Tag: লাইফস্টাইল টিপস

  • ঈদ শপিংয়ে ভিড়ের আগে জেনে নিন ৫ জরুরি সতর্কতা, বাঁচবে সময়-টাকা দুটোই

    ঈদ শপিংয়ে ভিড়ের আগে জেনে নিন ৫ জরুরি সতর্কতা, বাঁচবে সময়-টাকা দুটোই

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে এলে দেশের মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। নতুন পোশাক, জুতা কিংবা উপহারের খোঁজে সবাই ছুটে যান বাজারে। তবে যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া কেনাকাটায় বের হলে আনন্দের মুহূর্ত অনেক সময় বিরক্তি বা ভোগান্তিতে পরিণত হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে ঈদের কেনাকাটা হতে পারে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও সাশ্রয়ী। নিচে দেওয়া হলো এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

    ১. আগে ঠিক করুন বাজেট ও কেনাকাটার তালিকা

    হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কেনাকাটা করলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলি। তাই বাজারে যাওয়ার আগে পরিবারের কার জন্য কী কিনবেন তার একটি তালিকা তৈরি করা ভালো। এতে করে সময় বাঁচে এবং কোনো কিছু কিনতে ভুলও হয় না।

    একই সঙ্গে মোট কত টাকা খরচ করবেন তা আগেই নির্ধারণ করা জরুরি। এতে বাজেটের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। একই পণ্যের দাম বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন হতে পারে, তাই কয়েকটি দোকানে দাম যাচাই করে কেনা ভালো।

    ২. ভিড় এড়াতে সময় বেছে নিন

    ঈদের আগে মার্কেটগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। তাই কেনাকাটা সহজ করতে সময় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সকালে মার্কেট খোলার পরপর গেলে সাধারণত ভিড় কম থাকে এবং শান্তভাবে পণ্য বাছাই করা যায়। সম্ভব হলে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে অন্য দিনে কেনাকাটা করার চেষ্টা করুন।

    ৩. আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরুন

    ঈদের বাজারে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি করতে হয়। তাই আরামদায়ক জুতা ও হালকা পোশাক পরা জরুরি। গরমের দিনে সুতি কাপড় পরলে স্বস্তি পাওয়া যায়। অনেকেই নতুন বা হাই হিল জুতা পরে বাজারে যান, এতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

    এছাড়া কেনাকাটা রাখার জন্য একটি মজবুত ব্যাগ সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়।

    ৪. প্রয়োজনীয় ছোটখাটো জিনিস সঙ্গে রাখুন

    দীর্ঘ সময় মার্কেটে থাকলে ক্লান্তি আসতে পারে। তাই সঙ্গে পানির বোতল বা হালকা খাবার রাখা ভালো। রোজাদারদের ক্ষেত্রে ইফতারের জন্য খেজুর বা হালকা খাবার রাখা উপকারী হতে পারে।

    ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন, তাই পাওয়ার ব্যাংক রাখা ভালো। ছোটদের জামার মাপ বা পছন্দের রঙের নমুনাও সঙ্গে রাখলে কেনাকাটা সহজ হয়।

    ৫. নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক থাকুন

    ঈদের ভিড়ে পকেটমার বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই সব টাকা এক জায়গায় না রেখে আলাদা আলাদা করে রাখা নিরাপদ। সম্ভব হলে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

    অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খল জায়গা এড়িয়ে চলাই ভালো।

    অনলাইন কেনাকাটায়ও সচেতনতা জরুরি

    অনেকে এখন ভিড় এড়াতে অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা করেন। তবে অর্ডার দেওয়ার আগে বিক্রেতা বা ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। ডেলিভারি পেতে সময় লাগতে পারে, তাই ঈদের অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে অর্ডার করা নিরাপদ।

    সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতা মেনে চললে ঈদের কেনাকাটা হবে আরও আনন্দময় এবং ঝামেলামুক্ত।

  • রাতে ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূরে রাখতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৪ খাবার

    রাতে ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূরে রাখতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৪ খাবার

    এবিএনএ: পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। তবুও মানসিক চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই রাতে বিছানায় গিয়েও সহজে ঘুমাতে পারেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও ঘুমের মানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্র সক্রিয় হতে পারে।

    নিচে এমন চারটি উপকারী খাবারের কথা তুলে ধরা হলো—


    ১. বাদাম: পেশী শিথিল ও গভীর ঘুমে সহায়ক

    বাদাম ম্যাগনেসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস, যা পেশীকে শিথিল করতে এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্কে GABA কার্যকলাপ বাড়িয়ে মনকে স্থির করতে সহায়তা করে, ফলে দ্রুত ঘুম আসতে পারে। সন্ধ্যার পর ৫-৭টি ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো বাদাম খেলে উপকার মিলতে পারে। চাইলে বাদামের দুধও ঘুমের আগে পান করা যায়।


    ২. কলা: মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়ক ফল

    কলা পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ট্রিপটোফ্যানে সমৃদ্ধ। পটাসিয়াম রাতে পেশীর খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করে, আর ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন। দুপুরের খাবারের পর বা রাতের খাবারের শেষে একটি কলা খেলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।


    ৩. হলুদ ও জায়ফল মিশ্রিত গরম দুধ: প্রশান্তির প্রাচীন উপায়

    গরম দুধ দীর্ঘদিন ধরে স্বস্তিদায়ক পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে সামান্য হলুদ যোগ করলে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, আর এক চিমটি জায়ফল ঘুমের ব্যাঘাত কমাতে সহায়ক বলে ধরা হয়। ঘুমানোর আগে এই মিশ্রণ পান করলে শরীর-মন ধীরে ধীরে শিথিল হয়।


    ৪. চেরি: প্রাকৃতিক মেলাটোনিনের উৎস

    চেরি ফলকে ঘুম-বান্ধব খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন থাকে, যা শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। সন্ধ্যায় এক বাটি তাজা চেরি খেলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের প্রবণতা বাড়তে পারে।

    সবশেষে মনে রাখতে হবে, শুধু খাবার নয়—নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি, স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও ভালো ঘুমের জন্য জরুরি। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার রাতের ঘুমকে আরও গভীর ও প্রশান্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

  • রোজার দিন অফিসে ফোকাস হারাচ্ছেন? ৭টি কৌশলে কাজের গতি ফিরিয়ে আনুন

    রোজার দিন অফিসে ফোকাস হারাচ্ছেন? ৭টি কৌশলে কাজের গতি ফিরিয়ে আনুন

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান আত্মসংযম ও ইবাদতের সময়। তবে এই মাসে খাবার ও ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অফিসে ফোকাস ধরে রাখা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যায়। দুপুরের দিকে ক্লান্তি, ঝিমুনি আর পানিশূন্যতা কাজের গতি কমিয়ে দেয়। একটু পরিকল্পনা আর কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই রোজা রেখে কাজের মনোযোগ বজায় রাখা সম্ভব।

    ১) সেহরিতে স্মার্ট খাবার বাছুন
    সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে জটিল শর্করা (লাল চাল, ওটস) ও পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। ক্যাফেইন কমান—চা-কফি পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে। সেহরিতে ও ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    ২) ঘুমের ঘাটতি হতে দেবেন না
    সেহরির পর অফিসের আগে অন্তত কয়েক ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। ঘুম কম হলে সারাদিন মাথা ভারী লাগে, ফোকাস নেমে যায়।

    ৩) ভারী কাজ সকালে সেরে ফেলুন
    সকালে এনার্জি তুলনামূলক বেশি থাকে। অফিসের প্রথম ২–৩ ঘণ্টায় সবচেয়ে মনোযোগ দরকার এমন কাজগুলো শেষ করুন। দুপুরের পর হালকা টাস্ক রাখুন।

    ৪) নামাজের বিরতিকে রিফ্রেশ হিসেবে নিন
    জোহরের নামাজের বিরতিতে ৫–১০ মিনিট নিরিবিলি বসে থাকা বা হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে মানসিক চাপ কমে, নতুন করে কাজে বসার শক্তি আসে।

    ৫) শ্বাস–প্রশ্বাস ও মাইক্রো-ব্রেক
    প্রতি এক ঘণ্টা পর ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে হাঁটুন। চেয়ারে সোজা হয়ে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন—মস্তিষ্কে অক্সিজেন বাড়ে, মনোযোগ ফেরে। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও দীর্ঘ ফোনালাপ এড়িয়ে চলুন।

    ৬) ডেস্ক গুছিয়ে রাখুন
    পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি কাজের জায়গা মনকে হালকা রাখে। সম্ভব হলে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন—ঝিমুনি কমে।

    ৭) হাইড্রেশন ও রুটিন ঠিক রাখুন
    ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পানি ধীরে ধীরে পান করুন। কাজের তালিকা আগের দিন গুছিয়ে নিলে পরদিন সিদ্ধান্তে সময় নষ্ট হয় না।

    এই ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলে রোজার দিনেও অফিসে মনোযোগ, উৎপাদনশীলতা আর মানসিক প্রশান্তি—তিনটাই ধরে রাখা যায়।

  • মন খারাপ হলে যা করবেন: মানসিক প্রশান্তির ৯টি সহজ উপায়

    মন খারাপ হলে যা করবেন: মানসিক প্রশান্তির ৯টি সহজ উপায়

    এবিএনএ:   জীবনে যেমন হাসি আছে, তেমনি আছে মন খারাপের সময়ও। তবে দীর্ঘক্ষণ মন খারাপ থাকলে সেটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই মন খারাপ দূর করতে কিছু কার্যকর উপায় জানা থাকা খুব জরুরি।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৯টি কার্যকর উপায়—

    ১. কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটান
    মন খারাপের সময় সহানুভূতিশীল বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন। মনের কথা ভাগ করলে হালকা অনুভব হয়।

    ২. নিজের উপর চাপ কমান
    অতিরিক্ত দায়িত্ব নিজেকে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে। কাজের মাঝেও সময় নিয়ে বিশ্রাম নিন।

    ৩. আনন্দদায়ক কাজে নিজেকে জড়ান
    ছোটবেলার প্রিয় বই পড়া, পছন্দের গান শোনা, রান্না বা সিনেমা দেখা—এসব আপনাকে ধীরে ধীরে আনন্দ দিতে পারে।

    ৪. বাহিরে যান, একটু হাঁটুন
    বাজার করা বা হালকা হাঁটার মতো কাজও মন ভালো করতে সাহায্য করে। দিনে অন্তত ১৫-৩০ মিনিট হাঁটুন।

    ৫. ইতিবাচক চিন্তা চর্চা করুন
    নেগেটিভ চিন্তা বন্ধ করে নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলোর তালিকা তৈরি করুন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

    ৬. নিজেকে ক্ষমা করুন, ধৈর্য ধরুন
    নিজেকে দোষারোপ করবেন না। আত্মসমালোচনায় না গিয়ে নিজেকে সময় দিন এবং ভালো থাকার চেষ্টা করুন।

    ৭. সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ধৈর্য দেখান
    মন খারাপের সময় আবেগের বশে কোনো বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। চিন্তাগুলো পরিষ্কার হওয়ার সময় দিন নিজেকে।

    ৮. ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন
    ভালো ঘুম মানেই ভালো মন-মেজাজ। ঘুমের ঘাটতিও মন খারাপের কারণ হতে পারে।

    ৯. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন
    যদি মন খারাপ প্রায়ই হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়, তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। থেরাপি আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।

    শেষ কথা:
    মন খারাপ হলে নিজেকে বোঝান—এই সময়টাও পার হয়ে যাবে। আপনার অনুভূতিগুলো স্বাভাবিক, তবে সেগুলোর জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনি আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন।