Tag: সতর্কবার্তা

  • কালবৈশাখীর তাণ্ডব ঢাকায়—ঝড়, বজ্রপাত আর শিলাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত নগরজীবন

    কালবৈশাখীর তাণ্ডব ঢাকায়—ঝড়, বজ্রপাত আর শিলাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত নগরজীবন

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বুধবার রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টি মিলিয়ে নগরজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।

    সন্ধ্যার পরপরই আকাশে ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করে। রাত ৭টার দিকে বিভিন্ন এলাকায় ধুলিঝড়সহ তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে যায়। এরপর রাত ৮টার দিকে শুরু হয় ভারি বৃষ্টিপাত, যা দ্রুতই নগরের বিভিন্ন এলাকাকে ভিজিয়ে দেয়।

    বাংলামোটর, শাহবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও তেজগাঁওসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বৃষ্টির প্রভাব দেখা যায়। অনেক পথচারী ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হঠাৎ এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিপাকে পড়েন।

    শুধু বৃষ্টি নয়, অনেক এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। পাশাপাশি আকাশে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমক ও বিকট শব্দে বজ্রপাত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

    এদিকে, আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, রাত ১টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এসব এলাকার কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    হঠাৎ এই বৈরী আবহাওয়ায় নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ঈদের দিনই কালবৈশাখীর হানা! ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আবহাওয়ার নতুন সতর্কবার্তা

    ঈদের দিনই কালবৈশাখীর হানা! ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আবহাওয়ার নতুন সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদের দিনে দেশজুড়ে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শনিবার (২১ মার্চ) কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা।

    রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়-বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    তবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ২২ মার্চের পর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

    এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্যও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যশোর, খুলনা, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    অন্যদিকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলেও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় লেসকুরে স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসী বা দখলমূলক উদ্যোগ নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

    লেসকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

    বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের কিছু বেশি। জনসংখ্যার সিংহভাগই ইনুইট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং এর বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।

    ভৌগোলিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দ্বীপটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে—যা ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য।

    এই বক্তব্যের পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

  • ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    এবিএনএ: ভূমিকম্পকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচার, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। ভূমিকম্প তারই অন্যতম একটি নিদর্শন।

    তিনি বলেন, কোরআনে অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নবীদের অস্বীকার করেছে, দ্বীনের বিরোধিতা করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। সালেহ (আ.)-এর উম্মত যখন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন উটনিকে হত্যা করেছিল, তখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। একইভাবে লুত (আ.)-এর উম্মত সমকামিতার মতো নোংরা পাপাচারে লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদ উল্টে দেন এবং পাথর বর্ষণ করেন।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে পাপাচারের কারণে অতীতের জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধানের বিরোধী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও শাস্তিযোগ্য। অথচ আজ সেটিকে “অধিকার” বলে বৈধ করার দাবি উঠছে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে গণহারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি ডেকে আনে এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রস্তুতি। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে তওবা করা, পাপ থেকে বিরত থাকা, ইমান মজবুত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা।

    অন্যদিকে, অতি জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে এক লাখেরও বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। অথচ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এখনো খুবই সীমিত।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যদি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীর পেছনে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশও ভূমিকম্প প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করত, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

    শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক হয়ে ইমানি জীবনযাপন, তওবা ও সামাজিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না, যদি আল্লাহর রহমত না থাকে। ভূমিকম্প আমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।”