Tag: রাজনৈতিক আন্দোলন

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • শাহবাগে হঠাৎ সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আহত ৩০—রক্তাক্ত ইনকিলাব মঞ্চ

    শাহবাগে হঠাৎ সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আহত ৩০—রক্তাক্ত ইনকিলাব মঞ্চ

    এবিএনএ: রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে শুক্রবার বিকেলে পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে অন্তত ৩০ জন আন্দোলনকারী আহত হন। আহতদের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা এবং রাকসুর নেতা সালাউদ্দিন আম্মার রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের স্থাপন করা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে।

    ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সম্প্রতি সংগঠনের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে ওই এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত বহু আন্দোলনকারী সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, অধিকাংশ আহত ব্যক্তি লাঠিপেটা ও দৌড়ঝাঁপের সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো গুলিবিদ্ধ রোগী শনাক্ত হয়নি।

    তবে সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই দাবি নিশ্চিত করেনি।

    ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ফারুক জানান, আহতের সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ জনের মধ্যে হতে পারে। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

    এর আগে একই দিনে যমুনার সামনে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচিকেও কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে, যেখানে কয়েকজন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

  • আধিপত্যবাদবিরোধী স্লোগানে মুখর রাজধানী

    আধিপত্যবাদবিরোধী স্লোগানে মুখর রাজধানী

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ব্যাপক বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আধিপত্যবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শুক্রবার পুরো শাহবাগ এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শাহবাগে জড়ো হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়তে থাকায় শাহবাগ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    সমাবেশস্থলে ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’, ‘হাদি ভাই কবরে—খুনি কেন বাইরে’, ‘আজাদী না রাজপথ—রাজপথ, রাজপথ’সহ নানা স্লোগানে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটলেও তাদের সহযোগীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তিনি হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যু একটি আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মাটিতে কোনো বিদেশি প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া রায়েরবাগ থেকে আসা বাবলা ও সজীব বলেন, একজন সাহসী কণ্ঠস্বরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতেই তারা রাজপথে নেমেছেন।

    কাঁঠালবাগান থেকে আগত মৌসুম সিদ্দিক বলেন, গণআন্দোলনের পরও এমন হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা। তিনি অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

    সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও জুলাই ঐক্য, এবি পার্টি, ডাকসু, জাগপাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • উত্তাল চট্টগ্রাম​, হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি​

    উত্তাল চট্টগ্রাম​, হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি​

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম​: শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে চট্টগ্রামে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দুই নম্বর গেইটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুসারীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী দুই নম্বর গেইট মোড়ে জড়ো হয়ে সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেন। এতে নগরীর এই ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের চট্টগ্রাম মহানগরের এক সংগঠক বলেন,’শরীফ ওসমান বিন হাদি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি আমাদের আন্দোলনের সাহস ও অনুপ্রেরণা ছিলেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি এই ঘটনায় গড়িমসি করে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে।​

    বিক্ষোভ চলাকালে তারা চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ঘোষণা দেন এবং হাইকমিশন বন্ধের দাবি তোলেন। এছাড়া নগরের অন্যান্য এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে।​ রাত ১১টার পরে বিক্ষুব্ধরা দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চশমা হিলের বাসভবনের দিকে যান। সেখানে ভবনের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালান।

    এদিকে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। কারও ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।”

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, হাদির মৃত্যুর পেছনে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার বক্তব্য না আসায় জনমনে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

  • পিআর নয়, নির্বাচনই আগে — মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা: পদ্ধতি দিয়ে বিলম্ব চান কিছু রাজনৈতিক দল

    পিআর নয়, নির্বাচনই আগে — মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা: পদ্ধতি দিয়ে বিলম্ব চান কিছু রাজনৈতিক দল

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতি নিয়ে কথাবার্তা চালানো ও আন্দোলন মূলত নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। রবিবার ঢাকায় ডিআরইউতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের কোনো প্রস্তাবে পিআর পদ্ধতি নেই—বাহির থেকে কেবল কিছু রাজনৈতিক শক্তি এটাকে অজুহাত বানিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলছে।

    ফখরুল বলেন, “তাদের লক্ষ্য একটাই — নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়া। জনগণের হাতে ক্ষমতা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটাকেই তারা স্থগিত করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় নয় এবং চাপিয়ে দিলে জনগণ গ্রহণ করবে না। আলোচনা সভায় রাখা প্রশ্নে উপস্থিত নেতাদের অনেকেই স্বীকার করেন, তারা পিআর পদ্ধতিটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

    মির্জা ফখরুল মনে করিয়ে দেন, বিএনপি আগেই বলেছে—আসন্ন নির্বাচনের জন্য নেই কোনো বিলম্ব; অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটমেন্ট অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা সেটাই দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, “জনগণ পরীক্ষিত ও কাজ করা সেই দলকেই বেছে নেবে, যে দল মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে।”

    বিএনপির শীর্ষনেতার ভাষ্য, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি রক্ষা করতে জনগণের ঐক্য ও সচেতনতা প্রয়োজন; যে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তকে জনগণই মোকাবিলা করবে। তিনি জনগণকে নেতৃত্ব, ঐক্য ও প্রতিবাদী মনোভাব বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন।

  • “বাগেরহাটে তিনদিনের আংশিক হরতাল, খোলা থাকবে দোকানপাট ও বাজার, চলবে রিকশাও”

    “বাগেরহাটে তিনদিনের আংশিক হরতাল, খোলা থাকবে দোকানপাট ও বাজার, চলবে রিকশাও”

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে পূর্বঘোষিত টানা তিন দিনের হরতাল কর্মসূচির পরিধি ও সময় আংশিক পরিবর্তন করে নতুন ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম।

    তিনি বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে হরতালের সময় ও আওতা সীমিত করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।”

    🔔 নতুন হরতাল সময়সূচি:

    • সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর): সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা

    • মঙ্গলবার ও বুধবার: সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত

    হরতালের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলবে। তবে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলবে না।

    সর্বদলীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় ছোট সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যান চলাচল হরতালের আওতায় পড়বে না। জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন যেমন—অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরীক্ষার্থীদের পরিবহন ইত্যাদিও থাকবে হরতালের বাইরে।

    🎤 কমিটির নেতাদের বক্তব্য:

    কমিটির সদস্য সচিব শেখ মো. ইউনুস বলেন, “এই আন্দোলন জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন। তাই আমরা তাদের দুর্ভোগ চাই না।”

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দীপু জানান, “আমরা উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে এবং জনগণের দাবির প্রতি সুবিচার হবে।”

    🔄 কর্মসূচির পরিবর্তন:

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় কমিটি হরতালের পাশাপাশি রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে ঘোষিত কর্মসূচির পরিবর্তে তারা ওই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী হরতাল ঘোষণা করেন।

    📜 আন্দোলনের পটভূমি:

    গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি বাদ দিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে, এলাকাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

    বাগেরহাটবাসী এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নেয়। এরপরও ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন তিনটি আসন রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

    🗺️ বর্তমান আসন বিন্যাস (চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী):

    • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট

    • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    🗺️ আগের আসন বিন্যাস ছিল:

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

    নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনমতের স্পষ্ট অবহেলা, এবং এর বিরুদ্ধে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলমান থাকবে যতদিন না চারটি আসন পুনর্বহাল হয়।

  • বাংলামোটরে আওয়ামী লীগের মিছিল, মোটরসাইকেলসহ আটক ৬

    বাংলামোটরে আওয়ামী লীগের মিছিল, মোটরসাইকেলসহ আটক ৬

    এবিএনএ:  রাজধানীর বাংলামোটরে আকস্মিকভাবে মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে মিছিল শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া শতাধিক নেতাকর্মী স্লোগান দেন—‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।

    পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। তিনি জানান, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিকেল ৩টার দিকে মিছিল বের করে। সেখান থেকে মোটরসাইকেলসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের রমনা থানায় নেওয়া হয়েছে।”

    পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে বাস বন্ধ, ডিসি অফিস ঘেরাও করে উত্তাল বিক্ষোভ

    বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে বাস বন্ধ, ডিসি অফিস ঘেরাও করে উত্তাল বিক্ষোভ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই বাগেরহাট শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় ১৬টি রুটের সব ধরনের বাস চলাচল।

    আন্দোলনকারীরা সকালেই বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ডিসি অফিস ও জজ কোর্টের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া, জেলা নির্বাচন অফিসের মূল গেটেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, ফলে অফিস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

    এই হরতালে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। তারা একত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে, সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগানে মুখরিত করেন শহর।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, বাগেরহাট জেলার চারটি আসন দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশনের খসড়া অনুযায়ী একটি আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত এই জেলার মানুষের স্বার্থবিরোধী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী ও রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের চিত্র ছিল স্পষ্ট।

  • ভাঙ্গা বিভক্তির সিদ্ধান্তে উত্তাল জনতা: দুই দফায় মহাসড়ক অবরোধ, তিন দিনের আলটিমেটাম

    ভাঙ্গা বিভক্তির সিদ্ধান্তে উত্তাল জনতা: দুই দফায় মহাসড়ক অবরোধ, তিন দিনের আলটিমেটাম

    এবিএনএ:  ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ভাঙ্গা উপজেলাকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) উত্তাল হয়ে ওঠে ভাঙ্গা। ভোর থেকেই স্থানীয়রা দুই দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে।

    প্রথম অবরোধ শুরু হয় সকাল ৮টার দিকে আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অল্প সময়ের মধ্যেই হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ, মাধবপুর ও পুকুরিয়া এলাকাতেও শত শত মানুষ রাস্তায় নামে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ অবরোধ প্রশাসনের অনুরোধে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও, জুমার নামাজের পর আবারো বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধে নামে বিক্ষুব্ধ জনতা।

    এ সময় হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে এবং ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙ্গার মানুষ দল-মত নির্বিশেষে আন্দোলনে যোগ দেন এবং শ্লোগান তোলেন, “আমরা ভাঙ্গার মানুষ, ভাঙ্গার সঙ্গেই থাকতে চাই।”

    ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন সেলিম তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এর মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেটে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর বিরুদ্ধেই ভাঙ্গার মানুষ আন্দোলনে নেমেছে।

  • আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন বৈধ নয়: কাকরাইল সভায় জি এম কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ঢাকা জেলা জাপার মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন।

    জি এম কাদের বলেন, “যখন আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। একইভাবে বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।”

    তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় অংশ নিয়ে জাপা ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। এবারও চাপের মুখে দলকে কঠিন অবস্থান নিতে হচ্ছে। জুলাই মাসে আদালত তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বললেও সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তিনি পুনরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরেছেন।

    সভায় জাপা চেয়ারম্যান দাবি করেন, তিনিই জুলাইয়ের আন্দোলনকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

    সম্প্রতি ৯ আগস্ট, দল থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আলাদা কাউন্সিল ডেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে লাঙ্গল প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন।

    এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, “সরকারের দমন-পীড়নে থেমে যাব না। লাঙ্গল প্রতীক অন্য কাউকে দিলে রাজপথে আন্দোলন করব। জনগণের স্বার্থে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব।”

    সভায় জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখেন।