Tag: সংগীতশিল্পী

  • কর মামলায় বড় জয় শাকিরার, ফেরত পাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা

    কর মামলায় বড় জয় শাকিরার, ফেরত পাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা

    এবিএনএ: দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা শেষে স্বস্তির খবর পেলেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ গায়িকা Shakira। স্পেনের উচ্চ আদালত তাকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে আদায় করা বিপুল পরিমাণ অর্থ সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ শাকিরার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালে তিনি স্পেনে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করায় দেশটির কর আইনের আওতায় পড়েছিলেন। তবে বিচারকরা জানান, উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী ওই বছর শাকিরা প্রয়োজনীয় সময়সীমার চেয়ে কম দিন স্পেনে অবস্থান করেছিলেন।

    আদালতের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় তিনি স্পেনে মোট ১৬৩ দিন ছিলেন। অথচ দেশটির কর আইনে করদাতা হিসেবে বিবেচিত হতে ন্যূনতম ১৮৩ দিন অবস্থান করতে হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে আরোপিত কর ও জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    রায়ের ফলে শাকিরা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৬৫ কোটি টাকা ফেরত পাবেন। এই অর্থের মধ্যে আয়কর ও জরিমানার বড় একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শাকিরা জানান, গত কয়েক বছর তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তিনি দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া তার ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য এবং পরিবারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই শিল্পীর মামলার রায় নিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • সুর থেমে গেল, ইতিহাস রইল: কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংগীতজগতে

    সুর থেমে গেল, ইতিহাস রইল: কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংগীতজগতে

    এবিএনএ: ভারতের প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    শিল্পীর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আশা ভোঁসলে। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রোববার দুপুরে তিনি মারা যান।

    ১৯৩৩ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সঙ্গীতপ্রাণ মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তার বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চ ব্যক্তিত্ব। পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় আশার। কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার বড় বোন।

    কৈশোরে পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবি পরিবর্তন করে ‘ভোঁসলে’ গ্রহণ করেন। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; ১৯৬০ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বলিউডের খ্যাতিমান সুরকার ও গায়ক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আশা ভোঁসলে।

    সঙ্গীতজীবনে তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি কোনো এক ধারায়। শাস্ত্রীয়, আধুনিক, গজল, পপ, ক্যাবারে—সব ধরনের গানে সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। হিন্দি, বাংলা, মারাঠিসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

    অভাব-অনটনের সময় পরিবারকে সহায়তা করতে খুব অল্প বয়সেই গান গাওয়ার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন আশা। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়ে চলচ্চিত্র সংগীতে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান।

    সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য জীবদ্দশায় বহু সম্মাননায় ভূষিত হন আশা ভোঁসলে। ২০০০ সালে তিনি পান ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। এছাড়া ২০০৮ সালে তাকে দেওয়া হয় ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ।

    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি শিল্পীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি।

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা অসংখ্য গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে যাবে।