Tag: সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি

  • বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ,বাগেরহাট:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ৩৬ ঘণ্টা শেষে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক জরুরি সভায় কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী রোববার জেলার সব সরকারি অফিস-আদালতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি সোম, মঙ্গল ও বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তিন দিনের হরতাল চলবে। তবে রাতের সময় হরতালের বাইরে থাকবে।

    সভায় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা মোজাফফর রহমান আলম, শেখ মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ একাধিক কর্মসূচি পালনের পরও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমএ সালাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কমিশন যদি চারটি আসন বহালের দাবি না মানে তবে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি আসন রক্ষায় আগামী সপ্তাহে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

    হরতাল চলাকালে জেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি হওয়ায় বাগেরহাট কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যাত্রী ও স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বাড়তি ভাড়া, কখনও হেঁটে, কখনও ইজিবাইক বা ভ্যানে যাতায়াত করতে হয়েছে তাদের।

    এছাড়া রাতের বেলায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও সর্বদলীয় কমিটির নেতারা এসব ঘটনায় নিজেদের জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটিতে সীমিত করার প্রস্তাব দেয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এতে বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ নম্বর আসন রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চারটি আসনে নির্বাচন হয়ে আসলেও এবার একটি আসন সংকোচনকে গণমানুষের দাবির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় নেতারা।

  • বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতালে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

    রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে খুলনা থেকে মোড়েলগঞ্জগামী মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় যাত্রা শুরু করলেও হরতালের কারণে বারবার গাড়ি বদল করতে হচ্ছে। কাটাখালি থেকে দশানী পর্যন্ত পৌঁছে আর কোনো পরিবহন পাননি। তার অভিযোগ, আন্দোলন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়িয়ে দিয়েছে।

    একই দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। খুলনা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার জানান, সকাল থেকে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তিনি এখনও বাগেরহাটের বাইরে যেতে পারেননি। পরীক্ষার দিন এমন পরিস্থিতি তাকে দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

    মো. মিজান নামের আরেক যাত্রী জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে আটকে যেতে হচ্ছে। রাস্তার উপর গাছ ফেলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুরোধ করলেও পথ অবরোধকারীরা রাস্তা খুলে দেয়নি, তাই মাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

    অঞ্চলজুড়ে একই দৃশ্য। দূরপাল্লার কোনো বাস চলেনি, অটোরিকশা ও ভ্যানও খুব কম সংখ্যায় চলেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    হরতালের বিষয়ে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চার আসনের পরিবর্তে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে আমরা আন্দোলনে নামি। সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। তাই আজ হরতাল ও অবরোধ ডাকতে হয়েছে।”

    তিনি দাবি করেন, জেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের দাবিকে সমর্থন করেছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, মোংলা বন্দর এলাকার বেশিরভাগ অফিসও তালাবদ্ধ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলন ‘সফল’ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই হরতাল আন্দোলন জেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।