Tag: লামিনে ইয়ামাল

  • মেসি বনাম ইয়ামাল দ্বৈরথ আর হচ্ছে না: রাজনৈতিক উত্তেজনায় বাতিল ‘ফিনালিসিমা’

    মেসি বনাম ইয়ামাল দ্বৈরথ আর হচ্ছে না: রাজনৈতিক উত্তেজনায় বাতিল ‘ফিনালিসিমা’

    এবিএনএ: ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার বহুল আলোচিত ফুটবল ম্যাচ ‘ফিনালিসিমা’ শেষ পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি মাসেই কাতারের রাজধানী দোহায় স্পেন ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

    রোববার (১৫ মার্চ) ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউইএফএ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি আয়োজন করা যাচ্ছে না।

    এই ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই।

    মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আয়োজক দেশ হিসেবে কাতারকে অনুপযুক্ত মনে করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজকরা।

    ম্যাচটি আয়োজনের জন্য বিকল্প ভেন্যু ও সময় নির্ধারণে ইউইএফএ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে স্পেনের মাদ্রিদ এবং আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসের কথাও উঠে আসে।

    প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত তারিখে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আয়োজন করা যেতে পারে এবং দুই দলের সমর্থকদের জন্য সমান সংখ্যক আসন বরাদ্দ রাখা হবে। তবে এই প্রস্তাবে আর্জেন্টিনা রাজি হয়নি।

    পরবর্তীতে দুই লেগে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ম্যাচ মাদ্রিদে এবং অন্যটি বুয়েনোস আইরেসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি।

    এরপর ইউইএফএ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ২৭ বা ৩০ মার্চ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তাতেও সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো আয়োজনই বাতিল হয়ে যায়।

    উল্লেখ্য, ফিনালিসিমার এটি হওয়ার কথা ছিল চতুর্থ আসর। ইউরোপের ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং দক্ষিণ আমেরিকার কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নের মধ্যকার এই ম্যাচ আধুনিক সময়ে খুব কমই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বর্তমান শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল তারা।

    ফুটবল ইতিহাসে প্রথম ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে, যেখানে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। পরে ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ডেনমার্ককে হারিয়ে শিরোপা জয় করে।

    এই ম্যাচটি বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল আরেকটি কারণে। কারণ এতে বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল প্রথমবারের মতো কিংবদন্তি লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামার সম্ভাবনা ছিল।

    মাত্র ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালকে অনেকেই মেসির সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। দুজনই বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন, দুজনই ডান প্রান্তে খেলেন এবং বাঁ পায়ে দক্ষতার জন্য পরিচিত।

  • ১৮ বছরেই ইতিহাস! ড্রিবলিংয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তুললেন লামিনে ইয়ামাল

    ১৮ বছরেই ইতিহাস! ড্রিবলিংয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বে ঝড় তুললেন লামিনে ইয়ামাল

    এবিএনএ: বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে তুলনা আর প্রশংসার শেষ নেই। কেউ তাঁর খেলায় খুঁজে পান লিওনেল মেসির ঝলক, আবার কারও চোখে তিনি নেইমারের উত্তরসূরি। তবে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই পরিসংখ্যানের দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।

    এক বর্ষপঞ্জিকায় সফল ড্রিবলিংয়ের সংখ্যায় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ইয়ামাল ছাড়িয়ে গেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকেও। এই তালিকায় তাঁর সামনে আছেন কেবল ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ও পিএসজির জার্সিতে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৩৫টি সফল ড্রিবলিং করে শীর্ষে আছেন নেইমার। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইয়ামাল, যিনি ২০২৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে সফল ড্রিবলিং করেছেন ৩০৭ বার। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তালিকার শীর্ষ দশে পাঁচবার জায়গা করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।

    চোট ও মাঠের বাইরের আলোচনায় চলতি বছরে কিছুটা ছন্দ হারালেও খুব দ্রুতই নিজের সেরা রূপে ফিরেছেন ইয়ামাল। এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হারলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সমর্থকরা।

    নিয়মিত গোল ও অ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল না পেলেও ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীলতায় প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছেন তিনি। মাঠে তাঁর উপস্থিতিই হয়ে উঠছে বার্সেলোনার আক্রমণের বড় অস্ত্র।

    চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ ম্যাচে ৯ গোলের সঙ্গে ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল। লা লিগায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট তাঁরই দখলে। সতীর্থদের দিয়ে সাতটি গোল করিয়ে কাতালান ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন এই তরুণ ফুটবলার।