Tag: শবে কদর

  • লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, ইবাদতে মনোযোগের আহ্বা

    লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, ইবাদতে মনোযোগের আহ্বা

    এবিএনএ: পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    রোববার (১৬ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, লাইলাতুল কদর ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। এই মহিমান্বিত রাতেই পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয় এবং মহান আল্লাহ এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস মানুষের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধৈর্যের শিক্ষা দেয় এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে।

    তিনি আরও বলেন, লাইলাতুল কদরের তাৎপর্য আমাদের ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ন্যায়, শান্তি এবং মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই এই রাতের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে সবাইকে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পবিত্র রাতের বরকত মানুষের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনবে এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

  • শবে কদর পাওয়ার আশায় ইতিকাফে কীভাবে ইবাদত করবেন? জানুন গুরুত্বপূর্ণ আমলের নির্দেশনা

    শবে কদর পাওয়ার আশায় ইতিকাফে কীভাবে ইবাদত করবেন? জানুন গুরুত্বপূর্ণ আমলের নির্দেশনা

    এবিএনএ: রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি কেবল মসজিদে অবস্থান করা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং শবে কদরের ফজিলত অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ।

    ইতিকাফে থাকা অবস্থায় একজন মুসলমান তার সময়কে যত বেশি ইবাদতে ব্যয় করতে পারেন, ততই তিনি আধ্যাত্মিকভাবে উপকৃত হন। বিশেষ করে শবে কদরের সন্ধানে এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান।

    সময়কে গুরুত্ব দিন

    ইতিকাফে বসে অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তারাবির নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টিকে ইবাদতের জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। আলস্য বা ক্লান্তিকে দূরে রেখে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।

    কোরআন তিলাওয়াত ও অর্থ অনুধাবন

    ইতিকাফের সময় বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম। শুধু পড়া নয়, কোরআনের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করলে তা হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মন খুলে দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রয়োজনীয় বিরতি ও পানি পান

    দীর্ঘ সময় ইবাদত করতে গিয়ে অনেক সময় শরীরে ক্লান্তি আসে। তাই মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

    নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ

    ইতিকাফের সময় বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে রাতের শেষভাগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। কারণ এই সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে এবং দোয়া কবুলের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

    দান-সদকার গুরুত্ব

    ইতিকাফে থাকলে বাইরে গিয়ে দান করা সম্ভব হয় না। তাই আগে থেকেই দান-সদকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে অথবা পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মাধ্যমে দরিদ্রদের সাহায্য করা যেতে পারে।

    ধৈর্য ও উত্তম আচরণ

    ইতিকাফের সময় বিনয়ী ও নম্র আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগ বা বিরক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা ইবাদতের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

    শবে কদরের বিশেষ দোয়া

    হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— যদি তিনি কদরের রাত পান, তাহলে কী দোয়া পড়বেন? উত্তরে নবীজি (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিক্ষা দেন।

    আরবি উচ্চারণ:
    আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

    অর্থ:
    হে আল্লাহ! আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

    এই দোয়াটি শবে কদরের রাতে বেশি বেশি পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী বিদ্বানরা।

  • শবে কদরের নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? জেনে নিন ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

    শবে কদরের নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? জেনে নিন ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

    এবিএনএ: শবে কদর ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। ‘শব’ শব্দটি ফারসি, যার অর্থ রাত; আর ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা, সম্মান বা মহিমা। আরবি ভাষায় এই রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর—অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রাত। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ ফয়সালা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়।

    রমজান মাসে এই রাতের গুরুত্ব এত বেশি যে কোরআনে এটিকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। তবে কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, রমজানের কোন রাতটি শবে কদর। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন।

    এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিভিন্ন ইবাদতে মগ্ন থাকেন। নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া, ইস্তিগফার এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা—এসব ইবাদতের মাধ্যমে রাতটি কাটানো হয়।

    শবে কদরের নামাজের নিয়ত

    নফল নামাজের নিয়ত আরবিতে বলা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনেকেই আরবিতে নিয়ত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একটি প্রচলিত নিয়ত হলো—

    নিয়ত:
    নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তাআ’লা রাকআ’তাই সালাতি লাইলাতিল কদর নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শরীফাতি আল্লাহু আকবার।

    অর্থ:
    আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।

    শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

    লাইলাতুল কদরের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজের পদ্ধতি হাদিসে বর্ণিত নেই। সাধারণভাবে দুই রাকাত করে নফল নামাজ যত বেশি সম্ভব আদায় করা উত্তম। মুসল্লিরা দুই রাকাত করে ধারাবাহিকভাবে একাধিক নফল নামাজ পড়তে পারেন।

    এই রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, তওবা করা, ইস্তিগফার পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সূরা পড়ার প্রচলন থাকলেও এর নির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। তবে চাইলে সূরা কদর ও সূরা ইখলাস বেশি বেশি তেলাওয়াত করা যেতে পারে।

    শবে কদরের বিশেষ দোয়া

    হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতেই শবে কদর হতে পারে। তাই প্রতিটি বেজোড় রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান, তাহলে কোন দোয়া করবেন? উত্তরে নবী করিম (সা.) একটি দোয়া শিখিয়ে দেন।

    দোয়া:
    اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

    অর্থ:
    হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল ও মহানুভব। আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি: ৩৫১৩)