Tag: সংসদ

  • সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed

    রোববার সংসদ অধিবেশনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqul Rahman যে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তা সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে নোটিশ দিতে হয়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ জরুরি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে সংশোধিত নোটিশ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সংসদের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে আগের বিশৃঙ্খল পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।

    মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব বিষয় আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেগুলো সাধারণ মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করা যায় না। এ ধরনের বিষয়ে আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

    পরিস্থিতি সমাধানে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান প্রণয়নের জন্য সবার মতামত জরুরি। তাই সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • জ্বালানি তেল নিয়ে কঠোর বার্তা: চোরাচালান ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    জ্বালানি তেল নিয়ে কঠোর বার্তা: চোরাচালান ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    এবিএনএ:দেশে জ্বালানি তেলকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চোরাচালান ও অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠিন ব্যবস্থা নিতে হবে।

    শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই।

    বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় অবৈধভাবে তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিষয়টি। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের চিহ্নিত করতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত পথে জ্বালানি তেলের চোরাচালান ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চিফ হুইপ আরও জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    অধ্যাদেশ সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এদিন বৈঠকে তা উত্থাপন করা হয়নি। তবে পরদিন অধিবেশন শুরুর আগে সরকারদলীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    এদিকে, বৈঠকের শুরুতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত সবাই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

    বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের এই কঠোর অবস্থান বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আইনের চোখে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা: নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা

    আইনের চোখে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা: নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনের আলোকে মূল্যায়ন করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলে কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই এবং এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো দলের সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা করতে হলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মানতেই হবে। আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কার্যালয় খোলার উদ্যোগ নিলে তা বৈধতা পাবে না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব জানান, সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন শুরু হলে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কার্যক্রম এগোনোর কথাও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘ; এই পথে মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতিই হবে বিরোধী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দলটি সামগ্রিক ফলাফল স্বীকার করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

    নির্বাচনী সময়ে মাঠে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নানা চাপ ও হয়রানির মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিয়েছে। ফলাফলে হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি; সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী ব্লক হিসেবে দলটির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    তিনি অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তাই বিরোধী দলে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রেখে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ অব্যাহত থাকবে। দলটি নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায়।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সদ্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জাতির জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বলেন তিনি। ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন।

    আসন্ন সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের বার্তা—জনগণের ম্যান্ডেট কোনো ছাড়পত্র নয়; এটি শর্তযুক্ত দায়িত্ব। সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা। শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অঙ্গীকারে দলটি অবিচল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    এবিএনএ: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র কিছু আসনের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাওয়ার চেষ্টা হলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তার মতে, দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং স্বৈরাচারী শক্তিগুলো সুযোগ নেবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা একটি পরীক্ষিত প্রক্রিয়া। এর বাইরে গিয়ে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা আসনের লোভে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবি তোলে, তা হবে জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব নেই। তবুও যদি কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলনে নামে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই তার মোকাবিলা করবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়মতো নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বৈধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে যে কোনও সংশোধন এলে বিএনপি তা সমর্থন করবে। তবে এমন কোনও প্রক্রিয়া তারা সমর্থন করবে না যা ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

    তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব, সংঘাত বা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপে নয়।

  • সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্ন পথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

    সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্ন পথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে একমত হতে পারছে না। বিএনপি জানিয়েছে, নতুন সংসদ গঠনের পরই সংস্কার কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চায় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ গঠন করে তা বাস্তবায়ন করা হোক। আর জামায়াতে ইসলামী জোর দিচ্ছে গণভোট অথবা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার ওপর।

    শনিবার জামায়াত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে, জনগণের ভোট বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ছাড়া এই সংস্কার পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এর আগে, গত বুধবার বিএনপি জানায় জুলাই সনদকে তারা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল মনে করে, তবে সংসদকেই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখতে চায়।

    এনসিপি এর বিপরীতে বলছে, জুলাই সনদকে গাইডিং প্রিন্সিপাল হিসেবে ধরে গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখন করতে হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল এখনও মতামত দেয়নি, তবে তারা নির্বাচনের আগে সনদ কার্যকর করার দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    ঐকমত্য কমিশনের ছয়টি পৃথক কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক দফায় সংলাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি সুপারিশে সব দলের ঐকমত্য হলেও বাকিগুলোতে তীব্র মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি, দুদক ও অন্যান্য নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অবস্থানে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।

    জুলাই সনদের খসড়ায় বলা হয়েছে, এর প্রাধান্য থাকবে সংবিধানের ওপরে এবং আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে বিএনপি এতে আপত্তি জানিয়েছে, কারণ তাদের মতে সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বিপরীতে জামায়াত বলছে, জনগণের অভিপ্রায়কে ভিত্তি করে সনদ ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ আইনি মর্যাদা পেয়েছে।

    রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভিন্নমতের কারণে সনদ বাস্তবায়নের পথ আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হতে পারে।

  • “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ ও গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদ। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান সংসদের বাইরে থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বর্তমানে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি কোনো দল সংবিধান সংশোধন করতে চায়, তবে সেটি হতে হবে সংসদের ভেতরে, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা চলবে না।”

    গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “যারা নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে চায় বা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে, তারা আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সকল পরিবর্তন হতে হবে স্বচ্ছ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়।”

    রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐক্য প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলাই, তাহলে কোনো সংস্কারই বাস্তবায়িত হবে না। অন্যের মতকে সম্মান জানানো, সহনশীলতা এবং উদারতা ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না।”

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর অনেকেই মনে করছেন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ভেঙে গেছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, “প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব নীতি ও মতামত থাকবেই। কিন্তু ঐক্য মানে সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। যেখানে মতৈক্য হবে, সেখানে একসঙ্গে কাজ করবো। আর যে বিষয়গুলোতে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”

    আমীর খসরু বলেন, জনগণই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। সেই সিদ্ধান্তই সংসদে প্রতিফলিত হবে। কারণ, গণতন্ত্র মানেই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।