Tag: রাজনৈতিক সংকট

  • ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধাক্কা! পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

    ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধাক্কা! পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার। ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে তিনি ইতোমধ্যে নিজের পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

    রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন স্টারমার। তবে তিনি নিজের সুবিধাজনক সময় ও শর্ত অনুযায়ীই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চান।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্টারমার। তাই মর্যাদা বজায় রেখেই সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    এদিকে লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা কমে গেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

    পিটার মেন্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার অতীত যোগাযোগের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবিও স্টারমারের নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপ ও জনসমর্থন কমে যাওয়ায় স্টারমারের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে তার পদত্যাগ এখন ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

  • ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পবিত্র ঈদুল ফিতর দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর জন্য এবারের ঈদ ছিল বিষণ্নতায় ঘেরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও কারাবাসের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঈদের সময় অন্তত দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে জানান তারা।

    মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জানা গেছে, অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেননি। কোথাও সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা সবার মধ্যে পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, চাল ও নগদ সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না এবং প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

    এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ঈদের দিন তো দূরের কথা, এর আগেও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মীদের খোঁজখবর নেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, তারা কোনো পদ বা সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দলের আদর্শে বিশ্বাস করেই রাজপথে সক্রিয় থাকেন। কিন্তু ঈদের মতো সময়ে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

    তাদের আরও অভিযোগ, নেতারা নিজেদের প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশার দিকে নজর দিচ্ছেন না।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এমন অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেত্রী নাইনুর লিপি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল অনুকূল অবস্থানে থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হচ্ছে না। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মোংলা পৌর যুবদলের এক নেতা জানান, দুর্দিনে কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও দলীয় পর্যায়ে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন।

    এদিকে, বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সহায়তা কারা পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    তবে একই এলাকায় ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

    সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ মোংলার তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকল। এখন দেখার বিষয়, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেন কি না।

  • ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে দেশে সহিংসতা, বিভাজন ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে দলটি জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে জামায়াতের ভূমিকা উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

    বিবৃতিটি পাঠান এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। এতে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার যে প্রমাণ-ভিত্তিক বক্তব্য দেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত।

    এনসিপি দাবি করে, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৭ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষের সময় গুলি চালানো তুষার মণ্ডলের পরিচয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে—তিনি জামায়াতের কর্মী। তাকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করে এনসিপি।

    দলটি আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও জামায়াত সেই পথ অনুসরণ না করে পুরোনো সহিংসতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাইছে। নতুন রূপে ‘সহিংস খেলায়’ অংশ নিতে চাইছে—যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অশুভ সংকেত।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মের অপব্যবহার, অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি ও সংঘাত সৃষ্টি—এসবই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করে এনসিপি। পাশাপাশি তারা জামায়াতকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

    এর আগে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন—নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো কিছু দল অস্ত্রের মহড়ায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রোববার এক প্রতিক্রিয়া বিবৃতিতে জামায়াত এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া, অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করে এবং আখতার হোসেনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

  • দেশে পরিকল্পিতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

    দেশে পরিকল্পিতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “বর্তমান সংকট কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফল নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা হয়েছে।”

    বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “৭ নভেম্বর ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধের দিন। এই দিনেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। আজ সেই গণতান্ত্রিক ধারাই পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে পথ, সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে জনগণের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই সংকটের পেছনে আছে একটি সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য।”

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এখনই সময় ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ।

  • সব দলের ক্ষোভ একজায়গায়: সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা

    সব দলের ক্ষোভ একজায়গায়: সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা

    এবিএনএ:  স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই বিপ্লবের পর যে অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছিল, সেই সরকারের বিরুদ্ধে এখন উঠেছে তীব্র অভিযোগের ঝড়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার সম্পর্কে বিরোধী দলগুলো বলছে— জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তারা।

    প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য দল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্যসহ একাধিক রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সরকার ও কমিশন উভয়ই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত করার চক্রান্ত চলছে।”

    জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আর দেরি করলে সরকার জনআস্থা হারাবে। এখনই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।”

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেন, “যে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, তার কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা বৃথা। দেশের সংকট কাটাতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

    এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখা যাবে না। অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক মনে করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা আমাদের সমর্থনের পরিসীমায় পড়ে না।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বাংলাদেশে বারবার স্বৈরাচার পতনের পর নতুন স্বৈরাচারের জন্ম হয়—এটাই আমাদের রাজনৈতিক দুর্ভাগ্য।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সতর্ক করে বলেন, “জুলাই সনদের নামে রাজনীতিতে বিভাজন বাড়ছে। এই বিভক্তি থাকলে নির্বাচনের সময়সূচি ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই বিপ্লবের পর গড়ে ওঠা ঐক্য আজ ভেঙে পড়ছে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দলটি এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপি কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচক বলে দাবি করছে।

    এই বিভক্ত অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘না’ লিখে পোস্ট দিচ্ছেন, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় ব্যস্ত।

    ফলে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “যে সিদ্ধান্তই হোক, নির্বাচন ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই হবে।”

    তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, “জুলাই সনদ ইস্যুর সমাধান না হলে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।”

    সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে—প্রায় সব দল সরকারের বিরুদ্ধে একজোট, অথচ নির্বাচনের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • “ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দেব না” – নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি

    “ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দেব না” – নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি

    এবিএনএ:  নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর পদত্যাগ করে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তবে শনিবার প্রথমবার জনসম্মুখে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দেশ ছেড়ে পালাবেন না।

    দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভক্তপুরে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) যুব সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অলি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন আমরা এই ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দিয়ে পালিয়ে যাব? তা কোনোদিনই হবে না।”

    অলি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আমরা দেশকে ফেরাব সাংবিধানিক মূলধারায়। শান্তি ও সুশাসনের পথে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের রায়ের ভিত্তিতে নয়, বরং অগ্নিসংযোগ আর সহিংসতার মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিক্ষোভের সময় তাঁর প্রশাসন কী নির্দেশ দিয়েছিল তা সরকার চাইলে প্রকাশ করতে পারে। “সাহস থাকলে সেই রেকর্ড প্রকাশ করুন,” বলেন তিনি।

    অলি অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পাসপোর্ট স্থগিত করার, মামলা দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এতে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নতুন বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, বিক্ষোভকারীরা গত ৯ সেপ্টেম্বর ভক্তপুরে অলির ব্যক্তিগত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এরপর থেকে তিনি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ছিলেন। ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

    অলির এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যেও তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান এবং দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের পথে ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • ঢাকায় সাত দলের যুগপৎ আন্দোলন: পিআর নির্বাচনের ফয়সালা গণভোটেই চাই জামায়াত ও চরমোনাই

    ঢাকায় সাত দলের যুগপৎ আন্দোলন: পিআর নির্বাচনের ফয়সালা গণভোটেই চাই জামায়াত ও চরমোনাই

    এবিএনএ:  রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতটি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর) পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য গণভোট দাবি করে। একই সঙ্গে অপর পাঁচ দলও জুলাই সনদের সাংবিধানিক বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়।

    পুরানা পল্টন, গুলিস্তান ও প্রেস ক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের কারণে বিকেলজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, অফিস শেষে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জামায়াত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সমাবেশে বলেন, “এখনই জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার সময়। সাংবিধানিক আদেশ অথবা গণভোট ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি সতর্ক করে দেন, বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন হলে আবার ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে।

    অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, জনগণ যদি গণভোটে পিআরকে সমর্থন না করে তবে তাদের দল এই দাবিতে অনড় থাকবে না। তবে বিএনপির সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি জনতার ওপর আস্থা থাকে, তবে গণভোটে যেতে আপত্তি কোথায়?”

    খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ সতর্ক করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় বিপর্যয় অনিবার্য।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে সনদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য।

    আজ বিভাগীয় শহরগুলোতে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সাত দল।

  • কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে: সালাহউদ্দিন

    এবিএনএ: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র কিছু আসনের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাওয়ার চেষ্টা হলে তা দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তার মতে, দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং স্বৈরাচারী শক্তিগুলো সুযোগ নেবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন করা একটি পরীক্ষিত প্রক্রিয়া। এর বাইরে গিয়ে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা আসনের লোভে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবি তোলে, তা হবে জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত।

    সালাহউদ্দিন আরও জানান, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব নেই। তবুও যদি কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলনে নামে, বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই তার মোকাবিলা করবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়মতো নির্বাচন না হলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বৈধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে যে কোনও সংশোধন এলে বিএনপি তা সমর্থন করবে। তবে এমন কোনও প্রক্রিয়া তারা সমর্থন করবে না যা ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করবে।

    তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব, সংঘাত বা অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপে নয়।

  • নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি

    নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি

    এবিএনএ:  নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। শুক্রবার নেপালের প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জানা যায়, আন্দোলনরত জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এবং সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেলের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন সবাই। আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সুশীলা কার্কির নাম চূড়ান্ত করা হয়।

    দেশটির সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেপালের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এ মুহূর্তে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী করা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    বাগেরহাটে আসন সংকোচন ঘিরে টানা হরতাল, রাস্তায় আগুন-বাঁশ, থমকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলাব্যাপী হরতাল পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা সকাল থেকেই শহর ও গ্রামীণ সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। কিছু এলাকায় বেঞ্চ পেতে বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দূরপাল্লার সব বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

    জেলা সর্বদলীয় ঐক্য কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ১৩০টির বেশি স্থানে স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাগেরহাট কার্যত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আন্তঃজেলা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এক প্রকার অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

    পণ্য পরিবহনেও ধস:
    বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, ধরাটা না সেতু, ফতেপুর বাজার ও সিএনবি মোড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। চালকরা রাস্তার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। পচনশীল পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ বিলম্বে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    দোকানপাটও বন্ধ:
    হরতালের প্রতি সংহতি জানিয়ে অধিকাংশ দোকান মালিক তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। এতে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।

    রাতেও অবরোধ:
    বুধবার শুরু হওয়া হরতাল রাতেও অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা রাতেও বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ফলে রাতভর কোনো যানবাহন চলেনি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, রাতের সড়ক অবরোধ দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    আন্দোলনের পেছনের কারণ:
    ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ঘোষিত খসড়া অনুযায়ী, বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার পরিকল্পনা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাগেরহাটবাসী তীব্র প্রতিবাদ জানায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় এবং তাতে তিনটি আসনই বহাল রাখা হয়।

    বর্তমান আসন বিন্যাস (২০২৫):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    পূর্ববর্তী বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    সর্বদলীয় কমিটির নেতারা বলছেন, এই আসন সংকোচনের সিদ্ধান্ত জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।