Tag: রাজনৈতিক সংস্কার

  • নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের সঠিক ধারায় ফিরে আসা দরকার। বুধবার সকালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ-কে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে বিএনপি। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রে যাত্রার পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন সকল রাজনৈতিক দলকে মিলেই দেশের জন্য সঠিক পথ খুঁজে নিতে হবে। যত দ্রুত নির্বাচনমুখী ট্র্যাকে দেশ ফিরবে, ততই মঙ্গল।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা ভুল। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন না হলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে। আর সে কারণেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি। নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়, বরং দুটি একসাথে চলতে পারে।”

    এক প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ‘ফ্যাসিস্ট’ পন্থায় দেশ চালাচ্ছে এবং বিএনপি হচ্ছে সেই শাসনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম। তিনি বলেন, “আমার নামে রয়েছে ১১২টি মামলা, আমি ১৩ বার জেলে গিয়েছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

    শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে ফখরুল বলেন, “আমি মনে করি, শেখ হাসিনা হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে এবং যারা গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। প্রয়োজনে দলগতভাবে বিচার হওয়াও সময়ের দাবি।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়, শান্তি চায়, গণতন্ত্র চায়। এ জন্য একটি নির্বাচিত সরকার দরকার, যে সরকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, জবাবদিহিতার জায়গায় দাঁড়াবে।

  • ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব, দেরির কোনো যুক্তি নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং এর পরে সময়ক্ষেপণের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব।

    রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সোমবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধন ছাড়া যেসব নির্বাচন-সম্পর্কিত সংস্কার দরকার, তা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই বাস্তবায়নযোগ্য। তাই জাতীয় নির্বাচন পেছানোর মতো কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো সংস্কার দেখছি না যা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে না। বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই ডিসেম্বরের মধ্যেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আমাদের প্রস্তাবও সেটাই।”

    বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন জানান, “আজকের আলোচনায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়। প্রধান উপদেষ্টা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশাবাদী।”

    জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব দলে সব বিষয়ে একমত হওয়া নাও হতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং ধীরে ধীরে একটি ব্যাপক ভিত্তির ঐক্য তৈরি করা সম্ভব হবে।”

    বিএনপি প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আজাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং এনসিপির নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।