Tag: শাহবাগ আন্দোলন

  • খুনিদের ধরতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল ইনকিলাব মঞ্চ, শাহবাগে আবারও কর্মসূচি

    খুনিদের ধরতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিল ইনকিলাব মঞ্চ, শাহবাগে আবারও কর্মসূচি

    এবিএনএ: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে জনগণের সামনে স্বচ্ছ জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। এর আগে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ঘাতক থেকে শুরু করে পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী—সবার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    তিনি জানান, আগামী রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহকারী উপদেষ্টাকে জনগণের সামনে এসে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে তাদের পদত্যাগ দাবি করা হবে।

    আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়। আমরা কাউকে অন্ধভাবে দোষারোপ করছি না, আবার কাউকে সন্দেহের ঊর্ধ্বেও রাখছি না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির রাজনৈতিক সংগ্রাম কেবল একটি দলের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন মহলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। তাই এই হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    তিনি আরও বলেন, হত্যার ১৭২ ঘণ্টা পার হলেও রাষ্ট্র এখনো জানাতে পারেনি—খুনিরা কোথায়। “ওসমান হাদির রক্তের বিনিময়ে আমরা ঘোষণা করছি—খুনিদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। যারা গণমাধ্যমে বা টকশোতে এই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।”

    নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, নির্বাচন বানচাল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    বিক্ষোভ চলাকালে জনগণকে শান্ত থাকার এবং ভাঙচুরে না জড়ানোর আহ্বান জানান ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা।

    এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও এপিসি। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে মিন্টো রোডমুখী সড়ক সাময়িকভাবে ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে শাহবাগে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৫ প্রার্থী

    ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে শাহবাগে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৫ প্রার্থী

    এবিএনএ:  ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে শাকিল আহমেদ (২৬), আশিকুর রহমান (২৫), শাহিনুর (২৮), আবরার শাহরিয়ার উল্লাস (২৮) ও রিয়াজ (২৭) রয়েছেন। এর মধ্যে শাহিনুরের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।

    ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক জানান, সন্ধ্যার দিকে আহত অবস্থায় পাঁচজন পরীক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়।

    আন্দোলনকারীরা জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করা হয়। কিন্তু শাহবাগে পৌঁছালে পুলিশ পথ আটকায় এবং সামনে অগ্রসর না হতে নিষেধ করে। পরে তারা এগোতে চাইলে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে, এতে অনেকে আহত হন।

    প্রতিবাদকারীদের দাবি, আগের বিসিএস পরীক্ষার্থীরা যেখানে ছয় মাস থেকে এক বছর প্রস্তুতির সুযোগ পেতেন, সেখানে তাদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ দিন। এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক দাবি করে তারা বলেন, “২৭ নভেম্বর পরীক্ষা নেওয়া হলে তা আমাদের সঙ্গে অন্যায় হবে। আমাদের যৌক্তিক সময় দিন।” দাবি আদায় না হলে তারা ব্লকেড ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

    পরীক্ষার্থীরা এর আগে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, অবরোধ ও অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহে রেলপথ অবরোধ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও বন্ধ করা হয়েছিল।

    অন্যদিকে পিএসসি জানায়, লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি গত ৩ জুন প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীরা ছয় মাস প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন, যা পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট। তাই নির্ধারিত তারিখ ২৭ নভেম্বর থেকেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    পিএসসির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • তিন দফা দাবিতে উত্তাল শিক্ষাঙ্গন: বুয়েটসহ সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

    তিন দফা দাবিতে উত্তাল শিক্ষাঙ্গন: বুয়েটসহ সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)সহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন।

    বুয়েটে সাধারণত বৃহস্পতিবার কোনো ক্লাস না থাকলেও বিভিন্ন পরীক্ষার আয়োজন হয়ে থাকে। তবে আজকের কর্মসূচির কারণে সব পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই কয়েকটি বিভাগে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের দেখা মেলেনি।

    শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’ বুধবার রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে দেশব্যাপী শাটডাউনের ঘোষণা দেয়। ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি কার্যকর হয়।

    এর আগে, মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১১টার দিকে তাঁরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় লাঠিচার্জে বহু শিক্ষার্থী আহত হন।

    তবে আহত হয়েও বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেন তাঁরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা সরে গেলেও আন্দোলনের ডাক আরও জোরদার হয়।

    প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ রাতের সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, আজ বিকেল ৫টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কাউন্সিল হলে সভা হবে এবং সেখানেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    এসময় বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ ঘোষণা দেন— দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ চলবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।