Tag: সংবিধান সংশোধন

  • সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed

    রোববার সংসদ অধিবেশনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqul Rahman যে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তা সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে নোটিশ দিতে হয়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ জরুরি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে সংশোধিত নোটিশ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সংসদের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে আগের বিশৃঙ্খল পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।

    মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব বিষয় আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেগুলো সাধারণ মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করা যায় না। এ ধরনের বিষয়ে আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

    পরিস্থিতি সমাধানে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান প্রণয়নের জন্য সবার মতামত জরুরি। তাই সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    এবিএনএ: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র কিছু আসনের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাওয়ার চেষ্টা হলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তার মতে, দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং স্বৈরাচারী শক্তিগুলো সুযোগ নেবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা একটি পরীক্ষিত প্রক্রিয়া। এর বাইরে গিয়ে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা আসনের লোভে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবি তোলে, তা হবে জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব নেই। তবুও যদি কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলনে নামে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই তার মোকাবিলা করবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়মতো নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বৈধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে যে কোনও সংশোধন এলে বিএনপি তা সমর্থন করবে। তবে এমন কোনও প্রক্রিয়া তারা সমর্থন করবে না যা ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

    তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব, সংঘাত বা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপে নয়।

  • কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটবে অদ্ভুত ঘটনা, সতর্ক করলেন মেজর (অব.) হাফিজ

    কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটবে অদ্ভুত ঘটনা, সতর্ক করলেন মেজর (অব.) হাফিজ

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে এক “অদ্ভুত ঘটনা” ঘটতে যাচ্ছে। তার মতে, বিশ্বের সব দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সংবিধান সংশোধন করেন, অথচ বাংলাদেশে তা করছেন একদল অনির্বাচিত ব্যক্তি।

    মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    হাফিজ বলেন, “যারা আমেরিকা, লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন, ১৭ বছরের কোনো আন্দোলন বা জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে অংশ নেননি, তারাই এখন সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চাইছেন।”

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থ হলে জিয়া জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে সামনে আসেন।

    যুবশক্তির প্রসঙ্গে হাফিজ বলেন, “বিশ্ব আমাদের দরিদ্র দেশের কাতারে ফেলতে চায়। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার ডলার সমৃদ্ধ পরাশক্তির চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ধনী, কারণ এদেশে আবু সাঈদের মতো সাহসী সন্তান জন্ম নেয়।”

    তিনি উল্লেখ করেন, “নিরস্ত্র হয়েও যারা গণতন্ত্রের জন্য গুলি খেয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। আমাদের গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

  • “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ ও গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদ। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান সংসদের বাইরে থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বর্তমানে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি কোনো দল সংবিধান সংশোধন করতে চায়, তবে সেটি হতে হবে সংসদের ভেতরে, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা চলবে না।”

    গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “যারা নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে চায় বা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে, তারা আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সকল পরিবর্তন হতে হবে স্বচ্ছ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়।”

    রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐক্য প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলাই, তাহলে কোনো সংস্কারই বাস্তবায়িত হবে না। অন্যের মতকে সম্মান জানানো, সহনশীলতা এবং উদারতা ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না।”

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর অনেকেই মনে করছেন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ভেঙে গেছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, “প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব নীতি ও মতামত থাকবেই। কিন্তু ঐক্য মানে সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। যেখানে মতৈক্য হবে, সেখানে একসঙ্গে কাজ করবো। আর যে বিষয়গুলোতে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”

    আমীর খসরু বলেন, জনগণই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। সেই সিদ্ধান্তই সংসদে প্রতিফলিত হবে। কারণ, গণতন্ত্র মানেই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।

  • রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে কোন বিষয়ে একমত, কোনটিতে ভিন্নমত—স্পষ্ট করলো বিএনপি

    এবিএনএ: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি। দলটি জানায়, বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ করেছে। তবে কিছু কিছু ইস্যুতে মতানৈক্য রয়ে গেছে, যা কমিশনের কার্যক্রমকে কিছুটা ধীর করেছে।

    রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৬টি সংস্কার কমিশনের আলোচনায় বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

    ফখরুল বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, র‍্যাব বিলুপ্তিসহ অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুদক কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে একমত হলেও একটিতে তারা আদালতের অনুমতির বিধান বহাল রাখতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন কমিশনের ২০৮ প্রস্তাবের মধ্যে ১৮৭টিতে তারা একমত, ১১টিতে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে।

    বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯ সুপারিশের মধ্যে ৬২টিতে একমত হয়ে ৯টিতে আংশিক মত দিয়েছে দলটি। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে ২৪৩ সুপারিশের মধ্যে ১৪১টিতে একমত হয়েছে, কিন্তু ২৪টির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানিয়েছে।

    সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশিরভাগেই বিএনপি একমত হয়েছে। বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়ে ছাড় দিয়েছে দলটি। এমনকি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও সংসদে বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতির পদ দানের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও ঐকমত্য হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    বিএনপির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—সংস্কারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, জাতীয় স্বার্থে যেসব বিষয় গ্রহণযোগ্য নয়, তাতে দল আপসহীন। সেইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন চায়, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে একমত বিএনপি

    প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে একমত বিএনপি

    এবিএনএ:  একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন— এমন সাংবিধানিক বিধান অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সম্মত হয়েছে বিএনপি। বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, “শুধু নির্বাহী ক্ষমতা কমিয়ে দিলে রাষ্ট্র সঠিকভাবে চলবে— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতে একজন ব্যক্তি স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করেছেন বলে সার্বিকভাবে নির্বাহী ক্ষমতা খর্ব করা যৌক্তিক নয়। আমাদের মানসিকতা হতে হবে ভারসাম্য রক্ষার দিকেই।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি মনে করে— বিদ্যমান আইনের আওতায় সার্চ কমিটি বা কমিশন ব্যবস্থার মাধ্যমেই নিয়োগ সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে এসব প্রতিষ্ঠান যেন নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকে, সেজন্য জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কার প্রয়োজন।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবিধানে আলাদা নতুন কোনো নিয়োগ বডি গঠনের প্রয়োজন নেই। বরং বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই উত্তরোত্তর উন্নয়ন সম্ভব।”

    বৈঠকে সংবিধানের মূলনীতিসমূহ নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যগুলো সংবিধানে বহাল রাখতে চায়।

    তবে শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধই নয়, বিএনপি চায় আধুনিক রাষ্ট্রের নীতি হিসেবে গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহনশীলতাকেও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে।

    জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় বিএনপির এমন শর্তসাপেক্ষ সহমত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি বদলে নতুন পথ খুঁজছে রাজনৈতিক দলসমূহ: আলী রীয়াজ

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি বদলে নতুন পথ খুঁজছে রাজনৈতিক দলসমূহ: আলী রীয়াজ

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের ব্যাপারে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া গঠন করতে তারা আগ্রহী।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার চতুর্থ দিনে এই তথ্য জানান তিনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য একমত পোষণ করেছে। তবে নতুন পদ্ধতির বিস্তারিত নিয়মাবলী নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা হবে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে সংযুক্ত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০ আসনের প্রস্তাবে অধিকাংশ দল সমর্থন জানিয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পদে পরপর দুই মেয়াদে থাকার নিয়ম নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বিরতি দিয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর পদে আসার সম্ভাবনার বিষয়ে কমিশনের কাছে বিবেচনার আবেদন করেছে।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার পরিবেশ খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং প্রতিটি দল স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে স্বতন্ত্র।

    আগামী রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দ্বিতীয় দফার পঞ্চম বৈঠকে পুনরায় সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেসব বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য গড়ে উঠবে।

    আজকের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) সহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।