Tag: শফিকুর রহমান

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    এবিএনএ: সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এবার সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা Shafiqur Rahman জানিয়েছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ১১ দল একসঙ্গে বসে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে, সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে তারা ‘সংস্কার’ চেয়েছিলেন, যা গণভোটে জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও সেটি ছিল সংবিধান সংশোধনকেন্দ্রিক। বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের দাবি হলো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবও তারা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ‘সংস্কার’-এর কথা বলেছিলেন, ‘সংশোধন’-এর নয়।

    স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন, তবে স্পিকার জানান—প্রস্তাবটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, গৃহীত হয়নি।

    এ ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের গণভোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবসময় জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

    শফিকুর রহমান জানান, সংসদে সমাধান না হওয়ায় এখন তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনই তাদের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।

  • সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের সঙ্গে তার পরিবারও রক্ত দিয়ে অংশীদার হয়েছে। বাংলাদেশ সবার—এই বার্তা তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদল জনগণের ভোটের মাধ্যমে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে সেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একসময় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্যাতন, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বড় রূপ নেয়। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।

  • ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর পথে তারেক? জামায়াত আমিরের অগ্রিম অভিনন্দনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা

    ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর পথে তারেক? জামায়াত আমিরের অগ্রিম অভিনন্দনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা

    এবিএনএ: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক সৌজন্য সাক্ষাতের পর দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এই বার্তা দেন।

    ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে জামায়াত আমিরের বাসায় যান তারেক রহমান। সেখানে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনার পর দুই নেতার মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। আলোচনায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, ভবিষ্যৎ সংসদে দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

    বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, এই সাক্ষাৎ জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। তিনি প্রত্যাশা করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দায়িত্বশীলতার জায়গায় সবাই একমত হবেন।

    বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে কঠোর অবস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও উঠে আসে আলোচনায়। জামায়াত আমির বলেন, কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

    ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা টেনে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করা হবে। তবে আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আপসহীন থাকবে জামায়াতে ইসলামী। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সমর্থন থাকবে, কিন্তু জবাবদিহি প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দলের মধ্যে সংঘাতের রাজনীতির বাইরে গিয়ে সংলাপের পথ খোলার ইঙ্গিত দেয়। সামনে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বার্তার প্রতিফলন কতটা ঘটে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানকে সাক্ষাত করেন।

    সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে থাকবে।”

    তিনি আরও জাতিসংঘ, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি ফিলিস্তিন পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দোয়া, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    উত্তরে রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বাংলাদেশের আন্তরিক সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    ‘আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ’-ক্ষোভে জনগণ: জামায়াত আমির

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর দেশের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জনসম্পৃক্ত না হয়েও ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে—আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ।” তবে তিনি দাবি করেন, ইসলামি দলগুলোর বিরুদ্ধে কখনো চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেনি।

    সোমবার বিকেলে খুলনা নগরের ঐতিহাসিক শিববাড়ী মোড়ে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আটটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশেষ করে ৩৫ বছরের নিচের তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে যারা ভোট দিতে পারেননি, তারা এবার নিজের অধিকার নিয়ে আপস করবেন না। তিনি বলেন, “তোমাদের ভোট নিয়ে কেউ ছিনিমিনি করলে আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজনে ভোটের অধিকার রক্ষায় রাজপথে লড়াই করব।”

    তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলো যেন তোমরা শুধু চাকরি না করে, চাকরি দেওয়ার মানুষ হও।”

    দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে দুটি ধারায় শিক্ষা চলছে—মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা। তার মতে, মাদ্রাসায় জ্ঞানচর্চা হয়, সহিংসতা হয় না। পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পরিবেশ অনেক সময় অস্থির হয়ে উঠে, যা সভ্য সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। সমাজকে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের দলীয় পোস্টার-পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হলেও জনগণ এখন আর পোস্টার দেখে ভোট দেয় না। তারা হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি ঘোষণা দেন, আট দলের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইসলামি দলগুলোর ঐক্য জাতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণজাগরণ ঘটানোর হুঁশিয়ারিও দেন।

  • ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    ‘প্রতিবেশী বদলানো যায় না, তাই সম্মান চাই ও দিতেও চাই’ — জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

    এবিএনএ:  জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “মানুষ তার বাসস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সম্মান দিতে চাই, সেই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকেও সম্মান আশা করি।”

    স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, “ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড় দেশ। তাদের ভূখণ্ড, জনসংখ্যা ও সম্পদ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সেই বাস্তবতা মেনে চলি এবং তাদের অবস্থান অনুযায়ী সম্মান জানাতে চাই। তবে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের একটি ছোট ভূখণ্ডকেও ভারতের উচিত সম্মানের সঙ্গে দেখা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে দুই দেশই উপকৃত হবে এবং একে অপরের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানিত হবে।”

    ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “গত ১৫ মাসে আমাদের অবস্থান ও কার্যক্রমই তার প্রমাণ। আমরা জোরপূর্বক কিছু সমর্থন করি না এবং কাউকে দেশ ছাড়তেও বাধ্য করতে চাই না। কেউ যদি অবৈধভাবে কারও সম্পত্তি দখল করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষেই আমরা আছি।”

    সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো মার্কিন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, “এই প্রশ্নটি বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত এড়িয়ে যাচ্ছি।”

  • জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে তিন ব্লক, দেশে জরুরি বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত

    জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে তিন ব্লক, দেশে জরুরি বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ:  জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে তিনটি বড় ধরণের ব্লক ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে দেশে তার বাইপাস সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দলের আমীরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় হঠাৎ মঞ্চে পড়ে গেলে ডা. শফিকুর রহমানকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলার পর বুধবার তার এনজিওগ্রাম করা হয়।

    এই এনজিওগ্রামে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি বড় ব্লক ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্ডিওলজিস্ট ডা. মমিনুজ্জামান। এনজিওপ্লাস্টি নয়, বরং বাইপাস সার্জারিই বর্তমানে তার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    প্রাথমিকভাবে দলীয়ভাবে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলেও ডা. শফিকুর রহমান নিজেই তাতে রাজি হননি। তিনি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়ে বাইপাস সার্জারি দেশেই করানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন।

    পিএস নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসার সময় ও স্থান নির্ধারণে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় ডা. শফিকুর রহমান এবং তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

  • ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একবার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা একটা লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এবার আরেকটা যুদ্ধ হবে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ, সেই লড়াইটাও আমরা জিতব।”

    তিনি আরও জানান, এই সমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে তিনজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের স্মরণে তিনি আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা কামনা করেন।

    জাতির অতীত সংগ্রামকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যদি আবু সাঈদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা দাঁড়াতেন না, যদি সেই সময় ২৪ জন জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ না গড়তেন, তবে আজ যারা অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের অবস্থান থাকত কোথায়?”

    তিনি আরও বলেন, শহীদদের ত্যাগকে ছোট করে দেখা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো শোভন নয়। যারা এমন করে, তাদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা বাসা বাঁধে।

    সামগ্রিকভাবে সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এই লড়াই কেবল দলের নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপরেখা।