Tag: শিক্ষার্থী আহত

  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আইসিইউতে দুই শিক্ষার্থী, আহত শতাধিক

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আইসিইউতে দুই শিক্ষার্থী, আহত শতাধিক

    এবিএনএ:  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন আইসিইউতে ভর্তি এবং আরও একজন নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন বলে জানা গেছে।

    চবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বর্তমানে নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। অপর একজন শিক্ষার্থী পার্ক ভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন, যদিও তার নাম জানা যায়নি। এছাড়া পলাশ নামে এক ছাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের অধিকাংশই গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় এসেছেন। কারো মাথায় আঘাত, কারো চোখে গুরুতর চোট, আবার অনেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত চমেক হাসপাতালে ১১০ জন এবং ন্যাশনাল ও পার্ক ভিউ হাসপাতালে আরও ২৫ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু চমেকেই ২২ জন ভর্তি রয়েছেন।

    চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বী বলেন, “অনেকের মাথা ফেটে গেছে, কারও হাত ভেঙেছে। সারাদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। তবে ২-৩ জন ছাড়া বাকিরা আশঙ্কামুক্ত।”

    সংঘর্ষের এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার পর বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা, কিন্তু খোঁজ নেয়নি সরকার

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও, অধিকাংশ হাসপাতাল জানিয়েছে—এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি।

    দুর্ঘটনার পর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে উত্তরা অঞ্চলের চারটি বেসরকারি হাসপাতালে ১৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ বলছেন—সরকারি নির্দেশনার আগে থেকেই তারা বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।

    উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বজলুর রহমান আদিল বলেন, “বার্ন রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু—স্যালাইন, ড্রেসিং সেট, ক্রিম—আমরা বিনামূল্যে দিয়েছি। পরে সরকারের নির্দেশনা দেখেছি, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের উপস্থিতি থাকলে দুর্ঘটনার সময় আরও ভালো সমন্বয় হতো। যদিও অনেক বেসরকারি সংস্থা সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।”

    বুধবার সরেজমিনে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, লুবানা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট ও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়—বিমান দুর্ঘটনার রোগীদের বেশিরভাগই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

    হাসপাতালগুলোর চিত্র:

    • উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ:
      ১০০ জন চিকিৎসা নেন, গুরুতর আহত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়, রাতেই অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

    • লুবানা জেনারেল হাসপাতাল:
      ২৭ জন এসেছিলেন, ১৪ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, একজনের মৃত্যু হয়।

    • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল:
      দগ্ধ ১২ শিক্ষার্থী এসেছিল, ৫ জন পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ:
      ১৩ জন এসেছিলেন, ভর্তি ছিলেন ৫ জন। একজন বাসচালক আইসিইউতে ছিলেন, পরে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যে:
    মাইলস্টোন স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমান জানান, “চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা লাগেনি, কিন্তু এখনো কেউ খোঁজ নেয়নি।”

    লুবানা হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা মিরাজুন নাবী বলেন, “তিন দিনেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কেউ যোগাযোগ করেনি।”

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান:
    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “দুর্ঘটনার দিনই সব হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ পাঠানো হয়।” তবে কেন পরে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।