Tag: রাজনৈতিক জোট

  • জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এবার উন্মুক্ত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওমর ফারুকের মা রুবি আক্তার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে তিনি এ দাবি জানান।

    চট্টগ্রামে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচনী সফরকালে বোয়ালখালীর ফুলতলায় আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে রুবি আক্তার বলেন, এই আসনে দলীয় হিসাবের চেয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এলাকার মানুষ যাকে চেনে ও বিশ্বাস করে, তাকেই ভোট দিতে চায়।

    এই দাবি উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ১০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জোটের ভেতরে ও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা শুরু হয়।

    মনোনয়ন যাচাইয়ে জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিস—এই তিন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে খেলাফত মজলিস প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এনসিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    যদিও পরে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তবু মাঠপর্যায়ে আবু নাছেরের সমর্থকদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকে। এতে ভোটের সমীকরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় ডা. আবু নাছের একজন পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণায় এনসিপির প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন বলেই আলোচনা চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবি আক্তার বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কখনো বিক্রি হয়নি এবং স্থানীয় মানুষের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জোটের ভোটের হিসাব সীমিত হলেও স্থানীয় ভোটই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

    এদিকে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ দাবি করেন, জোট ঐক্যবদ্ধ থাকলে আসন ধরে রাখা সম্ভব। তবে রুবি আক্তারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত না কি স্থানীয় জনগণের রায়।

  • ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী সমঝোতা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নবগঠিত দল এনসিপিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। দলটির দাবি অনুযায়ী আসন না পেলে তারা জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচনী সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত এনসিপিকে ৩০টির মতো আসন ছাড়তে প্রস্তুত হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি আসন দিতে নারাজ। আগে যেখানে জামায়াত ১৮০ থেকে ১৯০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে এখন দলটি অন্তত ২০০ আসনে নিজস্ব প্রতীক দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রাখতে চায়।

    ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের পরিকল্পনা ছিল ১২ জানুয়ারি একযোগে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা। তবে আসন বণ্টনে ঐকমত্য না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব দল একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করবে।

    তবে জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আলোচনার বদলে জটিলতাই বাড়ছে। ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি এবি পার্টিও পর্যাপ্ত আসন না পেলে জোটে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

    জামায়াত সূত্র জানায়, এনসিপির পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছে। চরমোনাই পীরের দল শুরুতে ১৫০ আসন চাইলেও ধাপে ধাপে কমিয়ে এখন ৭০ আসনের নিচে নামতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।

    জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন পাবে ৪০টি আসন, এনসিপি ২৮ থেকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৪টি, এলডিপি ও খেলাফত মজলিস পাঁচটি করে এবং এবি পার্টি তিনটি আসন। বাকি প্রায় ২০০ আসনে জামায়াত নিজেই প্রার্থী দেবে।

    এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করছেন, জামায়াত তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে আসন ছাড়ছে না। বরং যেসব এলাকায় জামায়াত দুর্বল, সেসব আসনই চরমোনাইকে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত নিজের শক্ত অবস্থান থাকা এলাকাতেও এনসিপিকে ছাড় দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনে তারা এককভাবেও নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, এনসিপিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

    জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এনসিপির জনসমর্থন তাদের জরিপে প্রায় ৭ শতাংশ। সাংগঠনিক শক্তি না থাকায় এই ভোট বিএনপিতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জামায়াত নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে এনসিপিকে শক্ত অবস্থানে আনতে চায়।

    এদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ৩০ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের সমঝোতা মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে।

    মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এর আগেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলগুলোকে। না হলে ইসলামপন্থি এই বৃহৎ জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • শেষ মুহূর্তে বড় রদবদল: একাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন

    শেষ মুহূর্তে বড় রদবদল: একাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত মনোনয়ন তালিকায় একাধিক পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। সর্বশেষ রোববার বিভিন্ন আসনে নতুন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

    বিএনপির তথ্যমতে, জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে দলটি। এ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের জন্য। এর আগে এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।

    চট্টগ্রাম-৪ আসনে পূর্বঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্বাচনী আসন পরিবর্তন করে তাকে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাতীয়তাবাদী পাটশ্রমিক দলের সভাপতি সাইদ আল নোমানকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

    যশোর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। যশোর-১ আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির পরিবর্তে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যশোর-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ূবের স্থলে অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজীকে প্রার্থী করা হয়েছে।

    এ ছাড়া যশোর-৫ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের বদলে জোট শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যশোর-৬ আসনে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের পরিবর্তে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে প্রার্থী করেছে দলটি।

    পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের পরিবর্তে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এসব মনোনয়নপত্রে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষর করেন।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি দল। নতুনভাবে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দুই দলের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ সময় এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে তারা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এনসিপি নিজস্ব উদ্যোগে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলেও জানান তিনি।

    জোটের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসন নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি শেষ সময়ে যোগ দেওয়ায় কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে, তবে মনোনয়নপত্র জমার পর আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে জোট কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

    এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করে ৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট কিংবা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি নীতিগত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।

    শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, দলের ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে’ সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার আলোচনা দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কৌশলগত সুবিধার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছরে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নারী নেত্রীদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

    এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    নেতারা আরও বলেন, এনসিপি একটি গণঅভ্যুত্থান-উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় বহন করে। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের সমর্থকভিত্তি ক্ষয় হবে।

    চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

    স্মারকলিপির শেষে তারা সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যৎ জোটনীতি নির্ধারণে নীতিগত প্রশ্নগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে।

  • আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণার পথে বিএনপি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী তফসিলের পর

    আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণার পথে বিএনপি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী তফসিলের পর

    এবিএনএ: বিএনপি খুব শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে শুধুমাত্র নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর, পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে।

    শুক্রবার গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিটি আসনে দুইজন নয়, অনেক আসনে পাঁচ থেকে দশজন পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী আছেন। তাই একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই হচ্ছে। খুব শিগগিরই একক প্রার্থীদের মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হবে।”

    তিনি আরও জানান, সব প্রার্থীর কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ধানের শীষের প্রতীকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। যাকেই প্রার্থী করা হবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা এখন কোনো নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি দিচ্ছি না। তবে জনসংযোগ ও প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কাজ জোরদার করছি।”

    জোট ও আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আলোচনা চলছে এবং যেসব আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি, সেগুলো নিয়েই মূলত সমঝোতা হবে। তবে এনসিপির সঙ্গে আসনভিত্তিক আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো তারা আন্দোলনকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে।”

    প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনেই কার্যকর হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে।”

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইসিটি কোর্টে মামলা করার। একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদ প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

  • “একবাক্স ভোটে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থীরাই হবে আগামী দিনের শাসক” — চরমোনাই পীর

    “একবাক্স ভোটে জোটবদ্ধ ইসলামপন্থীরাই হবে আগামী দিনের শাসক” — চরমোনাই পীর

    এবিএনএ: ইসলামপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে ঐক্যের, এবং সেই ঐক্যের মাধ্যমে আগামী দিনে ইসলামি দলগুলোই হবে দেশের মূল রাজনৈতিক শক্তি—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

    শনিবার বিকেলে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আমরা ৫৪ বছরে নানা দলকে ক্ষমতায় দেখেছি, কিন্তু ইসলামপন্থীরা কখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় আসতে পারেনি। এবার যদি আমরা সব ইসলামপন্থী দল ও দেশপ্রেমিক দলগুলোকে নিয়ে কার্যকর একটি ঐক্য গড়তে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এবার নেতৃত্ব আমাদের হাতেই আসবে।”

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, তিনি শুরু থেকেই ‘একবাক্স ভোট’ নীতির পক্ষে। শুধু ইসলামি দল নয়, বরং অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলগুলোকেও একসাথে নিয়ে জোট গঠনের কাজ চলছে।

    তিনি দাবি করেন, “এখন সময় এসেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়ার। যে যত শতাংশ ভোট পাবে, সে তত শতাংশ আসনে প্রতিনিধিত্ব করবে—এটাই জনগণের দাবি। এমনকি বিএনপিকেও এই পদ্ধতিতে নির্বাচনে আসা উচিত।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে কঠোর অবস্থানে আছে এবং কেউ যদি এই সংস্কারে বাধা দেয়, তাহলে তা ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

    সংবিধান প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের চাহিদা ও বিশ্বাসকে উপেক্ষা করেছে। সময় এসেছে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন দিকনির্দেশনার।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলামপন্থী রাজনীতির একটি সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ গঠনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব একসূত্রে আবদ্ধ থাকবে।