Tag: লাঠিচার্জ

  • বিজয়নগরে গণঅধিকারকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ: নুর-রাশেদসহ আহত ৫০, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল রাজধানীতে

    বিজয়নগরে গণঅধিকারকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ: নুর-রাশেদসহ আহত ৫০, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল রাজধানীতে

    এবিএনএ:  রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণঅধিকার কর্মীদের সরাতে লাঠিচার্জ করেছে। এতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিজয়নগরের গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যায় দুই দলের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও সেনা সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন, কিন্তু গণঅধিকার পরিষদ সংবাদ সম্মেলনের জন্য কার্যালয়ে আসার পর আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতা-কর্মীদের সরানোর জন্য সময় বেঁধে দেয় এবং পরে লাঠিচার্জ শুরু হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় নুরকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    গণঅধিকার পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে আমরা সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়েছিলাম, তখন পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে’।

    বর্তমানে নুরুল হক নুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাশেদ খানসহ আটজন আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে আছেন হাসান তারেক (২৮), ফারজানা কিবরিয়া (৩০), মইনুল ইসলাম (৩৫), মেহবুবা ইসলাম (৩০), পুলিশের পরিদর্শক আনিছুর রহমান (৪২), আবু বক্কর (৩০) ও তারেক আজাদ (২৫)।

    রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “আমরা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে যাইনি। কিন্তু তারা এবং আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসী হঠাৎ আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। আমাদের কার্যালয়ের সামনে লাঠিপেটা করা হয়।”

    পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাকরাইল থেকে মোট আটজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    এর আগে সন্ধ্যায় জাপা কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের মিছিলের সময় জাপার নেতা-কর্মীরা উসকানি সৃষ্টি করেছে। জাপা দাবি করছে, মিছিলের সময়ে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

    গণঅধিকার পরিষদসহ কিছু রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদী শাসনকে বৈধতা দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। তারা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাপার কার্যক্রমও স্থগিত করা উচিত।

  • সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    সচিবালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৪০ শিক্ষার্থী ভর্তি ঢামেকে

    এবিএনএ:  ঢাকার সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সচিবালয়ের সামনে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।

    ছাত্ররা পরে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগ।

    বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সাইন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সচিবালয়ের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ২০ মিনিট সময় চাওয়া হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি। এরপর শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।