Tag: শ্রীলঙ্কা

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা: নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় কলম্বোর কড়া বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা: নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় কলম্বোর কড়া বার্তা

    এবিএনএ: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই তাদের ভূখণ্ডকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জানান, মার্চের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুরোধ নাকচ করা হয়। তিনি বলেন, দেশের নিরপেক্ষ নীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২৬ ফেব্রুয়ারি মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি চেয়েছিল। ওই বিমানগুলোতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে সেগুলো স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল, তবে শ্রীলঙ্কা এতে সম্মতি দেয়নি।

    একই সময়ে ইরানও তাদের যুদ্ধজাহাজ কলম্বো বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চায়। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে বলেন, যদি এক পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হতো, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা কোনো পক্ষের পক্ষেই অবস্থান নেয়নি।

    তিনি আরও জানান, ভারত মহাসাগর এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে বহু নাবিক হতাহত হন। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

    এদিকে, পরের দিন ইরানের আরেকটি জাহাজকে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও সেটি শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। দেশটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি ইরানও শ্রীলঙ্কার চায়ের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ফলে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখতে নিরপেক্ষ অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কলম্বো।

  • মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    এবিএনএ:ভারতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে ডুবে গেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডেনা। শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৮৭ জন নৌসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬২ জনের খোঁজ মেলেনি।

    ইরানের এই ফ্রিগেট চলতি বছরের মিলান ২০২৬ মহড়ায় অংশ নিতে ভারতের জলসীমায় আসে। এর আগেও ২০২৪ সালে একই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাহাজটি। মহড়া শেষ করে নিজ দেশে ফেরার পথে এই বিপর্যয় ঘটে।

    মহড়ার লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট

    ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘মিলান’ মহড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সামুদ্রিক আয়োজন। এতে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী অংশ নিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা, সমন্বিত অভিযান ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুশীলন করে। হারবার ও সি-ফেজে সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মতো জটিল মহড়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রকাশ্যে এলো বিস্ফোরণের ভিডিও

    ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে, যা সাবমেরিনের পেরিস্কোপ থেকে ধারণ করা। ভিডিওতে দূরে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সামরিক অভিযানের এমন তাৎক্ষণিক চিত্র প্রকাশের ঘটনা বিরল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    অনুসরণ করছিল কি সাবমেরিন?

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান থেকে ভারত পর্যন্ত যাত্রাপথে মার্কিন সাবমেরিনটি গোপনে আইরিস ডেনা-কে নজরদারিতে রেখেছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এক দেশের নৌবাহিনীর অন্য দেশের জাহাজকে অনুসরণ করা অস্বাভাবিক নয়।

    এই ঘটনার পর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

  • শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়: এমপি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

    শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়: এমপি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার তদন্তে উঠে আসে, রাজধানী কলম্বোর অদূরে নিত্তাম্বুয়া এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি পথরোধ করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুলি ছোড়েন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এরপর জনরোষে তিনি ও তার দেহরক্ষী নির্মম গণপিটুনির শিকার হন। বাঁচতে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও হাজারো বিক্ষোভকারীর ভিড়ে তিনি অবশেষে নিহত হন।

    রায়ে আদালত ১২ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই মামলায় আরও ২৩ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা চাইলে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও গুরুতর অপরাধে আদালত নিয়মিতভাবে এ সাজা ঘোষণা করে থাকে।

    ২০২২ সালে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার জেরে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের সময় সহিংসতা বাড়লে ক্ষমতাসীন দলের বহু আইনপ্রণেতার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। টানা আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন।

    পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন নেতৃত্ব ব্যয় সংকোচনের নীতি অব্যাহত রেখে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

  • টসে জিতে হংকংকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল শ্রীলঙ্কা, বড় জয়ের লক্ষ্য লঙ্কানদের

    টসে জিতে হংকংকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল শ্রীলঙ্কা, বড় জয়ের লক্ষ্য লঙ্কানদের

    এবিএনএ:  দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছে শ্রীলঙ্কা। প্রতিপক্ষ হংকং। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। ফলে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে হংকংকে।

    আজকের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জয় পেলে দলটি অনেকটাই এগিয়ে যাবে পরের রাউন্ডে। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে হেরে আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করা হংকংয়ের জন্য এই ম্যাচ কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

    লঙ্কানদের প্রধান লক্ষ্য আজ বড় জয় তুলে নিয়ে নেট রান রেট আরও শক্তিশালী করা। কারণ এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৩২ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছিল তারা, যা তাদের অবস্থানকে করেছে সুবিধাজনক। ম্যাচ শেষে লঙ্কান অধিনায়ক জানিয়েছিলেন, নেট রানরেট নিয়েও তারা কৌশল সাজাচ্ছেন। তাই আজ হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয়ের চেষ্টা থাকবে স্পষ্ট।

    হংকং একাদশ: জিশান আলি, আনশি রাঠ, বাবর হায়াত, নিজাকাত খান, শাহিদ ওয়াসিফ, কিনচিত শাহ, ইয়াসিম মুর্তজা (অধিনায়ক), আইজাজ খান, এহসান খান, আয়ুষ শুক্লা ও আতিক ইকবাল।

    শ্রীলঙ্কা একাদশ: পাথুম নিশাঙ্কা, কুশাল মেন্ডিস, কামিল মিশারা, কুশাল পেরেরা, দাসুন শানাকা, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), কামিন্দু মেন্ডিস, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুশমন্থ চামিরা, মাহিশ থিকশানা ও নুয়ান থুসারা।

  • এশিয়া কাপ অভিযানে টাইগাররা: রোববার উড়াল, প্রথম ম্যাচ হংকংয়ের বিপক্ষে

    এশিয়া কাপ অভিযানে টাইগাররা: রোববার উড়াল, প্রথম ম্যাচ হংকংয়ের বিপক্ষে

    এবিএনএ: সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেটের জমজমাট আসর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টের, আর বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে।

    রোববার সকালেই দু’দফায় দেশ ছাড়বেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। বিসিবির দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রথম গ্রুপ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় গ্রুপ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উড়াল দেবে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছে শুরু হবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং নিবিড় অনুশীলন।

    এবারের আসরের আয়োজক ভারত হলেও পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায় নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এখন সব ঝামেলা কেটে গেছে।

    তবে বাংলাদেশের জন্য এবারের পথ সহজ নয়। লিটন দাসের নেতৃত্বে টানা তিনটি সিরিজ জেতা দলকে এবার গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি হতে হবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর। সুপার ফোরে জায়গা করে নিতে হলে এই দুই দলের অন্তত একটি দলকে বিদায় করতে হবে টাইগারদের।

    টাইগার সমর্থকরা আশা করছেন, সাম্প্রতিক ফর্ম ধরে রেখে বাংলাদেশ দল এশিয়া কাপে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

  • এশিয়া কাপে মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ: আত্মবিশ্বাসী তাসকিন

    এশিয়া কাপে মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ: আত্মবিশ্বাসী তাসকিন

    এবিএনএ:  আসন্ন এশিয়া কাপকে সামনে রেখে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। তার বিশ্বাস, এবারের টুর্নামেন্টে শুধু অংশগ্রহণ নয়, বরং চূড়ান্ত লক্ষ্য শিরোপা জয়।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপ। এই আসরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—যাদের মধ্যে আফগানিস্তান সম্প্রতি নিজেদের এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে দাবি করেছে। তবে তাসকিন মনে করেন, অতীতে ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় বাংলাদেশকেই ভয় করবে প্রতিপক্ষরা।

    তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। শুধু খেলতে নয়, জিততেই মাঠে নামব। সাম্প্রতিক তিনটি সিরিজ জেতায় দল আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগের মতো আর দুর্বল নই, এখন উন্নতির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট।”

    তাসকিন আরও যোগ করেন, ক্রিকেট কঠিন খেলা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে উন্নতি করতে হয়। ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও দলের সেলফ ম্যানেজমেন্টের দিকেও সবাই এখন মনোযোগী। এর ফলেই ভুলের সংখ্যা কমছে এবং পারফরম্যান্সে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ অতীতে দু’বার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। এবার সেটি সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তাসকিন। তার ভাষায়, “টি-২০ ফরম্যাট অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে আমরা যে ফাইনাল খেলেছি, সেটাই প্রমাণ করে সম্ভাবনা আছে। এবার ইনশাআল্লাহ শিরোপা জিতব।”

    বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১১ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্ব শেষে চার দল সুপার ফোরে জায়গা পাবে, সেখান থেকে সেরা দুই দল খেলবে ফাইনাল।

  • চীনের কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল, চ্যালেঞ্জের মুখে এএফসি বাছাই

    চীনের কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল, চ্যালেঞ্জের মুখে এএফসি বাছাই

    এবিএনএ:  ২০২৫ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়েছে বাংলাদেশের কিশোররা। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ড্র অনুযায়ী, ‘এ’ গ্রুপে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে স্বাগতিক চীন, বাহরাইন, তিমুর লেস্তে, ব্রুনাই ও শ্রীলঙ্কা।

    মোট ৩৮টি দল এবার বাছাইয়ে অংশ নিচ্ছে, যারা সাতটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন দলই পাবে ২০২৬ সালের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ, যা অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরবে।

    বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি চলছে যশোরে শামসুল হুদা একাডেমিতে, যেখানে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে অনুশীলন করছে দলটি। বর্তমানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে চলছে প্রস্তুতি। সেখান থেকে সরাসরি দল অংশ নেবে ২২ থেকে ৩০ নভেম্বর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি বাছাইয়ে।

    নারী ফুটবলেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দল পেয়েছে চ্যালেঞ্জিং গ্রুপ। ‘এইচ’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জর্ডান। এই বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর, আটটি দেশের আটটি ভেন্যুতে। এখানেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরাই জায়গা করে নেবে চীনে অনুষ্ঠিতব্য মূল পর্বে, যা নির্ধারিত ৩০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত।

    এদিকে, চলতি বছর মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপে এশিয়া অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে চীন, জাপান, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশ এইবার মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি, যদিও আগের দুটি আসরে অংশ নিয়েছিল।

    নারী ফুটবলে সম্প্রতি চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। লাওসে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি বাছাইয়ে স্বাগতিকদের ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। এর আগে ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও শিরোপা জিতেছিল মেয়েরা।

  • ফাইনালমুখী ম্যাচে আগে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নতুন মুখ শেখ মেহেদী ও তানজিম

    ফাইনালমুখী ম্যাচে আগে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নতুন মুখ শেখ মেহেদী ও তানজিম

    এবিএনএ: টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করে টাইগাররা। ডাম্বুলায় ৮৩ রানের বড় জয় এনে শ্রীলঙ্কাকে সমতায় ফেলে সিরিজকে করে তোলে ১-১। আজ সেই সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক প্রকার ফাইনালে। এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে টস ভাগ্যে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

    লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, আগে ফিল্ডিং করতে নামছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।

    এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে এসেছে দুইটি পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাদের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ও তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব।

    📋 বাংলাদেশ একাদশ:
    লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলি, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব।

    দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ জয়ের পরও একাদশে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, যা ম্যাচ পরিকল্পনার কৌশলগত অংশ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

    এখন দেখার বিষয়, সিরিজের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিল্ডিং দিয়ে শুরু করে কতটা সফলতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।


    এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করবে সিরিজ জয়ী দল—তাই আজকের মাঠের প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুই দলের জন্য।

  • লঙ্কানদের ধ্বংস করে দুর্দান্ত জয়, সমতায় ফিরল বাংলাদেশ টি-২০ সিরিজে!

    লঙ্কানদের ধ্বংস করে দুর্দান্ত জয়, সমতায় ফিরল বাংলাদেশ টি-২০ সিরিজে!

    এবিএনএ: ডাম্বুলার রাঙগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে একেবারে গুড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা ভুলে লঙ্কানদের ৯৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে সফরকারীরা।

    টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা হতাশাজনক হলেও, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল। উদ্বোধনী দুই ব্যাটার পারভেজ ইমন (০) ও তানজিদ তামিম (৫) দ্রুত আউট হলেও, তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন লিটন-হৃদয়। হৃদয় ২৫ বলে করেন ৩১ রান, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা।

    অফ ফর্ম কাটিয়ে ফিরে আসা লিটন দাস তুলে নেন ঝকঝকে এক অর্ধশতক। তার ৫০ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও একটি চার। অপরদিকে শামীম হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৪৮ রান, যার মধ্যে পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চার ছিল। এই দুই ইনিংসেই বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ, স্কোর দাঁড়ায় ১৭৮ রান।

    লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৩০ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারায় দলটি। ওপেনার কুশল মেন্ডিস (৮) রানআউট হন। কুশল পেরেরা (০), আভিস্কা ফার্নান্দো (২) ও আশালঙ্কা (৫) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন।

    তবুও একমাত্র ওপেনার নিশাঙ্কা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে তিনিও ফেরেন ২৯ বলে ৩২ রান করে। এরপর দাশুন শানাকার ২০ রানের ইনিংসটি ছিল লঙ্কানদের শেষ প্রতিরোধ।

    বাংলাদেশি বোলারদের দাপটে শতরানও ছুঁতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। শরিফুল ইসলাম মাত্র ১২ রান খরচায় দুই উইকেট নেন, রিশাদ হোসেন ৩.২ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট, সাইফউদ্দিন ২১ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। মুস্তাফিজ ও মেহেদী হাসান মিরাজও একটি করে উইকেট দখল করেন।

    তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই, একই ভেন্যুতে।

  • গল টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের দাপ্যতা, লিড ছাড়াল ১৮০ রান

    গল টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের দাপ্যতা, লিড ছাড়াল ১৮০ রান

    এবিএনএ: গল টেস্টের চতুর্থ দিনটি ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। শ্রীলঙ্কার তৃতীয় দিনের দাপট ম্লান করে দিয়ে টাইগাররা দিনের শুরু থেকেই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও দৃঢ়তা দেখিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

    চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৭৭ রান, ফলে টাইগারদের মোট লিড এখন দাঁড়িয়েছে ১৮৭ রানে।

    এর আগে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করলেও নাঈম হাসানের স্পিন জাদুতে আর ১১৭ রানই যোগ করতে পেরেছে দলটি। ইনিংস থামে ৪৮৫ রানে। নাঈম একাই তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট, তার সঙ্গে হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও মুমিনুল হক ভাগাভাগি করেন একটি করে উইকেট।

    শ্রীলঙ্কার ইনিংসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কার ১৮৭ রানের ইনিংস। এছাড়া কামিন্দু মেন্ডিস করেন ৮৭ এবং দিনেশ চান্দিমাল ৫৪ রান। বাকিরা ব্যর্থ হন।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হলেও এনামুল হক বিজয় ৪ রানে কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এরপর মুমিনুল হক থিতু হলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি—১৪ রানে থারিন্দু রত্নায়েকের বলে ধরা পড়েন ফিল্ডারে।

    চা-বিরতির সময় স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৬৫। এরপর মাঠে নেমে সাদমান ইসলাম দারুণ ব্যাটিং করে পৌঁছান নিজের ষষ্ঠ ফিফটিতে, শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ৭৬ রানে।

    দিনের শেষ দিকে ব্যাটিং চালিয়ে যান প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান শান্ত ও মুশফিক। শান্ত ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে পৌঁছেছেন তার ফিফটিতে, মুশফিক রয়েছেন ২২ রানে অপরাজিত।

    চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ম্যাচের লাগাম এখনো বাংলাদেশের হাতে, পঞ্চম দিনেও ফলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।