Tag: শাটডাউন

  • কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসে ব্যয় বিল পাস না হওয়ায় মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশটিতে সরকারি শাটডাউন শুরু হয়েছে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৭ বছর আগে দেশটি সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউনের মুখোমুখি হয়েছিল, যা টানা ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় প্রতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে। এর আগে কংগ্রেসে বাজেট অনুমোদন না হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ছাড়া অধিকাংশ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শাটডাউন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক কর্মী বেতন পাবেন না। এমনকি ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই এ অচলাবস্থার মূল কারণ। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবি করলেও রিপাবলিকানরা তা প্রত্যাখ্যান করে। সিনেটে ভোটাভুটিতে রিপাবলিকানদের প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট, কিন্তু তারা পেয়েছে মাত্র ৫৫। ফলে ব্যয় বিল পাস হয়নি এবং শাটডাউন কার্যকর হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হতে পারেন। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন, বিল পাস না হলে ডেমোক্র্যাট সমর্থক কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে আমদানি-রপ্তানি থমকে গেল

    চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে আমদানি-রপ্তানি থমকে গেল

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে চলমান কর্মকর্তাদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দর কার্যক্রম। শনিবার সকাল থেকে আমদানি ও রপ্তানির সমস্ত প্রক্রিয়া—শুল্কায়ন, বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া ও পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে আজকের মধ্যে পুরো বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে, কারণ তাদের পণ্য জাহাজীকরণে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি পৃথক বিভাগ—রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি—হিসেবে ভাগ করার সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে গত মাস থেকেই আন্দোলন চলছে। কলম বিরতি, কর্মবিরতি ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির পর আন্দোলনরত কর্মকর্তারা এনবিআর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রহমান খানকে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, এখন পূর্ণ শাটডাউনের মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সবাই নিজ নিজ কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে বন্দরে আসা কন্টেইনারগুলো আটকে যাচ্ছে, বিলম্ব হচ্ছে পণ্য খালাসে। এতে একদিকে যেমন আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে, অন্যদিকে রপ্তানিকারকরাও সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় চুক্তিভঙ্গের আশঙ্কায় রয়েছেন।

    এর আগে কিছুদিন আগেও কলম বিরতির কর্মসূচি চলেছিল, তখন চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হয়েছিল বড় ধরনের কন্টেইনারজট। তখনকার পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এ শাটডাউন আন্দোলন পুরো দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

    🖋 উপসংহার:
    সরকার যদি দ্রুত এনবিআর সংশ্লিষ্ট সংকটের সমাধান না করে, তাহলে দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।