Tag: শান্তিচুক্তি

  • পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তীব্রতর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এক টেবিলে বসাতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। আর সেই বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে তিনজনই উপস্থিত থাকবেন।

    ওভাল অফিসে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি কাজ শুরু করেছি। পুতিন ও জেলেনস্কির বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর আমরা তিনজন মিলে বসব।”

    তিনি আরও জানান, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য। ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে শক্তিশালী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেব। শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, এবার সরাসরি শান্তিচুক্তিই হবে লক্ষ্য।”

    এর আগে বৈঠকের মাঝপথে পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন ট্রাম্প। ফোনালাপের পর বৈঠক আবার শুরু হয়। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বের ছয়টি যুদ্ধ থামিয়েছি। তবে এই যুদ্ধ সমাধান সবচেয়ে কঠিন। তবুও আমি আত্মবিশ্বাসী, আমরা পথ খুঁজে বের করব।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ থামাতে আপনার প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে উপস্থিত ছিলেন।

    ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছে আন্তর্জাতিক মহল—আসলেই কি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে?

  • কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    এবিএনএ: 

    কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর নতুন করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত পাকিস্তান। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং সৈন্যরা তাদের পূর্ববর্তী শান্তিকালীন অবস্থানে ফিরে যাবে।

    পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টানা চার দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ৭০ জন। নয়াদিল্লি হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

    এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষিত আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ফলে সীমান্তে ড্রোন, বিমান, কামান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ হয় এবং বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের মধ্যেই সব সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে।”

    ভারতের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানায়, কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘেঁষা অঞ্চলসহ সীমান্ত এলাকার অতিরিক্ত সেনা কমানো নিয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।