Tag: শিক্ষা

  • “দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে”—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    “দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদেরই এগিয়ে আসতে হবে”—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    প্রতিবেদক: দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এ জন্য তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

    মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের নানা উদ্যোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ অনেক পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখতে চায়। তবে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। অস্থিরতা থাকলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, শুধু রাজপথের আন্দোলন বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দিয়ে দেশ গঠন সম্ভব নয়। সংসদীয় রাজনীতি, আলোচনা ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

    ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত আরও একটি বিদেশি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এতে আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে বাংলাদেশি তরুণদের সুযোগ আরও বাড়বে।

    সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া কোনো জাতির পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। সরকার শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে। এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগলেও আগামী এক দশকে এর ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মতবিনিময় সভায় একপর্যায়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য।

    এসময় তিনি অতীত সরকারের সময়ে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সামনে আলোচনা করেন।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মৌলিক সুবিধা দেশের সব অঞ্চলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

    মৌলিক সুবিধা দেশের সব অঞ্চলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা ধাপে ধাপে দেশের সব অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে রাজধানীমুখী হচ্ছে, এই প্রবণতা কমাতে বিকেন্দ্রীকরণই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দন আহমদ।

    কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপ দিতে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। তিনি বলেন, ঢাকার নাগরিক সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং মানুষের ঢাকামুখী প্রবণতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাকেন্দ্রিকভাবে গড়ে উঠেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ কাজ, পড়াশোনা ও চিকিৎসার প্রয়োজনেই রাজধানীতে চলে আসে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনে সময়সাপেক্ষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সরকারপ্রধান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পায়ন বাড়াতে বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কাজও ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, এসব সুযোগ-সুবিধা যদি আঞ্চলিকভাবে গড়ে ওঠে, তাহলে মানুষের ঢাকায় আসার প্রয়োজন কমে যাবে। এর ফলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নও ভারসাম্যপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এবিএনএ: আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে তীব্র গরমের সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় বসছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উদ্বেগে রয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার সময়েই বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, পুনরাবৃত্তি কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম নগরীর এক শিক্ষার্থী নাছরিন জানায়, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও কাজ করে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানায় আনোয়ারা উপজেলার আরেক পরীক্ষার্থী রিজভী। তার ভাষ্য, রাতের দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

    অভিভাবকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে লোডশেডিং চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এসব কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে সাময়িকভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: শূন্যপদ পূরণে ৫ লাখ সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় বড় পরিকল্পনা

    সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা: শূন্যপদ পূরণে ৫ লাখ সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় বড় পরিকল্পনা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে বড় আকারের নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

    এই কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শূন্যপদ পূরণে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোতে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই

    শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হবে।

    এর ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী সহজে ব্যবহার করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইউনিয়ন ও উপজেলায় খেলার মাঠ

    তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। শহর ও গ্রামে মাঠ নির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি কাজ করছে বলে সংসদে জানান সরকার প্রধান।

    বিদেশে পড়তে শিক্ষাঋণের সীমা বাড়ল

    বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ভিসা পাওয়ার আগেই যোগ্যতার প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে এই ঋণ পাওয়া সহজ হবে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাবে।

    বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রমসহ শিক্ষা ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বিএনপির এবারের ইশতেহার মূলত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও পূর্বঘোষিত ‘২৭ দফা’র সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেজ দেওয়া হবে। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাই এর মূল লক্ষ্য।

    কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘কৃষি কার্ড’। এর মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্র ন্যায্যমূল্যে পাবেন। পাশাপাশি কৃষি বীমা, সহজ শর্তে ঋণ, সেচ সুবিধা এবং মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান ইস্যুতে বিএনপি দিয়েছে বড় প্রতিশ্রুতি। দলটির লক্ষ্য আগামী ১৮ মাসে সরকারি-বেসরকারি ও পিপিপি উদ্যোগে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এজন্য মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই নারী। শিক্ষা খাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

    ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ক্রীড়া খাতে প্রতিটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ এবং দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী দুদক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের অঙ্গীকারও রয়েছে ইশতেহারে।

    বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, এই ইশতেহার কোনো কাগুজে স্বপ্ন নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবন বদলের বাস্তব পরিকল্পনা।

  • বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রামে গ্রামেই কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে : আমীর খসরু

    বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রামে গ্রামেই কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে : আমীর খসরু

    এবিএনএ:  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজধানী বা বড় শহরে কাজের খোঁজে মানুষকে আর ছুটে আসতে হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রামীণ অর্থনীতি হবে কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিজ গ্রামেই কাজের সুযোগ পাবেন।

    সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)–এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘দক্ষ জনশক্তি: দেশ গঠনের মূল ভিত্তি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমীর খসরু বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম এক বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। আমাদের লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ গড়া— যেখানে জনসংখ্যা হবে জনসম্পদ।”

    তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আইটি, কলসেন্টার, নার্সিং ও আধুনিক কুটির শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং তাদের তৈরি পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা হবে।

    সরকারি দপ্তরে হয়রানি ও দুর্নীতি কমাতে ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটানো হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “জনগণের সময় ও অর্থের অপচয় বন্ধ করাই হবে আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।”

    বিএনপি নেতা আরও বলেন, ঢাকায় বসে নয়, জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এছাড়া ক্ষমতায় এলে কোনো মেগাপ্রকল্প নেওয়া হবে না, বরং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু ও ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষণা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষণা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ

    এবিএনএ:  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে তিনি বলেন, “জনগণ যদি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষার জন্য আলাদা পদ সৃষ্টি করব এবং সেখানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করব।”

    তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান—তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংখ্যা নির্ধারণের সময় শিক্ষার্থীর অনুপাতের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ করতে হলে তা আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। কাউকে বঞ্চিত করা নয়, বরং সমতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। তার মতে, “জাতির নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তবেই একটি শক্তিশালী নৈতিক ভিত্তির ওপর জাতি গড়ে উঠবে।”

    সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবং অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    অন্যদিকে, একই দিনে নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “একটি দল শেখ হাসিনার মতোই মিথ্যাচার ও ভণ্ডামির রাজনীতি করছে। জনগণ এসব প্রহসন বুঝে ফেলেছে।”

    রিজভী আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকার দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে এবং এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের সহযোগিতায় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

  • কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ খরা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব এ পরিস্থিতিকে মহামারীর মতো ছড়িয়ে দিয়েছে।

    শনিবার আয়োজিত এক অনলাইন সংলাপে তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিখন উভয় ক্ষেত্রেই দেশ পিছিয়ে পড়েছে, ফলে তরুণরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।

    পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। কভিড-১৯, রাজনৈতিক স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৫১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগী রয়েছেন, ৪০ শতাংশ মানুষ ক্রমাগত ঋণের বোঝা বইছেন।

    গবেষণায় আরও বলা হয়, ১২ শতাংশ দরিদ্র পরিবার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ৩৬ শতাংশ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারছে না। কর্মসংস্থান বিবেচনায় ৩৮ শতাংশ মানুষ বেকার এবং ৪৫ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

    অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, দারিদ্র্যের হার সবসময়ই বেশি ছিল, কিন্তু কোনো সরকারই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই অন্তত ১৮-২৪ মাসের একটি শক্তিশালী কর্মসূচি নিতে হবে।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তথাকথিত ‘চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি’। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে আটকে আছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ জিডিপির ১ শতাংশেরও নিচে। এ হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অসম্ভব।

    এছাড়া ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন সতর্ক করেন, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বিশেষত শহরাঞ্চলে কমছে, যা শ্রমবাজারের জন্য উদ্বেগজনক।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

    সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • চবির সমাবর্তনে ড. ইউনূসের আহ্বান: “নতুন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখো শিক্ষার্থীরা”

    চবির সমাবর্তনে ড. ইউনূসের আহ্বান: “নতুন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখো শিক্ষার্থীরা”

    এবিএনএ:  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বৃহত্তম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের নতুন সমাজ অর্থনীতির স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কল্পনা করতে পারি এমন এক পৃথিবী, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার বাইরে গড়ে উঠবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের সমাজ কেমন দেখতে চায়, সেই স্বপ্নকে মনে গেঁথে রাখা এবং তা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া।”

    ড. ইউনূস বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আখ্যা দেন ‘ধ্বংসাত্মক অর্থনীতি’ হিসেবে। তার ভাষায়, “বর্তমানে যে অর্থনীতি চলছে, তা মানুষের জন্য নয়, বরং ব্যবসা মুনাফার জন্য তৈরি।” তিনি সতর্ক করেন, এই ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা টিকে থাকবে না, কারণ এর ভিত্তিই আত্মঘাতী।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের অতীতের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে আমি চবিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। এখানেই জন্ম হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংকের।”

    তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় চবির অর্থনীতি বিভাগ থেকেই জন্ম নেয় বিশ্ববিখ্যাত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ব্যাংক’। সময় তিনি জানান, “চবির ক্লাসরুমেই প্রথম আমরা ভাবি কীভাবে মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যায়।”

    সমাবর্তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি লিট) উপাধিতে ভূষিত করে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার তাঁর হাতে এই সনদ তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম ফয়েজ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং প্রশাসনের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মো. কামাল উদ্দিন।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবর্তনের আয়োজন করে, যেখানে ২২,৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয়।

    এই ঐতিহাসিক আয়োজন ড. ইউনূসের অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবতে উৎসাহ জোগাবে — এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষাঙ্গনের।