Tag: শি জিনপিং

  • শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরের প্রথম পূর্ণ দিবসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সারাদিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বৈঠককে শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এটিকে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে তাদের স্বাগত জানাতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।

    রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন ও চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বহু বছরের বন্ধন ও সহযোগিতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, উন্নয়ন এবং সফলতার মতো অনেক অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। তার ভাষায়, “দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্ব নতুন এক রূপ পেতে পারে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    উল্লেখ্য, গত নয় বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • পশ্চিমা শক্তিকে চাপে রাখতে চীন-রাশিয়ার নতুন জোট: ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে গভীর হচ্ছে কৌশলগত বন্ধুত্ব

    পশ্চিমা শক্তিকে চাপে রাখতে চীন-রাশিয়ার নতুন জোট: ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে গভীর হচ্ছে কৌশলগত বন্ধুত্ব

    এবিএনএ: ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য নতুন মোড় নিয়েছে। পশ্চিমা জোটকে চাপে রাখতে এবার আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে চীন ও রাশিয়া। সামরিক, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন রাশিয়ার পরাজয় চায় না; বরং এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করে পশ্চিমা শক্তিকে দুর্বল করতেই দুই পরাশক্তি একাট্টা হচ্ছে।

    চীন নানাভাবে রাশিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে—স্যাটেলাইট ডেটা সরবরাহ থেকে শুরু করে যুদ্ধাস্ত্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা পর্যন্ত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, বেইজিং মস্কোর সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ চেইনকে সচল রেখেছে এবং ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।

    ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, রাশিয়া ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সময় চীনের ইয়াওগান-৩৩ সিরিজের অন্তত তিনটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পশ্চিম ইউক্রেনের আকাশে ঘুরতে দেখা গেছে। এটি দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে দাবি করা হচ্ছে।

    রাশিয়ার অস্ত্র কারখানায় চীনা প্রযুক্তি

    রাশিয়ার প্রায় ২০টি সামরিক কারখানায় চীনের তৈরি মেশিন টুলস, বিশেষ রাসায়নিক, বারুদ ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যবহৃত ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চীনা কারখানা থেকে। চীনের সহযোগিতায় রাশিয়া এখন নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন তৈরি করছে, যা ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলার কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক নির্ভরতা বাড়ছে

    চীন-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কও নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে—যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে চীনের অংশীদারিত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এখন রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ লেনদেন হচ্ছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে, যা ২০২২ সালে ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

    রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা

    ২০১২ সাল থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্তত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন। নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি মস্কো সফরে পুতিন-শি বৈঠক দুই দেশের সীমাহীন অংশীদারত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

    বিশ্লেষক বিল কোল বলেন, “চীন-রাশিয়া কেবল প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে না, বরং আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করছে।” তাঁর মতে, পশ্চিমা দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই কৌশলগত জোটের মোকাবিলা না করলে, ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলো আরও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

  • পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

    চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এই তিন নেতা একসাথে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে চীন তাদের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে—যার মধ্যে ছিল লেজার প্রযুক্তি, যা প্রতিপক্ষের বিদ্যুৎ লাইন বিকল করতে সক্ষম। এছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত সাবমেরিন ও মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়।

    কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করে শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এখনো শান্তি নাকি যুদ্ধের বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, “চীন অপ্রতিরোধ্য।” এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে শি-র পাশে ছিলেন পুতিন ও কিম।

    ট্রাম্প পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে লেখেন, “আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।” যদিও বার্তার শেষে তিনি চীনের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, “এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। শি, পুতিন ও কিম—কোনও নেতার মধ্যেই এমন ভাবনা ছিল না।”

  • এসসিও সম্মেলনে করমর্দন ও হাসিতে শি–পুতিন–মোদির শক্ত বার্তা

    এসসিও সম্মেলনে করমর্দন ও হাসিতে শি–পুতিন–মোদির শক্ত বার্তা

    এবিএনএ:  বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের সময়েই এক ভিন্ন দৃশ্য উপহার দিল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলন। চীনের তিয়ানজিনে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে ক্যামেরাবন্দি হলো তিন প্রভাবশালী নেতার করমর্দন ও হাসিমুখ—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন পুতিন ও মোদি। দু’জন একসঙ্গে হাত ধরে ঢুকেই এগিয়ে যান শি জিনপিংয়ের দিকে। মুহূর্তেই তৈরি হয় এক আন্তরিক পরিবেশ। তিন নেতা করমর্দন করেন, হাসিমুখে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। অনুবাদকসহ ঘিরে থাকা কর্মকর্তাদের মাঝেও তাদের উষ্ণ সম্পর্ক চোখে পড়ে। আলোচনার এক পর্যায়ে পুতিন হেসে ওঠেন, আর মোদিও অট্টহাসিতে সাড়া দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি একটি ভিডিও প্রচার করেছে যেখানে দেখা যায়, পুতিন ও মোদি যখন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। টিভি সম্প্রচারে তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেও দেখানো হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দৃশ্য নিছক সৌজন্য নয়, বরং তা বহন করছে বড় রাজনৈতিক বার্তা। শি-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্ব রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো এক নতুন জোটের। আর মোদির উপস্থিতি দেখিয়েছে, ভারতও এই ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চায়।

    ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউশনের ইন্দো-প্যাসিফিক স্টাডিজের প্রধান মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, “কোনো সম্মেলনের ভেতরের ছোট ছোট দৃশ্য কখনো কখনো বড় বার্তা দেয়। এবারও তাই হয়েছে। হোয়াইট হাউসকে বুঝতে হবে তাদের নীতিই অন্য দেশগুলোকে বিকল্প মঞ্চে ঠেলে দিচ্ছে।”

    এ সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশ অংশ নিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা বাণিজ্য যুদ্ধই আজ একাধিক দেশকে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে এবং চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।

  • সাত বছর পর চীন সফরে নরেন্দ্র মোদি, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

    সাত বছর পর চীন সফরে নরেন্দ্র মোদি, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

    এবিএনএ:  দীর্ঘ সাত বছর পর চীন সফরে পা রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাপান সফর শেষ করে শনিবার তিনি বেইজিং পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।

    এটি মোদির ২০১৮ সালের পর প্রথম চীন সফর। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সম্মেলন উপলক্ষে মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এর আগে জাপান সফরে মোদি টোকিওতে বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক করেন। বাণিজ্য, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, টোকিও থেকে সরাসরি বেইজিং সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

    চীন দীর্ঘদিন ধরেই এসসিওকে পশ্চিমা প্রভাবের বিকল্প একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। ভারত সেখানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে চাইছে। ফলে মোদির এই সফর দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

  • শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা, অনুপস্থিত পশ্চিমা দেশগুলো

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। দীর্ঘ ছয় বছর পর তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন এবং এটি হবে ২০১৯ সালের পর তার প্রথম চীন সফর। সফরের অংশ হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতা এতে অংশ নিচ্ছেন না।

    কিম জং উন ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তার প্রথম অংশগ্রহণ। যদিও কতদিন তিনি চীনে থাকবেন বা শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—তা নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

    চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ কুচকাওয়াজে ইরান, সার্বিয়া, বেলারুশ, কিউবা, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার নেতারাও যোগ দেবেন। সেখানে চীনের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাষণ দেবেন।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকছে। তবে উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সহায়তা এখনো অপরিহার্য, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কিমের এ সফরের মাধ্যমে শুধু চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অতীতে কিমের কয়েক দফা বৈঠক হলেও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছিল। এখন নতুন উদ্যোগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

  • মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    মস্কো ও বেইজিংয়ে বোমা ফেলার হুমকি! ট্রাম্পের বিস্ফোরক অডিও ফাঁস

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য! এবার প্রকাশ্যে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গোপন অডিও, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও চীনকে সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ট্রাম্প গত বছর তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এই কথাগুলো বলেছিলেন। সিএনএনের হাতে এসেছে সেই বৈঠকের রেকর্ড করা অডিও, যা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অডিওতে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে মস্কোয় বোমা ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও হুঁশিয়ারি দেন যে, তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে বেইজিংও সেই একই পরিণতির শিকার হবে।

    এদিকে, এই অডিও ফাঁসের পরই রাশিয়া ফের এক ভয়াবহ হামলা চালায় ইউক্রেনের ওপর। দেশটির বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনের আকাশে রেকর্ড সংখ্যক ৭২৮টি ড্রোন১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। যদিও কিয়েভ দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও রাশিয়া তা এখনো গ্রহণ করেনি।

    এদিকে, কিছুদিন আগে পেন্টাগনের ইউক্রেন সহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও ট্রাম্প পুনরায় তা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে যাতে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

    এই অডিও ফাঁস এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়ও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।