Tag: রাজনৈতিক আলোচনা

  • কে হচ্ছেন স্পিকার-উপনেতা-চিফ হুইপ? ১৩তম সংসদের শীর্ষ তিন পদ ঘিরে জোর আলোচনা

    কে হচ্ছেন স্পিকার-উপনেতা-চিফ হুইপ? ১৩তম সংসদের শীর্ষ তিন পদ ঘিরে জোর আলোচনা

    এবিএনএ: আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদায়ী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কেউ সংসদ সদস্যদের শপথ ও প্রথম বৈঠকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে সিনিয়র কোনো সংসদ সদস্য দিয়ে প্রথম বৈঠক পরিচালনার নজির রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদের অধিবেশনেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

    এ পরিস্থিতিতে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্যদের কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে যাঁরা মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন, তাঁদের দিয়ে অধিবেশন পরিচালনার সম্ভাবনা কম। আবার যাঁদের স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাঁরাও প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারবেন না—এমন বিধান রয়েছে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইতোমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমান–কে নির্বাচিত করেছে। তবে নতুন সংসদে স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে কারা আসছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে নানামুখী আলোচনা চলছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ উপনেতা হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর নাম ঘুরে ফিরে আসছে। স্পিকার পদে আইনজীবী পটভূমির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার রীতি থাকায় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে।

    ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজানের মধ্যে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। আর চিফ হুইপ পদে জয়নুল আবেদীন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু ও নুরুল ইসলাম মনির নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

    এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে মাত্র—শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসবেন, তা সময়মতো জানা যাবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ‘মব ভায়োলেন্স থেকে বেরিয়ে আসলেই প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র’: মির্জা ফখরুল

    ‘মব ভায়োলেন্স থেকে বেরিয়ে আসলেই প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্র’: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সহনশীলতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অটুট রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে ভিন্নমতকে সম্মান করা, আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু যখন আমরা মব ভায়োলেন্স বা সহিংস ভিড়তন্ত্রে জড়িয়ে পড়ি, তখন গণতন্ত্রের আসল চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।’

    বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একটা পরিবর্তনের পথে হাঁটছি। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, শিডিউল এখনও হয়নি, কিন্তু নির্বাচনই শেষ কথা নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, সেটাই আসল অর্জন।’

    গণতন্ত্রের মূল বার্তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তোমার মতের সঙ্গে আমি একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আমি আমার জীবন দিয়েও তা ধরে রাখব— এটাই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি টেকসই রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে গণতন্ত্রকে বাস্তবভাবে প্রতিপালন করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কার্যকর সংসদ, স্বচ্ছ মিডিয়া ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে।’

    রাজনীতিতে বিভাজন ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু মহল সচেতনভাবে দেশের ভিন্নমতের মানুষের মধ্যকার বিভক্তি বাড়াতে চাইছে, যাতে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে এগোনো বন্ধ হয়। এগুলো আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

    তিনি বিএনপির ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিএনপি বিপ্লবী নয়, এটি একটি লিবারাল ডেমোক্রেটিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতেই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসছি।’

    অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল হক, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

  • একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব, ব্যয় ও সময় বাঁচাবে—সালাহউদ্দিন আহমদ

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব, ব্যয় ও সময় বাঁচাবে—সালাহউদ্দিন আহমদ

    এবিএনএ:  সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে বা আরপিও সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, আইনগতভাবে এমন কোনো বাধা নেই যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা যাবে না। বরং একই দিনে আয়োজন করলে প্রশাসনিক ব্যয়, সময় ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ অনেক কমে যাবে।

    সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আগামী নির্বাচন গুণমানসম্পন্ন ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক যুব ঐক্য এই আলোচনার আয়োজন করে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, “গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হলে ব্যয় কমবে, ভোটারদের জন্যও সুবিধা হবে। একই ব্যালট বক্স, একই ভোটকেন্দ্র, একই প্রশাসনিক ব্যবস্থা—সবকিছু একসঙ্গে ব্যবহৃত হতে পারে। আলাদা দিনে আয়োজন করলে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগবে।”

    তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ বলছেন আগে গণভোট, পরে নির্বাচন—এটি অপ্রয়োজনীয় জটিলতা। এসব অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন।”

    অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আগে যেখানে মানুষ নির্বাচনের বিষয়ে সন্দিহান ছিল, এখন তা কেটে গেছে। নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনেই সব পক্ষের নজর দেওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের কোনো আইনি বাধা নেই। মূল বিষয় হলো প্রার্থীদের নীতি, কর্মসূচি ও জনগণের আস্থা অর্জন করা। ভোটাররা এখন শুধু ‘মার্কা’ নয়, প্রার্থীর যোগ্যতাও বিবেচনা করছেন।”

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাইফুল হক, তানিয়া রব, মুজিবর রহমান মঞ্জু, রাশেদ খান ও হাসনাত কাইয়ুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।