Tag: শিশুমৃত্যু

  • হাম ভয়াবহ রূপে, দেড় মাসে প্রাণ গেল ৪৩২ শিশুর

    হাম ভয়াবহ রূপে, দেড় মাসে প্রাণ গেল ৪৩২ শিশুর

    এবিএনএ: সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৭ জন। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে।

    বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাসে সারা দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৩ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৯ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৫০ জনে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৫৩ হাজার ৫৬ জন।

    স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ রোধে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে জ্বর, র‍্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    দেশজুড়ে হামের আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হাজারের বেশি

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১২৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক হিসেবে আরও ১৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন এবং উপসর্গসহ সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত রোগী ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী—উভয় সংখ্যাই বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে মৃত্যুর ঘটনাও বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়লেও বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, র‍্যাশ বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    হামে মৃত্যুর ছায়া শিশু হাসপাতালে: যমজের একজন নিথর, অন্যজন আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ: রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ছয় মাস বয়সী যমজ কন্যা—রিসা ও রুহি। কয়েকদিন আগেও তাদের হাসিতে মুখর ছিল পরিবার। কিন্তু হামে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় রিসা। একই রোগে আক্রান্ত তার যমজ বোন রুহি এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

    হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মা কনিকা বেগমের কোলে নিথর এক সন্তান, আর সামনে আইসিইউতে লড়ছে অন্যজন। অসহায় এই মুহূর্তে তিনি বাকরুদ্ধ। স্বজনদের চোখে জল না থাকলেও মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট শোকের গভীরতা।

    শিশুদের মামা তানভীর হোসেন জানান, জন্মের পর থেকেই দুই বোনই ছিল প্রাণবন্ত। তাদের বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব চেষ্টা করা হয়েছে। একজনকে হারানোর পর এখন অন্যজনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গাজীপুর থেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় আনা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরের পর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রিসাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

    চিকিৎসকদের মতে, হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। একই উপসর্গ নিয়ে রুহিকেও আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১০ মাসের কম। চিকিৎসকদের ভাষায়, তাদের বেশিরভাগই সংকটাপন্ন।

    হাসপাতালের আইসিইউর সামনে উদ্বিগ্ন অপেক্ষায় ছিলেন আরেক শিশুর স্বজন নুরুল হক। তার ১০ মাস বয়সী নাতনি জোবায়দা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। সাত দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। নাতনির অবস্থা জানতে বারবার আইসিইউতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও অনুমতি না পেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তিনি।

    অন্যদিকে, মিরপুর-১০ এলাকা থেকে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মুন্নি বেগম। হাম ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকায় জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন তারা। সন্তানের জীবন বাঁচাতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৬১ শিশু বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। গতকাল দুপুরে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে আইসিইউতে। আজ সকাল পর্যন্ত মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। ৫ এপ্রিল যেখানে ৩৯২ শিশুর মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছিল, তা পরদিন বেড়ে হয় ৪৭০ জন। সর্বশেষ সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। একই সময়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের।

  • ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু: হামের উপসর্গে দেশজুড়ে আতঙ্ক, দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু: হামের উপসর্গে দেশজুড়ে আতঙ্ক, দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এখন পর্যন্ত ৯ জন শিশুর মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ হাজার ৭৯২ শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৭৭১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

    একই সময়ে ৭১১ শিশুর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিক নির্দেশ করে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

    সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৪৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ১৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

    বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগে ৮ জন, খুলনা ও সিলেটে ৫ জন করে, চট্টগ্রামে ৪ জন এবং বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

    হামের লক্ষণ ও সতর্কতা:
    চিকিৎসকদের মতে, হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। শুরুতে সর্দি, কাশি, জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপ্লিক স্পট) দেখা দেয়।

    পরবর্তীতে ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা প্রথমে মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই র‍্যাশ সাধারণত কয়েকদিন স্থায়ী হয় এবং পরে মিলিয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।