Tag: রাজনৈতিক সমাবেশ

  • জনরায় উপেক্ষা মানেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা—বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের তীব্র হুঁশিয়ারি

    জনরায় উপেক্ষা মানেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা—বায়তুল মোকাররমে ১১ দলের তীব্র হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতারা। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রায় উপেক্ষা করা হলে তার পরিণতি ফ্যাসিবাদের মতোই ভয়াবহ হতে পারে।

    ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে অনিয়ম, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার ও গণতন্ত্রের পক্ষে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা অগ্রাহ্য করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতারা।

    বিক্ষোভ শেষে নেতারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে রাজপথের কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

  • রক্তচক্ষুকে ভয় নয়, আল্লাহভীতিতেই রাজনীতি: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমানের দৃপ্ত ঘোষণা

    রক্তচক্ষুকে ভয় নয়, আল্লাহভীতিতেই রাজনীতি: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমানের দৃপ্ত ঘোষণা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে নর্থ বেঙ্গলের মৃতপ্রায় নদীগুলোর পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নদী বাঁচলে এ অঞ্চলের জীবন-জীবিকাও নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য নর্থ বেঙ্গলকে একটি শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে রূপান্তর করা। এখানকার মানুষ অযৌক্তিক কিছু চায় না—তারা শ্রমনির্ভর জীবনযাপন করে এবং ন্যায্য সুযোগ পেলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, ভয় করি একমাত্র মহান আল্লাহকে। দেশে কোনো আধিপত্যবাদী প্রভাব দেখতে চাই না। তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই—কোনো খবরদারি নয়, আবার নিজেদের ভূখণ্ডে অন্যের খবরদারিও মেনে নেওয়া হবে না।

    ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার তুলতে হবে। সেই জোয়ারে পুরোনো ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেসে যাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    সমাবেশের শেষাংশে দশ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে ৩০০ ফিটে জনস্রোত, উৎসবের রঙে বিএনপির মহাসংবর্ধনা

    তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে ৩০০ ফিটে জনস্রোত, উৎসবের রঙে বিএনপির মহাসংবর্ধনা

    এবিএনএ: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে বিএনপির রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় ১৭ বছর পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবের আয়োজন।

    মঙ্গলবার দুপুর গড়াতেই কুড়িল সংলগ্ন ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের ৩০০ ফিট অংশজুড়ে দেখা যায় বিপুল ভিড়। সেখানে নির্মিত হচ্ছে বিশাল গণসংবর্ধনার মঞ্চ। এই মঞ্চ থেকেই আগামী ২৫ ডিসেম্বর দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততায় মুখর পুরো এলাকা। লোহার কাঠামো স্থাপন, সাউন্ড সিস্টেম বসানো, আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনের কাজ একযোগে চলছে। বিশাল ব্যানার ও ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠছে—‘স্বাগতম তারেক রহমান’, ‘গণতন্ত্রের বিজয়’সহ নানা স্লোগান।

    এই আয়োজন ঘিরে শুধু ঢাকাই নয়, সারাদেশের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল উদ্দীপনা। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা নিয়মিত এসে প্রস্তুতির অগ্রগতি তদারকি করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে গঠিত বিশেষ কমিটি দিন-রাত কাজ করে অনুষ্ঠানকে সফল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    ৩০০ ফিট ছাড়াও রাজধানীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে দলীয় পতাকা, পোস্টার ও বিলবোর্ড। ‘লিডার আসছে’, ‘বিজয়ীর প্রত্যাবর্তন’—এমন বার্তায় সাজানো পুরো শহর যেন এক রাজনৈতিক উৎসবের রূপ নিয়েছে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ২৫ ডিসেম্বরের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েক দশকের মধ্যে দলের সবচেয়ে বড় জনসমাগম ঘটতে পারে। তাদের প্রত্যাশা, ৫০ লাখের বেশি নেতা-কর্মী ও সমর্থক এই মহামিলনে অংশ নেবেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠে থাকবেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে সুশৃঙ্খল কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সারাদেশ থেকে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আনতে বাস ও লঞ্চের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি সংযোজনের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

    নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা মঞ্চে যাবেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখবেন।

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে নেতা-কর্মীদের চোখেমুখে এখন একটাই প্রত্যাশা—এই দিনটি যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

  • আমরা অনিরাপদ হলে প্রতিপক্ষও নিরাপদ থাকবে না: মাহফুজ আলম

    আমরা অনিরাপদ হলে প্রতিপক্ষও নিরাপদ থাকবে না: মাহফুজ আলম

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেছেন, দেশের জনগণকে অনিরাপদ অবস্থায় রাখার চেষ্টা হলে প্রতিপক্ষ শক্তিকেও নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

    মাহফুজ আলম বলেন, অতীতে নিজেদের সংযম ও সহনশীলতার কারণে কিছু গোষ্ঠী সহিংসতায় জড়ানোর সাহস পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, প্রয়োজনে প্রতিরোধের আন্দোলনও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিফলিত হতে পারে।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের নামে একদিকে বিচার প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও অন্যদিকে আইনের ফাঁক গলে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া ও সেখান থেকে সহিংসতা চালানোর ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

    বিদেশি স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ সহযোগীদের প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নই আসে না। দেশের জনগণ নিরাপদ না থাকলে প্রতিপক্ষ শক্তিও নিরাপদ থাকতে পারবে না।

    তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু আদর্শ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক চর্চার কারণে বহু মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থার বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছে, তাদের অন্যতম একজন ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।