Tag: রাষ্ট্রপতি

  • সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিএনপির কোনো নিজস্ব ব্যাংক নেই, তবে দেশের মানুষ ভালো করেই জানে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলো রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়া বা ঋণ পুনঃতফসিল কোনো নতুন বিষয় নয়। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, অর্থনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

    তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তার ভাষায়, “অনেক ব্যবসায়ীকে অনুমোদিত ঋণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, এমনকি তাদের ব্যবসা পরিচালনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।”

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের এখন ঋণ খেলাপি বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন বা কারাবন্দি ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেসব গোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যাংক রয়েছে, তারা নিজেদের সুবিধামতো শীর্ষ পদে নিয়োগ দিতে পারেন। ফলে তাদের ঘনিষ্ঠদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এই সুবিধা বিএনপির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনেক সময় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি পেশাদার খাতের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

    রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মন্তব্য

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম-এর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই শপথ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বক্তব্যেও পরিবর্তন এসেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কেউ সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে—এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব।”

  • স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি—নীরবতায় স্মরণ বীর শহীদদের

    স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি—নীরবতায় স্মরণ বীর শহীদদের

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের পরপরই তারা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।

    পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকা ছিল নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

    স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ প্রবাসে থাকা সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত নারী ও স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি জাতি চিরঋণী। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

  • জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদের জামাত—রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে লাখো মুসল্লির মিলনমেলা

    এবিএনএ: রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বসহ হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

    ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা জাতীয় ঈদগাহে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে বিশেষ আবেগের সৃষ্টি করে।

    এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সরকারি আমলা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    ঈদের নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়, যেখানে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত অযুখানা, চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

    বিশেষভাবে নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও অযুর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

  • অমর একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা—ভাষা শহীদদের স্মরণে নীরবতা ও গান

    অমর একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা—ভাষা শহীদদের স্মরণে নীরবতা ও গান

    এবিএনএ: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শনিবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে তিনি শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাজানো হয় কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।

    রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরাও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধিরা, নির্বাচন কমিশনাররা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।

    অমর একুশে উপলক্ষে পুরো শহীদ মিনার এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। বেদিসহ আশপাশে আলপনায় ফুটে উঠেছে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি; দেয়ালে লেখা হয়েছে কবি-লেখকদের স্মরণীয় উক্তি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়, স্থাপন করা হয় ওয়াচ টাওয়ার। সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্ধারিত রুটম্যাপ কার্যকর করা হয়।

  • শপথের রাতেই আবেগঘন শ্রদ্ধা—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেলেন বাবা–মায়ের কবর জিয়ারতে

    শপথের রাতেই আবেগঘন শ্রদ্ধা—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেলেন বাবা–মায়ের কবর জিয়ারতে

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই পারিবারিক আবেগের এক বিশেষ মুহূর্ত কাটালেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গিয়ে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করেন।

    সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকো-র স্ত্রী শর্মিলা রহমান

    দলীয় সূত্র জানায়, কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন। শপথের পর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে এমন পারিবারিক শ্রদ্ধা নিবেদনকে অনেকেই আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

    এর আগে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই আয়োজনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।

  • রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বিচার বিভাগে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামীকাল রবিবার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

    আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে যাচ্ছেন। বয়সসীমা অনুযায়ী তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।

    এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে রবিবার বঙ্গভবনে নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

    দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার আলোকে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচার বিভাগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

  • শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    শারদীয় দুর্গোৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    এবিএনএ: শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় রাষ্ট্রপতি অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন। তিনি বলেন, দুর্গোৎসব জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ, যা সবাইকে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রী পরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. নাসিমুল গনিসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    রাষ্ট্রপতির এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা রাষ্ট্রপতির আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    নির্বাচন নয়, জাতীয় সরকার? পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

    এবিএনএ:

    বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, ঠিক তখনই রাজনীতির অন্তরাল থেকে ভেসে আসছে এক নতুন পরিকল্পনার গুঞ্জন—একটি জাতীয় সরকার গঠনের নীলনকশা। নির্বাচন নয়, বরং একটি অন্তর্র্বর্তী সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় রেখে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।

    জাতীয় ঐকমত্য গঠনের নামে একের পর এক বৈঠক হলেও স্পষ্ট কোনো নির্বাচনী সময়সূচি এখনো সামনে আসেনি। বরং সংস্কার, বিচার ও সংলাপ—এই শব্দগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক পরিসরে। এতে করে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সে নিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের সন্দেহ।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। বিএনপি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে না বলেই তারা মনে করে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একে রাষ্ট্রীয় সংকট হিসেবেই দেখছেন।

    তবে সরকারের দিক থেকে এখনো তেমন কোনো কার্যকর প্রস্তুতি বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত। এই সুযোগেই পর্দার আড়ালে চলছে জাতীয় সরকার গঠনের নানা তৎপরতা। বিভিন্ন মহল, এমনকি কিছু বিদেশি দূতাবাসও এ প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণে একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব সামনে এসেছে, যেখানে জাতীয় সরকার গঠন করে তিন বছর পরে নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। তারা বলছে, আগে সংস্কার চূড়ান্ত করতে হবে, তারপর গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তবেই নির্বাচন হবে।

    জাতীয় সরকারের মূল প্রস্তাবনায় রয়েছে—ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হবেন এবং বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন পক্ষকে অংশীদার করে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে। বিএনপি অবশ্য এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা মনে করে, এটি অন্তর্র্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার অপকৌশল।

    বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ মাসের অন্তর্র্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকারে অংশ নেবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অবিলম্বে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টি বরাবরই নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায়, অন্তত তিন বছর পর নির্বাচন হোক। ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কও এখনো শীতল। বঙ্গভবনের শিষ্টাচারিক রীতিনীতি তিনি উপেক্ষা করেছেন বারবার। এমনকি ঈদেও রাষ্ট্রপতির পাশে নামাজ পড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত পর্দার আড়ালে। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত। বিএনপি যদি শক্তিশালী জনমত গঠন করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে না নামতে পারে, তাহলে হয়তো জাতীয় সরকারের বিকল্প বাস্তবতা সামনে চলে আসবে।

    এখন মূল প্রশ্ন—নির্বাচন হবে, না কি গঠিত হবে একটি আপাত রাজনৈতিক ঐকমত্যভিত্তিক জাতীয় সরকার? এ উত্তর মিলছে না রাজপথে, বরং খোঁজ চলছে কূটনৈতিক মহল ও ড্রইং রুমে।