Tag: শহীদ পরিবার

  • শহীদ ইউসুফের পরিবারের পাশে তারেক রহমান: সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে বাসায় গেল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

    শহীদ ইউসুফের পরিবারের পাশে তারেক রহমান: সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে বাসায় গেল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

    এবিএনএ: চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হওয়া ইউসুফের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাজধানীতে মানবিক কর্মসূচি পালন করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শহীদ পরিবারের দুর্দশার কথা প্রকাশ পাওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর দলীয় উদ্যোগে একটি প্রতিনিধি দল পরিবারটির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।

    সোমবার ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চন্দ্রিমা মডেল টাউনে শহীদ ইউসুফের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর নেতারা। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি পরিবারের কষ্টের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় সংগঠনটির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

    প্রতিনিধিদল শহীদ ইউসুফের মায়ের হাতে তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়। পাশাপাশি শহীদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় নেতাদের মতে, শহীদ পরিবারের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ঘোষণা: সীমান্ত বাহিনী হবে আধুনিক ও শক্ত ভিতের—প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

    জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ঘোষণা: সীমান্ত বাহিনী হবে আধুনিক ও শক্ত ভিতের—প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে আরও সুসংহত করা হবে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পেশাগত উৎকর্ষ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত সদস্যদের মাধ্যমেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সেনা দিবস–২০২৬ উপলক্ষে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি মাহে রমজানের এই সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বিশেষভাবে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনায় শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর সন্তানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে শোকের প্রতীক। সময় পেরোলেও সেই দিনের ক্ষত শুকায়নি। শহীদদের স্মৃতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষণ করা জাতীয় দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি ইতিহাসে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণে রাখতে সরকার উদ্যোগ নেবে।

    সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শেকড় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে প্রোথিত—এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরা সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্ত বাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাংগঠনিক সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেন। বাহিনীকে সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়।

    তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তা কাঠামো আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে পরিকল্পিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

    শহীদ পরিবারের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্র পাশে থাকবে। শেষাংশে তিনি প্রার্থনা করেন—আল্লাহ যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তি দেন এবং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।

  • আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    আওয়ামী লীগের পুরোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন রূপ, উঠল ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ ব্যানার

    এবিএনএ: রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পূর্বতন কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এখন নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ফিরছে আলোচনায়। প্রায় এক বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা ১০ তলা ভবনটির দেয়ালে এবার স্থান পেয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার।

    গত বুধবার থেকে ভবনটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভবনটিতে অন্তত ১০-১২ জন শ্রমিককে বিভিন্ন তলায় পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, পুরো ভবন পরিষ্কার করে হস্তান্তর করা হবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের হাতে।

    ভবনের সামনে বেশ কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায় এবং আগ্রহী পথচারীরা ভবনটির ছবি তুলছেন। তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া, দোতলার আবর্জনা ও অন্যান্য ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

    পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত কয়েকজন জানান, ভবনটি গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ও শহীদ পরিবারের দাপ্তরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে। তবে ‘ফ্যাসিজম ইনস্টিটিউট’ বিষয়ে তারা কিছু জানাতে রাজি হননি, বলেন— কীভাবে ভবনটি ব্যবহার হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করবেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গুলিস্তানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর থেকে ভবনটি কার্যত বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। ভাসমান মানুষ ও রিকশাচালকদের শৌচাগার ও আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছিল জায়গাটি।

    এরই মাঝে কিছু মাস আগে ‘জুলাই যোদ্ধাদের প্রধান কার্যালয়’ ব্যানার টাঙানো হলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবার নতুন ব্যানার ও পরিচ্ছন্নতা শুরু হওয়ায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

    জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভবনটিতে ছিল সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

    পরিত্যক্ত ভবনের পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন কৌতূহলী, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও এটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে— ভবিষ্যতে এই কার্যালয়ের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।