Tag: রামপাল

  • সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫) কে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

    তিনি বলেন, অভিযানের ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুস সামাদ মোল্লা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সুন্দরবন থেকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শুকদারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে মোংলা থানার আওতাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি এয়ার গান এবং দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক আব্দুস সামাদ মোল্লা বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দস্যু কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বলে জানায় কোস্টগার্ড।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

    প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসন থেকে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে তিনি ১ লাখ ২ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

    রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সুপরিচিত। বিশেষ করে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তার উদ্যোগে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন, যা এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম প্রতিক্রিয়ায় জানান, ডা. লায়ন ফরিদুল ইসলাম বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় জেলাবাসী আনন্দিত। তিনি বলেন, অবহেলিত বাগেরহাটবাসীর জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেলাবাসীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। আগামী দিনে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাগেরহাট জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাই কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    এবিএনএ ,বাগেরহাট: ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাগেরহাট-৩ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাসমান ভোটারদের ভূমিকা এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠায় হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    মোংলা ও রামপাল উপজেলা এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মূল লড়াইটি গড়ে উঠতে পারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে।

    ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একইভাবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

    তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে তিনি ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভাসমান হওয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।