Tag: সংক্রমণ

  • হাম আতঙ্ক বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু—হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    হাম আতঙ্ক বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু—হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    এবিএনএ: দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকি আট শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১০৫ শিশু। একই সময়ে ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে সরাসরি আক্রান্ত হয়ে ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৬৪ জন। এতে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

    এ সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসা মোট রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২৩১ জন। তাদের মধ্যে ভর্তি হতে হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ জনকে। পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার ৮৯৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৩০৪ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জ্বর, র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

  • হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ: রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছয় মাস বয়সী যমজ কন্যা—রিসা ও রুহি। কয়েকদিন আগেও তাদের হাসিতে মুখর ছিল পরিবার। কিন্তু হামে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় রিসা। একই রোগে আক্রান্ত তার যমজ বোন রুহি এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

    হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মা কনিকা বেগমের কোলে নিথর এক সন্তান, আর সামনে আইসিইউতে লড়ছে অন্যজন। অসহায় এই মুহূর্তে তিনি বাকরুদ্ধ। স্বজনদের চোখে জল না থাকলেও মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট শোকের গভীরতা।

    শিশুদের মামা তানভীর হোসেন জানান, জন্মের পর থেকেই দুই বোনই ছিল প্রাণবন্ত। তাদের বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব চেষ্টা করা হয়েছে। একজনকে হারানোর পর এখন অন্যজনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গাজীপুর থেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরের পর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রিসাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

    চিকিৎসকদের মতে, হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। একই উপসর্গ নিয়ে রুহিকেও আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১০ মাসের কম। চিকিৎসকদের ভাষায়, তাদের বেশিরভাগই সংকটাপন্ন।

    হাসপাতালের আইসিইউর সামনে উদ্বিগ্ন অপেক্ষায় ছিলেন আরেক শিশুর স্বজন নুরুল হক। তার ১০ মাস বয়সী নাতনি জোবায়দা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। সাত দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। নাতনির অবস্থা জানতে বারবার আইসিইউতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও অনুমতি না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তিনি।

    অন্যদিকে, মিরপুর-১০ এলাকা থেকে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মুন্নি বেগম। হাম ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকায় জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন তারা। সন্তানের জীবন বাঁচাতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৬১ শিশু বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। গতকাল দুপুরে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে আইসিইউতে। আজ সকাল পর্যন্ত মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। ৫ এপ্রিল যেখানে ৩৯২ শিশুর মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছিল, তা পরদিন বেড়ে হয় ৪৭০ জন। সর্বশেষ সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। একই সময়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামে ২৬ আক্রান্ত, ৪ সন্দেহজনক মৃত্যু—দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    ২৪ ঘণ্টায় হামে ২৬ আক্রান্ত, ৪ সন্দেহজনক মৃত্যু—দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে নতুন করে কোনো নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনা না থাকলেও উপসর্গের ভিত্তিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেগুলো এখনো যাচাইাধীন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬৩ জন।

    এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। আর উপসর্গের ভিত্তিতে সন্দেহজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৭ জনের।

    তবে আশার খবরও রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৩০ জন রোগী।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

  • মারাত্মক সংক্রমণে হাসপাতালে সাবা আজাদ, পাশে ছায়ার মতো রয়েছেন হৃতিক রোশন

    মারাত্মক সংক্রমণে হাসপাতালে সাবা আজাদ, পাশে ছায়ার মতো রয়েছেন হৃতিক রোশন

    এবিএনএ: বলিউড অঙ্গনে দুশ্চিন্তার খবর—অভিনেত্রী সাবা আজাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।

    জানা গেছে, বিরল ধরনের এক সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন সাবা, যার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অসুস্থতার কারণে তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে স্বাভাবিকভাবে উঠে বসাও তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের এই সময়টিকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    ওজন কমেছে, শক্তি হারিয়েছেন

    এই সংক্রমণের প্রভাবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৪ কেজি ওজন কমে গেছে সাবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বর্তমান অবস্থার ছবি শেয়ার করে তিনি জানান, আগে নিয়মিত শরীরচর্চা ও ভারোত্তোলন করলেও এখন সামান্য কাজ করার শক্তিও তার নেই।

    তিনি আরও বলেন, সবসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সত্ত্বেও কীভাবে এই সংক্রমণ হলো, তা তার কাছে রহস্যই রয়ে গেছে।

    ভক্তদের সতর্কবার্তা

    নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সাবা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে কাঁচা শাকসবজি বা সালাদ খাওয়ার আগে সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানান অভিনেত্রী।

    পাশে আছেন হৃতিক

    এই কঠিন সময়ে সাবার পাশে সার্বক্ষণিকভাবে রয়েছেন বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশন। প্রেমিকার দ্রুত সুস্থতার জন্য তিনি নিয়মিত সময় দিচ্ছেন এবং মানসিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে হৃতিক রোশন ও সাবা আজাদ সম্পর্কে রয়েছেন। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।

    শেষ কথা

    সাবা আজাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন ভক্তরা। একই সঙ্গে তার সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।