Tag: সরকার

  • সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি—নোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি—নোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং সংবাদপত্র যেন নির্ভয়ে কাজ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, বৈঠকে নোয়াব সদস্যরা সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশনের খবর দেখেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে তিনি খোঁজ নেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম বৈঠক। এতে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    এবিএনএ:  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সব স্তরে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়লেও সরকার জনগণের স্বার্থে দাম বাড়ায়নি; বরং প্রতিদিন বিপুল ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি। এতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক পর্যায়েও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি খাতে অপচয় কমাতে সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে।

    স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

    অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) সহ ১৫ জন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

    সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

    নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। দলীয় ইশতেহার ও ঘোষিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কয়েকজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

  • সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা—দেশজুড়ে অফিসের নতুন সময়সূচি কার্যকর, জারি প্রজ্ঞাপন

    সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা—দেশজুড়ে অফিসের নতুন সময়সূচি কার্যকর, জারি প্রজ্ঞাপন

    এবিএনএ: দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে Ministry of Public Administration। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের আলোকে এই সময়সূচি কার্যকর করা হবে।

    তবে জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য জরুরি খাত তাদের নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও গ্রাহক সেবার সময় আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে Bangladesh Bank

    অন্যদিকে, আদালতের কার্যক্রম ও অফিস সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে Supreme Court of Bangladesh-কে।

    বেসরকারি শিল্প ও কলকারখানার কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে Ministry of Labour and Employment

    সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে অফিস কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আসবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • খরচ কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত: সরকারি অফিসে জ্বালানি-বিদ্যুৎ ব্যবহারে ৩০% কাটছাঁট

    খরচ কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত: সরকারি অফিসে জ্বালানি-বিদ্যুৎ ব্যবহারে ৩০% কাটছাঁট

    এবিএনএ: সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সরকারি অফিসগুলোতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণও সমপরিমাণ কমাতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, উড়োজাহাজ এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি যানবাহনে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া জ্বালানির ব্যবহারও ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

    সরকারি কার্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া আপাতত নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা ব্যয় কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের এই ধরনের ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • পুলিশকে আধুনিক শক্তিতে গড়ে তুলতে জোর—ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় সরকারের বড় পরিকল্পনা

    পুলিশকে আধুনিক শক্তিতে গড়ে তুলতে জোর—ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় সরকারের বড় পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও বহুমাত্রিক সক্ষমতায় গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ও উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশে হেলিকপ্টার সংযোজন, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, উন্নত যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এর ফলে পুলিশ বাহিনী আগের তুলনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির ব্যবহার, মানবাধিকার বজায় রেখে আইন প্রয়োগ, এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ।

    এছাড়া জরুরি সেবা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯’-এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই সেবার মাধ্যমে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইন তড়িঘড়ি করে পাসের উদ্যোগ সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনো গণম্যান্ডেট ছাড়াই পাস করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

    শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা তথ্য পেয়েছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং এনজিও সংক্রান্ত একটি আইন দ্রুত পাস করাতে চাচ্ছে। এই আইনের পেছনে সরকারের এমন একটি উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা আদতে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, “জনগণের অনুমতি এবং মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক আইন পাস করা কখনোই সমীচীন হতে পারে না। আমরা মনে করি, এসব আইন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদে যথাযথ যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করাই যথাযথ হবে।”

    তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন অগণতান্ত্রিক ও তাড়াহুড়োপূর্ণ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য, কারণ এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পথে মালয়েশিয়া, নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত

    ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পথে মালয়েশিয়া, নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। লক্ষ্য—শিশুদের সাইবার বুলিং, প্রতারণা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও যৌন হয়রানির মতো ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

    রোববার দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজিল জানান, মালয়েশিয়া বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য উন্নত দেশের নীতি পর্যালোচনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই, প্রযুক্তির সুবিধা শিশুদের জন্য নিরাপদ হোক, ক্ষতির নয়।”

    সামাজিক মাধ্যমের কারণে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হওয়ার অভিযোগে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, গুগল এবং মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে আইনি জটিলতায় রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া আগামী মাস থেকে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, ইতালি ও গ্রিস যৌথভাবে বয়স যাচাইকরণ অ্যাপ তৈরি ও পরীক্ষা করছে।

    এদিকে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া গত জানুয়ারিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের কথা বললেও পরে নিয়ম কিছুটা শিথিল করে। সেখানে এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কনটেন্ট ফিল্টার ও বয়স যাচাইয়ে কঠোরভাবে বাধ্য করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি হতে পারে শিশু সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর সবচেয়ে বড় আইনগত পরিবর্তন।

  • ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে রাজধানীর ৩০০ ভবন, সতর্ক করলেন রাজউক চেয়ারম্যান

    ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে রাজধানীর ৩০০ ভবন, সতর্ক করলেন রাজউক চেয়ারম্যান

    এবিএনএ: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকায় প্রায় ৩০০টি ছোট-বড় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, “যদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ না করে, তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানো খুবই কঠিন হবে।” তাই ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, ভবন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান রাজউক চেয়ারম্যান।

    ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “রাজউকে অর্থের বিনিময়ে কোনো অনুমোদনের কাজ হয় না। নিয়ম মেনেই সব কিছু সম্পন্ন হয়। ভবনের প্ল্যানও রাজউক তৈরি করে না। ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্টের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারাই প্ল্যান তৈরি করে জমা দেন। আমরা শুধু নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করি।”

    তিনি উল্লেখ করেন, পরে যদি সেই নকশা বা নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়, তবে তার দায়ভার রাজউকের নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকের। আর এ ক্ষেত্রে জরিমানা কিংবা শাস্তি দেওয়া উচিত মালিকদেরকেই।

    রাজউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, “সিটি করপোরেশন, রাজউক ও ফায়ার সার্ভিস যদি আলাদাভাবে কাজ করে, তাহলে নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা ও অসংগতি তৈরি হবেই। তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    তিনি মনে করেন, এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ঢাকার জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

  • ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: সরকারের কার্যক্রমে স্বাধীনতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার নিজস্ব কোনো শক্তির ওপর নয়, বরং দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে টিকে আছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ আয়োজন করে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “এই সরকার দুই দলের ওপর নির্ভর করে চলছে—একটি তাদের নিজেদের সৃষ্টি, আরেকটি পুরনো দল। এই দুটি দল যা বলে, সরকার তা-ই বাস্তবায়ন করে। নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও এর প্রমাণ আমরা দেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যারা একসময় মুখ খুলতে সাহস পেত না, তারাই আজ চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। এ সাহস তারা কোথা থেকে পেল? তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে বোঝা যেত কার আসল জনসমর্থন কতটুকু।”

    মির্জা আব্বাস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই দলগুলোকে জেতানোর জন্য সরকার হয়তো অবৈধ উপায় অবলম্বন করতে পারে। আগের মতো রাতের ভোট দিনে, দিনের ভোট রাতে হতে পারে। দেশের জনগণ এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দলকে চায় না, তবুও তারা আজ বড় বড় কথা বলছে—এটা বিস্ময়কর।”

    জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতারই বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই শাসনভার চায়! ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, আর এখন ধর্মের নামে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীই দেশের ক্ষতি করেছে।”

    বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কখনো এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না। জাতিকে বিভক্ত করে ফায়দা লুটতে চাওয়া শক্তিকে বিএনপি কখনোই পুনর্বাসনের সুযোগ দেবে না।”

    সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ এ বিষয়ে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপরাধের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    নতুন সংযোজিত ৭৩(ক) ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র ঘোষণার পর থেকে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে কিংবা নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত করতে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রচার করে—তবে তা ‘দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    এই অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আরপিও-তে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় বট, ভুয়া সামাজিক অ্যাকাউন্ট বা সিনথেটিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরিও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি এই ধরনের ভুয়া তথ্য বা মিডিয়া কনটেন্ট শুধুমাত্র কোনো প্রার্থীকে নয়, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বা জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়, তাহলেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি আইন সংস্কারের ধারাবাহিকতা সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন বিধান অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি প্রকাশ করবে ইসি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ নির্বাচনে তথ্যভিত্তিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।