Tag: শিক্ষা সংস্কার

  • ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিই একমাত্র ভরসা’—দলীয় পরিকল্পনা সভায় তারেক রহমানের দাবি

    ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিই একমাত্র ভরসা’—দলীয় পরিকল্পনা সভায় তারেক রহমানের দাবি

    এবিএনএ: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব বিএনপিই সবচেয়ে দক্ষভাবে পালন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক চলমান কর্মসূচির তৃতীয় দিনের বৈঠকে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এ মতামত প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান বলেন—জনগণ এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা শুনতে চায় না; তারা জানতে চায় কারা দেশ চালানোর মতো সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তাব করতে পারে। বিএনপিই একমাত্র দল, যারা উন্নয়ন, সমাজসংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা ও প্রশাসন—প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের আস্থা না পেলে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিভাজন ও দলীয় সংকীর্ণতা দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়া সম্ভব।

    বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন কিছু উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে দেওয়া হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরকারি সেবা সরাসরি পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, বিচার হবে আইন অনুযায়ী, কোনো দলীয় হস্তক্ষেপ নয়।

    দুর্নীতি দমনেও বিএনপির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাবলম্বী পরিবার গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি। স্কুল পর্যায়ে ইংরেজির পাশাপাশি আরও একটি বিদেশি ভাষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানে দক্ষ হতে পারে। পাশাপাশি ভোকেশনাল শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রায় তিন লাখ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের যথোপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে।

  • ‘একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে’— মন্তব্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের

    ‘একটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে’— মন্তব্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, একটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর আয়োজনে “চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের যে স্রোত তৈরি হয়েছে, সেটি দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছে দিতে হবে। এখন সময় এসেছে মানসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমাদের দেশে এমন একটি দল আছে যারা জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পথ খুঁজছে। তাদের কিছু শর্ত ও দাবি রয়েছে, তবে আমি আশাবাদী— আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসবে। জুলাই সনদকে আইনি কাঠামো দিতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এটি বাতিলের দাবি তুলতে না পারে।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পরিবর্তনের মূল শিক্ষা হলো জ্ঞান, মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও গবেষণামুখী করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য শিক্ষকদের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    বিএনপি নেতা আরও যোগ করেন, “কর্মসংস্থান শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং তরুণদের আত্মনির্ভর হতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণ যেভাবে পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, সেই স্পৃহা বজায় রাখতে হবে।”

    ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও বিএনপি নেতা ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর প্রমুখ।

    সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন সংস্কারের প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সময়োপযোগী কারিকুলাম ও কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।