Tag: রোমারিও শেফার্ড

  • বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই আগুন ঝরালেন শেফার্ড, ইডেনে হ্যাটট্রিকে ইতিহাস গড়লেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার

    বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই আগুন ঝরালেন শেফার্ড, ইডেনে হ্যাটট্রিকে ইতিহাস গড়লেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার

    এবিএনএ: উদ্বোধনী দিনেই রোমাঞ্চে ভরিয়ে তুলেছে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নানা বিতর্ক পেরিয়ে মাঠে গড়ানো টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই দর্শকদের উপহার মিলেছে দুর্দান্ত লড়াই ও বিরল কীর্তির। সেই তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড।

    কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন শেফার্ড। স্কটিশ ইনিংসের ১৭তম ওভারে পরপর তিন বলে উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

    ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াইড ইয়র্কারে ম্যাট ক্রসকে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। পরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন মাইকেল লিস্ক। এরপর ওভারের পরের বলেই ওলিভার ডেভিডসনকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

    হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি শেফার্ড। ওভারের শেষ বলে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে পাঁচ বলেই চার শিকার সম্পন্ন করেন। পুরো ম্যাচে মাত্র ২০ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন তিনি।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দশম হ্যাটট্রিক। এখন পর্যন্ত ৯ জন বোলার এই কৃতিত্ব ভাগ করে নিয়েছেন, যার মধ্যে প্যাট কামিন্স একাই দুইবার হ্যাটট্রিক করে অনন্য নজির গড়েছেন।

  • চট্টগ্রামে ধস, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

    চট্টগ্রামে ধস, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  চট্টগ্রামের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটের ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয়েছে লাল-সবুজের দলকে।

    প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫১ রান। ব্যাট হাতে একাই লড়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তার ঝড়ো ৮৯ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ে রাখলেও অন্য প্রান্তে ব্যর্থ ছিলেন সবাই। সাইফ হাসান ২৩ রান করলেও বাকিদের ব্যাট ছিল নীরব।

    জবাবে রোস্টন চেজ (৫৭) ও আকিম অগাস্তে (অপরাজিত ৫২) সহজেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ১৬.৫ ওভারে। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সম্পূর্ণ আধিপত্য ছিল সফরকারীদের।

    বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনি ৪ ওভারে ৪৩ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। কিন্তু তার লড়াইও জয়ের মুখ দেখাতে পারেনি দলকে।

    ইনিংসের শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পারভেজ ইমন দ্রুত আউট হয়ে ফিরলে চাপ বাড়ে ওপরে। অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থ—৯ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তানজিদ ও সাইফের ৬৩ রানের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখালেও, মাঝ ও শেষের ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ইনিংস ভেঙে পড়ে।

    একপ্রান্তে অবিচল তানজিদ তুলে নেন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। ৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পথে তিনি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০০০ রান পূর্ণ করেন মাত্র ৪২ ইনিংসে। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় গিয়ে ৮৯ রানে আউট হন রোমারিও শেফার্ডের বলে।

    শেষদিকে শরিফুল, রিশাদ, সোহান ও নাসুমের দ্রুত বিদায়ে বড় স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি। তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে একটি ছক্কায় স্কোর ১৫১ রানে থামে।

    বোলিংয়ে আলো ছড়ান ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড। তিনি হ্যাটট্রিকসহ ৩ উইকেট নেন এবং টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক বোলার হিসেবে নাম লেখান। এছাড়া পিয়েরে ও হোল্ডার নেন ২টি করে উইকেট, আকিল হোসেন ও রোস্টন চেজ নেন ১টি করে।

    বাংলাদেশের জন্য এই হার কেবল আরেকটি পরাজয় নয়, বরং ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রতিফলন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে লড়াই করেও জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি—তানজিদের একার প্রচেষ্টা যেন হারিয়ে গেছে দলের ভুলে ভরা পারফরম্যান্সে।