Tag: শহীদ মিনার

  • প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা 

    প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা 

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

    শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে পুলিশের একটি চৌকস দলের সশ্রদ্ধ সালাম প্রদর্শনের পর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন,সাংসদ আবু সুফিয়ান ও মো. এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ট্যুরিস্ট পুলিশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, নৌ পুলিশ, পিবিআইসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

  • স্মৃতির একুশ 

    স্মৃতির একুশ 

    স্মৃতির একুশ 
    নাঈলাত তাসনীম জামান
    শোনো শোনো ওই গাইছে সকলে
    অমর একুশের গান  ,
    অশ্রু রাশি সিক্ত করেছে
    রক্তাক্ত স্মৃতির স্থান  ।
    একুশের গান সতেজ করেছে
    প্রভাত ফেরির ডোর,
    সেই সুরেরই মূর্ছনাতে
    জেগে উঠেছে ভোর  ।
    সেদিনের সেই রাজপথে যে
    একুশ মহান গুরু ,
    শিখিয়ে দিলেন কেমন করে
    হয়েছে ত্যাগের শুরু ।
    সালাম, বরকত,, রফিক, শফিক
    আরো কত তাজা প্রাণ  ,
    রক্ত দিয়ে লিখে গিয়েছে
    অমর একুশের গান  ।
    অশ্রুসিক্ত নয়নে আজ
    শোকের বৃষ্টি ঝরে ,
    স্মৃতির সাগরে সদা বহমান
    তাদের মনে পড়ে ।
  • শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি শুরু, রোববার যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার প্রস্তুতি

    শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি শুরু, রোববার যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার প্রস্তুতি

    এবিএনএ: তিন দফা দাবিতে টানা ছয় দিন ধরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।

    শুক্রবার জুমার নামাজের পর শিক্ষকরা শহীদ মিনারের মূল বেদিতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। তবে কারও নির্দিষ্টভাবে অনশনরত অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি; বরং বৃষ্টির মধ্যেই অনেকে চারপাশে বসে থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    এর আগে সকালে শিক্ষকরা টিএসসি চত্বরে জড়ো হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সেখানে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় ফলপ্রসূ কোনো সমাধান না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী জানান,
    “আজ আমাদের পরিকল্পনা ছিল অনশন শুরু করা, আমরা তা করেছি। রোববার আমরা যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করব।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সরকার আমাদের দাবিকে তামাশায় পরিণত করেছে। মন্ত্রণালয় আমাদের তিন দফা দাবি স্বীকারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন মাত্র একটির আংশিক বাস্তবায়নে আগ্রহী। বাকি দুটি দাবি নিয়ে তারা কোনো কথাই বলছে না।”

    শিক্ষক ও কর্মচারীদের তিনটি মূল দাবি হলো—
    ১️⃣ মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা ন্যূনতম তিন হাজার টাকা বাড়িভাড়া বৃদ্ধি,
    ২️⃣ শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়ের জন্য ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা,
    ৩️⃣ কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদান।

    গত ১২ অক্টোবর থেকে তারা এই দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন। এরপর থেকে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং গত বুধবার আড়াই ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

    বৃহস্পতিবার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে তাদের বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। সেখানে সরকার পক্ষ থেকে মাত্র ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।


    চলমান এই অনশন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষকেরা সরকারের কাছে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এখন সবার দৃষ্টি রোববারের যমুনা অভিমুখে তাদের পদযাত্রার দিকে।

  • শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা, কুষ্টিয়ায় চিরনিদ্রায় লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন

    শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা, কুষ্টিয়ায় চিরনিদ্রায় লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন

    এবিএনএ:  বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের প্রতি শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে তাঁর মরদেহ আনা হলে শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সাধারণ মানুষ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানকার পৌর কবরস্থানে মা–বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে জাসাস। শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমান, বিএনপির সংস্কৃতিক সম্পাদক চিত্রনায়ক উজ্জ্বল, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমসহ বিশিষ্টজনেরা। ভিডিও কলে অংশ নিয়ে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাও ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় জাদুঘর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    ফরিদা পারভীন লালনগানকে জনপ্রিয় করতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। শুধু দেশে নয়, বিশ্বমঞ্চেও তিনি লালনের গান পৌঁছে দিয়েছেন। জাপান, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ নানা দেশে তাঁর কণ্ঠে লালনসংগীত মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের।

    ১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। লালনসংগীতের বাইরেও তাঁর কণ্ঠে ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদির নাম’, ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’সহ অনেক গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

    লোকসংগীতের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে ফরিদা পারভীন চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে।

  • রাজধানীতে যানজটের ভয়াবহ চিত্র, পরীক্ষার্থী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

    রাজধানীতে যানজটের ভয়াবহ চিত্র, পরীক্ষার্থী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

    এবিএনএ:  রাজধানী ঢাকায় রবিবার (৩ আগস্ট) সকালে দেখা যায় অসহনীয় যানজট। একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি, অন্যদিকে এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষা—সব মিলিয়ে রাজধানীর সড়কগুলো হয়ে পড়ে প্রায় অচল।

    সকালে ছাত্রদলের উদ্যোগে শাহবাগে ‘ছাত্র সমাবেশ’ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ায় এসব এলাকায় জনস্রোত ও গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কারণে রাস্তায় তৈরি হয় তীব্র যানজট।

    শাহবাগ, টেকনিক্যাল মোড়, ফার্মগেট, শ্যামলী, কাকরাইল, সোনারগাঁও রোডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছিল দীর্ঘ লাইনে স্থবির যানবাহন। অনেক যাত্রী বাসে উঠতে পারেননি, সিএনজিচালকরাও ভাড়া নিতে রাজি হননি।

    টেকনিক্যাল মোড়ের এক যাত্রী রাহাত চৌধুরী বলেন, “বাসে ওঠার জায়গা নেই, আবার উঠলেও কখন গন্তব্যে পৌঁছাব—তার কোনো ঠিক নেই।” অপরদিকে সিএনজিচালক আলামিন জানান, “শুধু টেকনিক্যাল থেকে শ্যামলী পর্যন্ত যেতে লাগছে প্রায় ৩৫ মিনিট, যেখানে সাধারণত ১০ মিনিটও লাগে না।”

    ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীতে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির কারণে শাহবাগ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    ডিএমপির বিকল্প রুট পরিকল্পনা নিম্নরূপ:

    ১. হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: শাহবাগে না গিয়ে হেয়ার রোড/মিন্টু রোড
    ২. কাটাবন থেকে: নীলক্ষেত/পলাশী বা বাংলামোটর লিংক রোড
    ৩. মৎস্য ভবন ও হাইকোর্ট থেকে: হেয়ার রোড হয়ে ঢাবি বা কাকরাইল
    ৪. টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত: শাহবাগ এড়িয়ে চলাচল
    ৫. শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন রাস্তাগুলো: এড়িয়ে চলার অনুরোধ

    ডিএমপি আরও জানায়, এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে রওনা হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, “নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ডাইভারশনও দেওয়া হয়েছে।”


    রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের সতর্কতা থাকলেও পরীক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা দিনের শুরুতেই দুর্ভোগের শিকার হন। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও পরীক্ষার সময় একযোগে পড়লে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

  • নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকেই আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী এক দফা দিয়েছিলাম। সেটা ছিল কোনো একক দলের নয়, ছিল জনগণের পক্ষ থেকে—a call for democratic uprising।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যে রাজনীতি করি, তা দায়বদ্ধতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে স্বৈরতন্ত্রের আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “যদিও সরকারের পতন ঘটেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটেনি। তাই নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করব।”

    এনসিপির ঘোষিত ২৪ দফা মূলনীতির কিছু দিক:

    ১. নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
    ২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
    ৩. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন
    ৪. বিচারব্যবস্থায় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
    ৫. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনসেবামুখী শাসন
    ৬. জবাবদিহিমূলক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
    ৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
    ৮. স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ
    ৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা
    ১০. যুগোপযোগী শিক্ষানীতি
    ১১. তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক গবেষণা
    ১২. ধর্ম ও জাতিসত্তার সম্মান
    ১৩. নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন
    ১৪. মানবমুখী অর্থনীতি ও কল্যাণ রাষ্ট্র
    ১৫. যুবকদের কর্মসংস্থান
    ১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন
    ১৭. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিতে স্বাবলম্বিতা
    ১৮. শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার
    ১৯. রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনা
    ২০. পরিবহন, নগরায়ন ও আবাসন পরিকল্পনা
    ২১. পরিবেশ, নদী ও সমুদ্র রক্ষা
    ২২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা
    ২৩. বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি
    ২৪. আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশল

    ঘোষণার শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিয়েছিলাম—দেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করব। আজ আবারও সেই স্থানে দাঁড়িয়ে বলছি—আসুন, সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ি যেখানে সবার জন্য সাম্য, মর্যাদা ও সুবিচার থাকবে।”

  • রাজধানীতে কাল একাধিক কর্মসূচি: যানজট এড়াতে এইসব রুটগুলো ব্যবহার করুন

    রাজধানীতে কাল একাধিক কর্মসূচি: যানজট এড়াতে এইসব রুটগুলো ব্যবহার করুন

    এবিএনএ:  রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল রবিবার (৩ আগস্ট) একাধিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির কারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এতে পরীক্ষার্থীসহ নগরবাসীকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাহবাগ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় বড় ধরনের জনসমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

    কোন কোন কর্মসূচি রয়েছে কাল:

    • দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শাহবাগ মোড়ে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ করবে।

    • বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শহীদ মিনারে জনসমাবেশ আয়োজন করবে।

    • পাশাপাশি ১ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করছে ‘জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক উৎসব, যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।

    এছাড়া রোববার রাজধানীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা, এবং বিসিএস পরীক্ষাও রয়েছে। ফলে ডিএমপি পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে ঘর থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    যানজট এড়াতে যেসব সড়ক পরিহার করবেন:
    ➡️ শাহবাগ মোড়
    ➡️ কাটাবন মোড়
    ➡️ মৎস্য ভবন মোড়
    ➡️ টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য এলাকা
    ➡️ শহীদ মিনার ও সংলগ্ন রাস্তা
    ➡️ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথ

    প্রস্তাবিত বিকল্প রুট সমূহ:
    ✅ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে যানবাহন হেয়ার রোড বা মিন্টু রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
    ✅ কাটাবন এলাকা থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে যানবাহনকে নীলক্ষেত, পলাশী বা হাতিরপুলের রাস্তায় চলাচল করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
    ✅ হাইকোর্ট হয়ে আসা গাড়ি শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী ব্যবহার করতে পারে।
    ✅ কাকরাইল থেকে শহীদ মিনার অভিমুখে যাওয়া যানবাহনকে গুলিস্তান বা ঢাবির দিকে ডাইভার্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    ✅ নীলক্ষেত বা দোয়েল চত্বর থেকে শাহবাগমুখী যাত্রার পরিবর্তে সেসব এলাকাতেই ঘুরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলাচল সীমিত থাকলেও পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। শহরবাসীকে কিছু সময়ের জন্য ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

  • চেয়ারম্যান অপসারণ দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের টানা আন্দোলন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    চেয়ারম্যান অপসারণ দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের টানা আন্দোলন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    এবিএনএ, ঢাকা:

    চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে দেশের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা ৮ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সারাদেশব্যাপী কর্মবিরতিতে গ্রাহক সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    বর্তমানে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ৮০টি সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। দেশের মোট ৪ কোটি ৮২ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে ৩ কোটি ৬৮ লাখই আরইবির অধীনে সেবা গ্রহণ করে থাকেন।

    সমগ্র বাংলাদেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মী সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। আরইবি ও সমিতিগুলোর একীভূতকরণ, চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগ এবং অভিন্ন চাকরি বিধি প্রণয়নের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

    চাপ বাড়ছে কেন্দ্রের ওপর
    আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা না হয়, তবে আমরা প্রতিটি অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইল হ্যান্ডসেট সমিতির সদর দপ্তরে জমা দিয়ে দেব।”

    তারা অভিযোগ করেন, “আমাদের ন্যায্য দাবি তোলার কারণেই ইতোমধ্যে ২৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, ৪০ জন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছেন এবং ছয় হাজারেরও বেশি কর্মীকে জোরপূর্বক বদলি করা হয়েছে। এর বাইরে ১৭২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করা হয়েছে।”

    হয়রানিতে আতঙ্ক ও ঝুঁকিতে প্রাণ
    আন্দোলনকারীরা জানান, মামলার ভয়ে অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। আতঙ্কের মধ্যে বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে যদি কারও প্রাণহানি ঘটে, তার দায়ভার কে নেবে?”

    সংহতি ও রাজনৈতিক সমর্থন
    এই আন্দোলনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সংহতি জানিয়েছে।

    পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের এ আন্দোলন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। দাবিগুলোর প্রতি সরকারের সাড়া না দিলে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।