Tag: সংবিধান সংস্কার

  • ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে—জামায়াতের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রুলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাজনৈতিক বিষয় আদালতের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায়ের চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    হাইকোর্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা, সংবিধান সংস্কার সভার শপথ, গণভোটের প্রশ্ন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে দলটি বলছে, সরকার যদি পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে।

    মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক পরিসরেই হওয়া উচিত। অতীতে বিভিন্ন ইস্যু আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির যে নজির তৈরি হয়েছে, তার ফল ইতিবাচক হয়নি; বরং তা জাতীয় অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও স্থবিরতা ডেকে এনেছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের আচরণে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পিতভাবে রিট দায়ের করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব খাটানো হলে তা হবে দ্বিমুখী আচরণ এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালতকে ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের পুরোনো কৌশল পরিহার করা জরুরি। দেশবাসী মনে করে, জনগণ ও জুলাই সনদকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যেকোনো প্রয়াস জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ থেকে সরে এসে সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই হতে পারে টেকসই পথ।

  • একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ১২ ফেব্রুয়ারিতে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ১২ ফেব্রুয়ারিতে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

    এবিএনএ: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৫ সালের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ তফসিল প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

    মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই ও প্রচারণার সময়সূচি

    সিইসি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর
    মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
    রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, আর এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি
    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, এবং ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ।

    এ ছাড়া ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে প্রচারণা চলবে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত—অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত

    ভোটগ্রহণ ও ব্যালট বিবরণ

    ভোট নেওয়া হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত—এ বছর ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
    জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদাকালো, আর গণভোটের ব্যালট নির্ধারিত হয়েছে গোলাপি রঙের। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের বর্ষপূর্তির আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে জাতীয় নির্বাচন।

    পরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়। ১৩ নভেম্বর নিশ্চিত করা হয়—জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

  • গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    এবিএনএ:  জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। সাত মাসব্যাপী সংলাপের পরও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের শেষ দিনে আলোচনায় কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াত চায় নভেম্বরে এবং এনসিপি নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষপাতী।

    ঐকমত্য ছাড়াই শেষ সংলাপ

    রাত ১১টায় সংলাপ শেষ হয় কোনো ঐকমত্য ছাড়াই। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানো হবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিএনপি ও অন্যান্য দলের অবস্থান

    বিএনপি চায়, জনগণের অনুমোদনপ্রাপ্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর বাধ্যতামূলক হোক, তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সংবিধান সংস্কার সভা বানানোর প্রস্তাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করা উচিত, যাতে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দলটির নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেন, “একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে, বরং আগে গণভোট হলে তা বেশি স্বচ্ছ হবে।”

    এনসিপিও তাদের অবস্থান বদলে এখন নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলও একই দাবি জানিয়েছে।

    কমিশনের ভাবনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

    ঐকমত্য কমিশন মনে করছে, গণভোটে একাধিক প্রশ্ন না রেখে কেবল একটি প্রশ্ন রাখা হবে—জনগণ জুলাই সনদ অনুমোদন করছেন কিনা। একাধিক প্রশ্ন রাখলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

    কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠাবে এবং দলগুলোকে অবহিত করবে। এরপর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের সময় নিয়ে এই অচলাবস্থা ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও জটিল করছে।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে সংস্কার জরুরি। এখন সময় এসেছে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার।”

  • ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    এবিএনএ: এক দেশে কীভাবে দুটি সংবিধান থাকতে পারে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আয়কর আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, সংবিধানের যেসব সংশোধনী বা সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেরি করা উচিত নয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—বর্তমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় নতুন সংস্কারের প্রয়োগ হলে দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন কোন সংবিধানের ভিত্তিতে চলবে? আদালতে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ করে বসে, তখন কে বলবে এই পরিবর্তনের অধিকার কার?

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের আলাপ-আলোচনা চলছে, বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তবে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদই উপযুক্ত ফোরাম। তিনি প্রস্তাব দেন, সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে পারে।

    তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা এখনো মন্ত্রিসভায় বিবেচনায় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে গ্রহণযোগ্য সংস্কারগুলো কার্যকর করতে পারে।

    আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন, তাদের জন্য বলছি—দেশ এখন নির্বাচনী আবহে। খুব শিগগিরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, আর তার প্রত্যাবর্তনই হবে নির্বাচনমুখী ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।”

  • সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্ন পথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

    সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্ন পথে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে একমত হতে পারছে না। বিএনপি জানিয়েছে, নতুন সংসদ গঠনের পরই সংস্কার কার্যকর করতে হবে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চায় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ গঠন করে তা বাস্তবায়ন করা হোক। আর জামায়াতে ইসলামী জোর দিচ্ছে গণভোট অথবা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার ওপর।

    শনিবার জামায়াত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে, জনগণের ভোট বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত ছাড়া এই সংস্কার পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এর আগে, গত বুধবার বিএনপি জানায় জুলাই সনদকে তারা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল মনে করে, তবে সংসদকেই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখতে চায়।

    এনসিপি এর বিপরীতে বলছে, জুলাই সনদকে গাইডিং প্রিন্সিপাল হিসেবে ধরে গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখন করতে হবে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল এখনও মতামত দেয়নি, তবে তারা নির্বাচনের আগে সনদ কার্যকর করার দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    ঐকমত্য কমিশনের ছয়টি পৃথক কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক দফায় সংলাপ হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি সুপারিশে সব দলের ঐকমত্য হলেও বাকিগুলোতে তীব্র মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি, দুদক ও অন্যান্য নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অবস্থানে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে।

    জুলাই সনদের খসড়ায় বলা হয়েছে, এর প্রাধান্য থাকবে সংবিধানের ওপরে এবং আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। তবে বিএনপি এতে আপত্তি জানিয়েছে, কারণ তাদের মতে সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বিপরীতে জামায়াত বলছে, জনগণের অভিপ্রায়কে ভিত্তি করে সনদ ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ আইনি মর্যাদা পেয়েছে।

    রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভিন্নমতের কারণে সনদ বাস্তবায়নের পথ আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হতে পারে।

  • নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকেই আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী এক দফা দিয়েছিলাম। সেটা ছিল কোনো একক দলের নয়, ছিল জনগণের পক্ষ থেকে—a call for democratic uprising।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যে রাজনীতি করি, তা দায়বদ্ধতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে স্বৈরতন্ত্রের আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “যদিও সরকারের পতন ঘটেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটেনি। তাই নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করব।”

    এনসিপির ঘোষিত ২৪ দফা মূলনীতির কিছু দিক:

    ১. নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
    ২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
    ৩. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন
    ৪. বিচারব্যবস্থায় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
    ৫. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনসেবামুখী শাসন
    ৬. জবাবদিহিমূলক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
    ৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
    ৮. স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ
    ৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা
    ১০. যুগোপযোগী শিক্ষানীতি
    ১১. তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক গবেষণা
    ১২. ধর্ম ও জাতিসত্তার সম্মান
    ১৩. নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন
    ১৪. মানবমুখী অর্থনীতি ও কল্যাণ রাষ্ট্র
    ১৫. যুবকদের কর্মসংস্থান
    ১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন
    ১৭. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিতে স্বাবলম্বিতা
    ১৮. শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার
    ১৯. রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনা
    ২০. পরিবহন, নগরায়ন ও আবাসন পরিকল্পনা
    ২১. পরিবেশ, নদী ও সমুদ্র রক্ষা
    ২২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা
    ২৩. বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি
    ২৪. আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশল

    ঘোষণার শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিয়েছিলাম—দেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করব। আজ আবারও সেই স্থানে দাঁড়িয়ে বলছি—আসুন, সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ি যেখানে সবার জন্য সাম্য, মর্যাদা ও সুবিচার থাকবে।”

  • নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই রাজনীতির অন্তরাল থেকে ভেসে আসছে এক নতুন পরিকল্পনার গুঞ্জন—একটি জাতীয় সরকার গঠনের নীলনকশা। নির্বাচন নয়, বরং একটি অন্তর্র্বর্তী সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় রেখে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।

    জাতীয় ঐকমত্য গঠনের নামে একের পর এক বৈঠক হলেও স্পষ্ট কোনো নির্বাচনী সময়সূচি এখনো সামনে আসেনি। বরং সংস্কার, বিচার ও সংলাপ—এই শব্দগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক পরিসরে। এতে করে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সে নিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্দেহ।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বিএনপি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে না বলেই তারা মনে করে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে রাষ্ট্রীয় সংকট হিসেবেই দেখছেন।

    তবে সরকারের দিক থেকে এখনো তেমন কোনো কার্যকর প্রস্তুতি বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত। এই সুযোগেই পর্দার আড়ালে চলছে জাতীয় সরকার গঠনের নানা তৎপরতা। বিভিন্ন মহল, এমনকি কিছু বিদেশি দূতাবাসও এ প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব সামনে এসেছে, যেখানে জাতীয় সরকার গঠন করে তিন বছর পরে নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। তারা বলছে, আগে সংস্কার চূড়ান্ত করতে হবে, তারপর গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তবেই নির্বাচন হবে।

    জাতীয় সরকারের মূল প্রস্তাবনায় রয়েছে—ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হবেন এবং বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন পক্ষকে অংশীদার করে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে। বিএনপি অবশ্য এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা মনে করে, এটি অন্তর্র্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল।

    বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ মাসের অন্তর্র্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকারে অংশ নেবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অবিলম্বে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টি বরাবরই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায়, অন্তত তিন বছর পর নির্বাচন হোক। ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কও এখনো শীতল। বঙ্গভবনের শিষ্টাচারিক রীতিনীতি তিনি উপেক্ষা করেছেন বারবার। এমনকি ঈদেও রাষ্ট্রপতির পাশে নামাজ পড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত পর্দার আড়ালে। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত। বিএনপি যদি শক্তিশালী জনমত গঠন করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে না নামতে পারে, তাহলে হয়তো জাতীয় সরকারের বিকল্প বাস্তবতা সামনে চলে আসবে।

    এখন মূল প্রশ্ন—নির্বাচন হবে, না কি গঠিত হবে একটি আপাত রাজনৈতিক ঐকমত্যভিত্তিক জাতীয় সরকার? এ উত্তর মিলছে না রাজপথে, বরং খোঁজ চলছে কূটনৈতিক মহল ও ড্রইং রুমে।

  • জুলাই সনদের মাধ্যমে ঐকমত্যের বার্তা দিতে চান অধ্যাপক ইউনূস

    জুলাই সনদের মাধ্যমে ঐকমত্যের বার্তা দিতে চান অধ্যাপক ইউনূস

    এবিএনএ, ঢাকা:

    রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একমত হয়ে আগামী জুলাই মাসেই জাতীয় ঐকমত্যের সনদ ঘোষণার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সব দলের অংশগ্রহণ ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সনদ তৈরি করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমরা আজ এখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত ভুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে একসাথে কাজ করতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি, ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি দৃঢ় জুলাই সনদ আমরা প্রকাশ করতে পারব।”

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে, সব পক্ষের মতামতকে সম্মান জানিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ পথরেখা নির্ধারণ সম্ভব হবে।

    এই সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও অংশগ্রহণ করে সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিভিন্ন অংশীজনরা।

    কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, “কমিশনের মেয়াদ আগামী ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত, তবে আমরা চাই জুলাইয়ের মধ্যেই ঐ সনদ চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হোক।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “এই দায়িত্ব শুধু প্রাতিষ্ঠানিক নয়, এটি একটি নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব—যা সফলভাবে সম্পন্ন করতেই হবে।”

    প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন, সরকারি প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত পাঁচটি প্রধান সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করার জন্য।

    কমিশনের প্রথম দফা সংলাপ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলে, যেখানে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।