Tag: সচিবালয়

  • প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে সচিবালয়ে বড় রদবদল, বদলি হচ্ছেন ১৬৯ পুলিশ সদস্য

    এবিএনএ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে সচিবালয়ে নিয়োজিত এবং বিভিন্ন অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা পেশাগত অদক্ষতার অভিযোগে চিহ্নিত সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    বদলির আওতায় থাকা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সচিবালয়ের বিভিন্ন গেটের নিরাপত্তাকর্মী, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন

    শুধু জনবল পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের উদ্যোগ। সচিবালয়ের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় বসানো হবে এআই-ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তি।

    নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অস্ত্র ও মাদক শনাক্তকরণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি আরও কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    নতুন পদায়নে গুরুত্ব পাচ্ছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স

    সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা যাচাই বা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও গোপন নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    বদলি ঘিরে চলছে তদবির

    বদলির তালিকা প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পুলিশ সদস্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। কেউ কেউ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে আগের দায়িত্বে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

    বিশেষজ্ঞদের মত কী?

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর রোটেশন বা বদলি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নিরাপত্তা চর্চা।

    তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র সময় বিবেচনায় গণহারে বদলি না করে প্রতিটি সদস্যের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও সার্ভিস রেকর্ড মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় দক্ষ ও নিরপেক্ষ সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

    দর্শনার্থী পাসেও আসছে নতুন নিয়ম

    সচিবালয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে দর্শনার্থী পাস ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য পাস ইস্যু করা হবে এবং প্রয়োজন শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সচিবালয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

  • সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি—নোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

    সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি—নোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে এবং সংবাদপত্র যেন নির্ভয়ে কাজ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, বৈঠকে নোয়াব সদস্যরা সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশনের খবর দেখেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে তিনি খোঁজ নেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম বৈঠক। এতে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন।

  • মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর—‘আইনের বাইরে কিছুই চলবে না’

    এবিএনএ: নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে ‘মব কালচার’ আর চলতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায়ের নামে সহিংস ভিড় বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়ালে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

    মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল, সমাবেশ বা স্মারকলিপি দেওয়ার অধিকার থাকবে—কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি আর গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক ধারায় থেকেই দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমাতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন রুটিন দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে নতুন মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

  • নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    এবিএনএ:  স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি যদি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তফসিল ঘোষণার আগেই উপদেষ্টার পদ ছাড়বেন।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সিদ্ধান্ত নিলে তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করব। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

    সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর মামলায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, “চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপুর দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, অপুর স্ত্রী দাবি করেছেন, তাকে গুম করে সেই স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সূত্র থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

    রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যাদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে—আগে করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন বলে ভাবছেন—তাদের সরকারের বাইরে থাকা উচিত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যা হয়নি, তার পাল্লাটাই ভারী। জনগণ অভ্যুত্থানের কিছু সুফল পেয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কতটা সুফল পেয়েছে, সেটা জনগণই ভালো বলতে পারবে।”

  • সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    এবিএনএ:  ঢাকার সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

    ছাত্ররা পরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগ।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সাইন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ২০ মিনিট সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। এরপর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।

  • ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের কর্মচারীরা আন্দোলনে আরও সক্রিয় হয়েছেন। এই দাবিতে তারা ফের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ২২ জুন থেকে সারাদেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর প্রদক্ষিণ করে একদল আন্দোলনরত কর্মচারী মিছিল করেন। পরে ভবনের নিচে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, “যদি আজকের মধ্যেই আমাদের দাবি মেনে সংশোধিত অধ্যাদেশ বাতিল করা না হয়, তাহলে আগামী রবিবার (২২ জুন) থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হবে।” তারা আরও জানান, এই কর্মসূচিতে দেশের সব সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে একযোগে আন্দোলনে নামা হবে।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সমাবেশে আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনের সামনে পুনরায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    নুরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবি আজই মানতে হবে। অন্যথায় ২২ জুন থেকে আমরা এমন কর্মসূচি নেব, যা পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অচল করে দিতে পারে।”

    এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এ ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    এবিএনএ: সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বুধবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল বের হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সচিবালয়ের বাদামতলা এলাকায় জড়ো হন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী। সেখানে বাংলাদেশ সচিবালয় ঐক্য ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির, মো. নুরুল ইসলাম এবং কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

    নেতারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলোচনায় বলেছেন যে, কর্মচারীদের আন্দোলন নাকি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আসলে কি আন্দোলন কমে আসছে? বরং আজকের জমায়েত গতকালের চেয়েও দ্বিগুণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বুধবার প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা মিছিল আসবে সচিবালয়ের দিকে।”

    তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, এই দাবি আমাদের সবার এবং পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

    ফোরামের আরেক কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবির বলেন, “এই আন্দোলন এখন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশে আমাদের সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছেন। আমরা অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

    বুধবার সকাল ১১টায় আবারও সবাইকে সচিবালয়ের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা আবারও বাদামতলায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • মঙ্গলবার বন্ধ থাকছে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ, আন্দোলনের ঘোষণা উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    মঙ্গলবার বন্ধ থাকছে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ, আন্দোলনের ঘোষণা উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    এবিএনএ,ঢাকা:


    অনিবার্য কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

    রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রেরিত এই চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার সারাদিন দর্শনার্থীরা সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

    এদিকে, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ের ভেতরে সরকারি কর্মচারীদের লাগাতার বিক্ষোভ সোমবার তৃতীয় দিনে গড়ায়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা সচিবালয়ের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান।

    বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী ‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয় এলাকার বাদামতলায় সমবেত হবেন তারা।

    ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বলেন, “আমাদের দাবি একটাই—এই কালো অধ্যাদেশ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে। যতদিন না তা হয়, ততদিন আন্দোলন চলবে।”

    একই সঙ্গে ফোরাম দেশের অন্যান্য সরকারি অফিসেও কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের সব প্রান্ত থেকে এই দাবি জোরালো হয়।

  • সচিবালয় ঘিরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কড়া বার্তা ডিএমপির

    সচিবালয় ঘিরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কড়া বার্তা ডিএমপির

    এবিএনএ, ঢাকা:


    রাজধানীর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকা সচিবালয় এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে—এ কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

    সোমবার (২৬ মে) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,

    “গত ১০ মে ২০২৫ তারিখে ডিএমপি কমিশনার কর্তৃক জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং আশেপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, শোভাযাত্রা, মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।”

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়,

    “নির্বিঘ্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে তা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

    ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই নির্দেশনা অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    📌 নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত

    ঢাকা শহরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে সচিবালয় এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয় নিয়মিত। এরই ধারাবাহিকতায় এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বা আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে এমন সতর্কতা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

  • ঈদুল আজহায় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা, কর্মজীবীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার

    ঈদুল আজহায় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা, কর্মজীবীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার

    এবিএনএ:  পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের মাঝে এসেছে খুশির সংবাদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবারের ঈদ উপলক্ষে টানা ১০ দিন ছুটি থাকবে।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছুটির ঘোষণা প্রকাশ করেন।

    যদিও ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে কার্যক্রম সচল রাখতে ১৭ মে ২৪ মে শনিবার অফিস খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার। এই দুই দিন অফিস চালু রেখে কর্মঘণ্টা সামঞ্জস্য করা হবে।

    ঈদুল আজহা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কোরবানির এই উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে থাকে কর্মব্যস্ততা, ভ্রমণ পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন। দীর্ঘ ছুটির ফলে এবার সেই প্রস্তুতিতে গতি আসবে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।

    সরকারি এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী প্রবাসফেরত কর্মজীবীরা। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ ভ্রমণ গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের জন্য এটি এক অসাধারণ সুযোগ।

    এছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ছুটির সময় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।