Tag: সড়ক নিরাপত্তা

  • দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর—নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি নির্দেশ

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বিশেষ করে কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষসহ ফেনী ও হবিগঞ্জের দুর্ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রোববার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ঈদের আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা জাতির জন্য গভীর বেদনার। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। রেলক্রসিং, সেতু ও সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদারে দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বার্তায় উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া ও কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন।

    আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এই কমিটিগুলো গঠন করেছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এছাড়াও ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

  • মহান বিজয় দিবসে সড়কে ডাইভারশন, যানজট এড়াতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের আহ্বান

    মহান বিজয় দিবসে সড়কে ডাইভারশন, যানজট এড়াতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের আহ্বান

    এবিএনএ: মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ বার্তা দিয়েছে।

    সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর রাত ৩টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকা–আশুলিয়া ও ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—গাবতলী ও বাইপাইল—এ ডাইভারশন কার্যক্রম চলবে। এই সময় সকল যানবাহনকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে পুলিশ বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।

    জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগ্রহী সাধারণ জনতার জন্য সকাল ৯টা থেকে উন্মুক্ত থাকবে। এই ডাইভারশন ও সতর্কতার মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রশাসন জানিয়েছে, ডাইভারশন চলাকালীন সময়ে সচেতনতা বজায় রেখে যানচলাচল করলে যানজট এড়ানো সম্ভব হবে এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আনন্দময় ও সুষ্ঠু হবে।

  • সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ফিটনেসবিহীন বাস-অটোরিকশায় ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

    সড়কে মৃত্যুফাঁদ: ফিটনেসবিহীন বাস-অটোরিকশায় ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের সড়ক এখন যেন চলন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক—ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

    প্রতিদিন ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার অন্তত ২০ শতাংশের জন্য দায়ী ফিটনেসবিহীন মোটরযান। ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার বা ইঞ্জিনের ত্রুটিতে মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রংচটা, ভাঙাচোরা ও নোংরা বাসে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে চলছে পরিবহন ব্যবসা।

    আইন থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল

    দেশের আইন অনুযায়ী, ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চালানো অপরাধ। এ সনদ ইস্যু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু সংস্থাটির হিসাবেই দেখা যায়, সাড়ে ছয় লাখের বেশি যানবাহনের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই। ফলে তারা অবাধে সড়কে চলাচল করছে।

    গণপরিবহনেই বেশি ঝুঁকি

    গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ২৪ হাজার বাস, ১২ হাজার মিনিবাস ও ১৪ হাজার হিউম্যান হলারের হালনাগাদ ফিটনেস নেই। চুক্তিভিত্তিক পরিবহন খাতেও একই অবস্থা—সারাদেশে দুই লাখের বেশি অটোরিকশা ও অটোটেম্পো ফিটনেসবিহীন। ফলে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই ওঠানামা করছেন এসব যানবাহনে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-ট্রাক

    সরকার বাসের ইকোনমিক লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাকের জন্য ২৫ বছর নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দেশের রাস্তায় এখনো ৭৫ হাজারের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও ট্রাক চলাচল করছে। পুরোনো এসব যানবাহন মাঝপথে নষ্ট হয়ে যানজট তৈরি করছে, আবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে।

    পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে

    আনফিট যানবাহনের কালো ধোঁয়া শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতিদিন অজস্র মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এই দূষণের কারণে।

    বিশেষজ্ঞদের মতামত

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “যে বাসগুলো দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, সেগুলো যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। ফলে প্রাণহানির ঘটনা বেশি হচ্ছে।”
    বুয়েটের এআরআই পরিচালক অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, “আনফিট গাড়ির মেকানিক্যাল ফেইলিওরের ঝুঁকি বেশি। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণই হচ্ছে এসব যানবাহন।”

    সুপারিশ ও সমাধান

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে—
    ১. ফিটনেস পরীক্ষা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন,
    ২. মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রুট থেকে সরানো,
    ৩. পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার,
    ৪. সড়ক নিরাপত্তা আইন শক্তিশালী করা,
    ৫. নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন এসব গাড়ি মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। তাই সরকার, বিআরটিএ, পরিবহন ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগেই সড়কে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

  • সপ্তাহের কর্মদিবসে সড়ক বন্ধ নয়: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের কড়া বার্তা

    সপ্তাহের কর্মদিবসে সড়ক বন্ধ নয়: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানীর যানজট এবং জনভোগান্তি এড়াতে কর্মদিবসে সড়ক অবরোধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে রাজধানীর মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এবং পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত—বাধাগ্রস্ত হয়।”

    মঙ্গলবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত “সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে ডিএমপি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (GRSP)-এর আয়োজিত এ কর্মশালায় ডিএমপির ৬০ কর্মকর্তা অংশ নেন।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঢাকায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ করছি—অফিস চলাকালীন সময়ে যেন সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি না দেওয়া হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত করে কারণ চিহ্নিত করা গেলে তা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। তাই পুলিশ সদস্যদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা জরুরি।”

    অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সারওয়ার বলেন, “চালক, পথচারী ও যাত্রী—সবাই যদি নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলেন, তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।”

    এছাড়া কর্মশালায় অংশ নেন বিআইজিআরএস ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিনেটর আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম, জিআরএসপি’র ব্র্যাট হারম্যান, পিটার জোনস এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজনসহ আরও অনেকে।

    ডিএমপি কমিশনার সকল ট্রাফিক সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন সড়কে গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইন বাস্তবায়নে আরও সচেষ্ট হতে।