Tag: রিখটার স্কেল

  • আবার কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল! ঘোড়াশালকে কেন্দ্র করে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প

    আবার কাঁপল ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল! ঘোড়াশালকে কেন্দ্র করে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় আবারও অনুভূত হয়েছে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভব করেন অনেকেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল, যা আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

    আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পের ধরণ ছিল মৃদু ও স্বল্পমাত্রার। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি নিশ্চিত করেছে যে, এই কম্পন ঢাকার উত্তর-পূর্ব দিকে আনুমানিক ২৩ কিলোমিটার দূর থেকে সূচিত হয়।

    এর আগে গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। সেই ভূমিকম্পে প্রাণহানি ঘটে অন্তত ১০ জনের, আহত হন ছয় শতাধিক মানুষ। ঢাকার বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়, কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

    সেই ঘটনার পরদিন শনিবার আবারও সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অনুভূত হয় ৩ দশমিক ৩ মাত্রার নতুন আরেকটি ভূমিকম্প। একই দিন সন্ধ্যায় খুব কাছাকাছি সময়ে অনুভূত হয় আরও দুটি ভূমিকম্প—সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে ঢাকার বাড্ডায় রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭ মাত্রা এবং তার মাত্র এক সেকেন্ড পর নরসিংদীতে উৎপন্ন ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন এমন কম্পন ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সাধারণ মানুষের মধ্যে হালকা উদ্বেগ থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়ার যায়নি।

    রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাবাসী এখন অপেক্ষায়—এই কম্পন কি কেবল সতর্কবার্তা, নাকি আরও বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস? সময়ই বলবে তার উত্তর।

  • এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ঢাকায় ৩.৭ ও নরসিংদীতে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, শুরু আতঙ্ক

    এক সেকেন্ডের ব্যবধানে ঢাকায় ৩.৭ ও নরসিংদীতে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, শুরু আতঙ্ক

    এবিএনএ: ঢাকা ও নরসিংদী এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। এর ঠিক এক সেকেন্ড পর নরসিংদীতে ঘটে আরও বড় একটি ভূমিকম্প, যার মাত্রা ৪ দশমিক ৩।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, “দুটি ভূমিকম্প খুব কাছাকাছি সময়ে হয়েছে। প্রথমটি ঢাকার বাড্ডায় ৩.৭ মাত্রায় অনুভূত হয়, এর এক সেকেন্ড পর নরসিংদীতে ৪.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।” তবে নরসিংদীর এ ভূমিকম্পটির গভীরতা বা সঠিক উৎসস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

    এর আগে একই দিনে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প ঘটে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়।

    তবে এর আগের দিন, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদী থেকে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা। সেই ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, আহত হন শতাধিক মানুষ।

    একদিনের ব্যবধানে ৫টির বেশি ছোট ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভূগর্ভে শক্তি সঞ্চয়ের একটি চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়েছে, যা বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থলগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে জানান ভূমিকম্প গবেষকরা।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প হওয়ার অর্থ হলো ভূগর্ভস্থ ফল্ট লাইনে চাপ বেড়ে চলছে। তবে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ঘন ঘন ভূকম্পনের এই ধারা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

  • রাজধানীর বাড্ডা কেন্দ্র করে ভূমিকম্প, বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

    রাজধানীর বাড্ডা কেন্দ্র করে ভূমিকম্প, বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকাবাসী আবারও অনুভব করল ভূমিকম্পের হালকা ঝাঁকুনি। তবে এবার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল শহরের মধ্যেই—বাড্ডায়। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে অনুভূত এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৩। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    টেলিপ্রিন্টার অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা জানান, বাড্ডা এলাকায় উৎপন্ন এই কম্পনটি মৃদু ধরনের হলেও এর তাৎপর্য উপেক্ষা করা যাবে না। কারণ রাজধানীর ভেতরে উৎপন্ন ভূকম্পন ভবিষ্যতে ঝুঁকির সংকেত বহন করে।

    এর আগে একই দিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশে অনুভূত হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূকম্পন। গত বৃহস্পতিবার মাধবদীতে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৭ মাত্রার মাঝারি ভূমিকম্প ছিল একশ বছরের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন।

    আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, ছোট ও মাঝারি ধরনের কম্পনের ধারাবাহিকতা বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, “১৯১৮ সালের পর দেশের ভেতরে মাধবদীর এ ভূকম্পন ছিল সবচেয়ে বড় এক শক। তখন শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।”

    তিনি আরও বলেন, “সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ বছর পরপর বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটে। যেহেতু শত বছর আগে ডাউকি ফল্ট এলাকায় বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, তাই আমরা বর্তমানে বড় ভূকম্পনের দ্বারপ্রান্তে থাকতে পারি।”

    ইতিহাস বলছে, ১৮৬৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৪টি বড় ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ থেকে ৮ দশমিক ৬ এর মধ্যে। ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ১ এবং ১৯৫০ সালে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনের উৎপত্তি ছিল ভারতের আসামে।

    ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল:
    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, কুমিল্লা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অংশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকা শহরের কিছু অংশসহ মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রয়েছে মাঝারি ঝুঁকিতে।

    অন্যদিকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগকে ভূমিকম্পের কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পুনঃপুন সতর্ক সংকেত বিশেষজ্ঞদের আরও প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। প্রস্তুতি, সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপই পারে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করতে।