড়ি সংস্কৃতির মিলনমেলা: শুরু হচ্ছে ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু’ উৎসব

    ঢাকায় বসছে পাহাড়ি সংস্কৃতির মিলনমেলা: শুরু হচ্ছে ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু’ উৎসব

    এবিএনএ: রাজধানীতে আবারও জমে উঠতে যাচ্ছে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আমেজ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বিঝু, বৈসু, সাংগ্রাই ও বিষু’ উপলক্ষে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী একটি বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

    আগামী ৯ এপ্রিল থেকে মিরপুরের শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ আয়োজন।

    ঢাকায় বসবাসরত পার্বত্য উদ্যোক্তাদের একটি সমবায় সংগঠনের উদ্যোগে এবং একটি সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    মেলায় অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন পাহাড়ি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। তাদের স্টলগুলোতে পাওয়া যাবে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি কিছু স্টলে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক পণ্যের সংমিশ্রণও দেখা যাবে।

    মেলার প্রধান আকর্ষণ

    এবারের আয়োজনে ৩০টির বেশি স্টলে সাজানো থাকবে পাহাড়ি কৃষিপণ্য, জুম চাষের তাজা সবজি, হাতে তৈরি হস্তশিল্প এবং জনপ্রিয় পাহাড়ি খাবারের সমাহার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশনা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

    মেলার শেষ দিনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ লটারি ড্র, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করবে।

    স্পেশাল বিজু বাজার

    মেলা শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ১২ এপ্রিল, বসবে ‘স্পেশাল বিজু বাজার’। এখানে পাওয়া যাবে উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য, যেমন তাজা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনা খাবার।

    আয়োজকদের বক্তব্য

    আয়োজকদের মতে, পাহাড়ি সংস্কৃতি, খাবার ও পোশাকের প্রতি নগরবাসীর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে রাজধানীর মানুষের কাছে পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

    তারা আরও জানান, গত বছরের সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিতে পারবেন।

    কিভাবে যাবেন

    মেলার স্থানটি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত। মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে রিকশায় অল্প সময়েই পৌঁছানো যাবে। আশপাশে বেশ কিছু পরিচিত প্রতিষ্ঠান থাকায় স্থানটি খুঁজে পাওয়া সহজ।