Tag: রাজনৈতিক অস্থিরতা

  • ভোরে গুলির শব্দে কাঁপল কোটোনু: বেনিনে অভ্যুত্থান চেষ্টায় চরম উত্তেজনা, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

    ভোরে গুলির শব্দে কাঁপল কোটোনু: বেনিনে অভ্যুত্থান চেষ্টায় চরম উত্তেজনা, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

  • কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও দেখা করার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা চরমে

    কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও দেখা করার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতি ও মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দেখা করার নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

    ইমরান খানের তিন বোন—নুরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান—অভিযোগ করেছেন, তারা ভাইয়ের খোঁজ নিতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের সামনে গেলে পুলিশের ‘নৃশংস আচরণের’ শিকার হন। তাদের দাবি, গত তিন সপ্তাহ ধরে কাউকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ এলাকার স্ট্রিটলাইট নিভিয়ে অন্ধকারে পুলিশ লাঠিচার্জ চালায় এবং পিটিআই কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা করে।

    ৭১ বছর বয়সী নুরিন জানান, তাকে চুল ধরে টেনে ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। উপস্থিত নারী সমর্থকদেরও কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ইমরান খানের পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে বলপ্রয়োগের ধারাবাহিক উদাহরণ। তারা পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করেছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সাক্ষাৎকার ও দেখা করার ওপর ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ চলছে। তাদের মতে, ইমরান খানকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

    আইনজীবী খালিদ ইউসাফ চৌধুরী জানান, এমনকি বই ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ইমরান খানের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখানে যেন জঙ্গলের আইন চলছে—যার শক্তি আছে, শুধুই তার অধিকার।”

    পিটিআইয়ের দাবি, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও বারবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এসব ঘটনার ফলে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

  • গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    এবিএনএ:   বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতেই নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় যুবদলের ৭৮ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্র রুদ্ধ করতে

    মির্জা ফখরুল বলেন,
    “আমরা গত ১৭ বছর ধরে এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। এখন যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

    তিনি বলেন,
    “চেষ্টা চলছে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে গণতন্ত্রের উত্তরণ ব্যাহত করতে। হাসিনা সরকারের নির্যাতন অতিক্রম করে আমরা এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ এসেছি। এখন আমাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ—ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি এবং রাজনীতি পুনর্গঠন।”

    বিএনপিই আগেও দেশ পুনর্গঠন করেছে

    বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, অতীতেও যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখন বিএনপিই দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এখন আবার সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত দলটি।

    রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

    সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন,
    “আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে এগিয়ে যাই। এটাই সময় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার। একযোগে কাজ করলেই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”

  • টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    এবিএনএ:   সরকারের ছত্রছায়ায় একটি রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে যে দলটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে, সেটি ‘সবাই জানে’—এনসিপি, এমন মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

    সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “এটা আর গোপন কিছু নয়—সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে সেই ‘কিংস পার্টি’। দলটির সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, একজন উপদেষ্টা পদ ছেড়ে সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আর বাকি দুইজন রয়েছেন সরকারের বর্তমান উপদেষ্টা পদে—এ থেকেই প্রমাণ হয় কারা কাদের সহযোগিতায় রাজনীতির নতুন মোড় তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও নানা বিষয়

    টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে,
    দলটি গঠিত হয়েছে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছায়া থেকে।
    – জনগণের কাছে জবাবদিহি, সুশাসন ও স্বচ্ছতার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।
    – অর্থের উৎস অস্বচ্ছ, দখলদারিত্ব, দলবাজি, এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক সংস্কৃতি ধারণ করছে।
    – এর মাধ্যমে আত্মঘাতী পথে হাঁটছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি।

    এছাড়া, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,
    “নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এখন একটি রোডম্যাপ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্থিতিশীল, তা বলা যায় না।”

    সতর্কতা টিআইবির

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
    বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও প্রশাসনে যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অনেক ঘাটতি দেখা গেছে বলে মন্তব্য করা হয়।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি।”

  • ডিএমপি বলছে ‘বিশেষ সতর্কতা’ শুধু ধারণার ভিত্তিতে, নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য নয়

    ডিএমপি বলছে ‘বিশেষ সতর্কতা’ শুধু ধারণার ভিত্তিতে, নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য নয়

    এবিএনএ: রাজধানীসহ সারাদেশে এই ‘বিশেষ সতর্কতা’ কার্যকর থাকবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজধানীতে বিশেষ অভিযানও চলবে।’’

    তিনি যোগ করেন, ‘‘নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না, কোন এলাকায় হামলা হতে পারে। কিন্তু কোনো এলাকাকে লক্ষ্য করে কিছু বলা হলে, সেখানে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’’


    📱 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নজরদারি

    গত এক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন উসকানিমূলক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, “এসব কর্মকাণ্ড আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। কিছু রাজনৈতিক দল হরতালের ডাক দিলেও বাস্তবে তার প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। বরং ওইসব দিনে রাজধানীতে যানজট ছিল আরও বেশি।”


    📆 রাজনৈতিক কর্মসূচি ও তথ্যের অভাব

    জুলাই মাসজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও, বিগত সরকারের নেতাকর্মীরা মাঠে নামবেন কি না—সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য ডিএমপির কাছে নেই বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।

    তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “সবকিছুই সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনী সেই অনুযায়ী মাঠে প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    এই সতর্কতামূলক অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করছে, যাতে সম্ভাব্য যে কোনো বিশৃঙ্খলা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

  • ঋণের সংকটে বেসরকারি খাত, দুই দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম

    ঋণের সংকটে বেসরকারি খাত, দুই দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম

    এবিএনএ: বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন শেষে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। এটি গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুদের উচ্চ হার, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও ঋণ খেলাপির হার বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ৩১ জুলাই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে, যেখানে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে ঋণের প্রবাহে স্থবিরতা দেখা দেয়। বেসরকারি খাতের অনেক ঋণগ্রহীতা গ্রেফতার বা বিদেশে পলায়ন করায় নতুন ঋণ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পূর্বের অনেক ঋণও এখন খেলাপি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে গড় সুদহার ছিল ৯-১০ শতাংশ, তা এখন ১৩-১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে আমানতের গড় সুদহারও বেড়ে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বরে ৭.২৮ শতাংশে ছিল, জানুয়ারিতে কমে ৭.১৫ শতাংশে আসে, ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে দাঁড়ায় ৬.৮২ শতাংশ। এরপরও মে মাসে তা সামান্য বেড়ে ৭.১৭ শতাংশ হয়েছিল। অথচ করোনার সময়েও এই প্রবৃদ্ধি কখনো সাড়ে সাত শতাংশের নিচে নামেনি।

    একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে এসেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    অন্যদিকে সরকার নিজেও ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ঋণ নিচ্ছে। গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, যা আগের চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা কম।

    এছাড়াও সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের দায় পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে এবং ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে, যার ফলে বাজারে তারল্য সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগের অনাগ্রহ এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্যের ঘাটতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে ঋণের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো— বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে আবার ঋণ প্রবাহ সচল করা।

  • গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, হয়ে যাচ্ছে মবতন্ত্র: নয়াপল্টনে সালাহউদ্দিনের হুঁশিয়ারি

    গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, হয়ে যাচ্ছে মবতন্ত্র: নয়াপল্টনে সালাহউদ্দিনের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  “আমরা ডেমোক্রেসি চেয়েছিলাম, কিন্তু দেশে যেন এখন মবক্রেসি চলছে”—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, “জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজ তা ভেঙে পড়ছে। সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতায় গোটা দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক অরাজক পরিস্থিতি।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরও আমরা আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু এখন সেই গণআন্দোলনের শক্তিকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে দমন করা হচ্ছে।”

    সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চক্রান্ত করছে, তাদের যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় মদত না দেওয়া হয়। সময় এসেছে প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে ফেরার।”

    এই বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    নয়াপল্টনের রাজপথে জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীরা হাতে পোস্টার, ব্যানার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো ঘুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরে আসে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের মন্তব্য ও আন্দোলন আগাম দিনগুলোতে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই সমালোচনার কী ধরনের জবাব দেয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে রক্ষা করা হয়।

  • গোপালগঞ্জে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

    গোপালগঞ্জে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আজ বুধবার রাত ৮টা থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার পুরো এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যায় প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে এবং জনসাধারণের চলাচলে থাকবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) এর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ, হামলা ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ।

    কারফিউ চলাকালীন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।

    এর আগে এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকরা আক্রান্ত হন এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

    এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘গোপালগঞ্জে সংঘটিত হামলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তরুণদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করা তাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।’’

    সরকার আরও জানায়, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে এবং এ ধরনের সহিংসতা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার।


    👉 গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নজরদারিতে। কারফিউ চলাকালীন নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

  • রাজধানীতে রাতভর অভিযান, ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জন

    রাজধানীতে রাতভর অভিযান, ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জন

    এবিএনএ:

    রাজধানীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা ঢাকায় ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–

    • হুমায়ুন কবীর সুজন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য

    • গোলাম রাব্বানী সরদার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি

    • মেহেদী হাসান, একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী

    ডিবি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টিকাটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবীর সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ভোর ৬টায় মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার হন মেহেদী হাসান।

    এছাড়া বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গোলাম রাব্বানী সরদারকে। তিনি মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ধানমন্ডি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক হিসেবেও পরিচিত।

    ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দলবদ্ধ হয়ে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে আকস্মিকভাবে জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

    ডিবি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তার শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা নস্যাৎ করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

  • গণভবনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের অনুরোধ, পা ধরে কেঁদে ফেলেন শেখ রেহানা!

    গণভবনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের অনুরোধ, পা ধরে কেঁদে ফেলেন শেখ রেহানা!

    এবিএনএ, 

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পা ধরে তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করেছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

    রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে বিচারকদের সামনে লিখিতভাবে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর আদালতে জুলাই-আগস্ট মাসের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে বলেন, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ মুহূর্তেও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং রক্তপাতের পথ বেছে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট শেখ রেহানা গণভবনে শেখ হাসিনার পা ধরে পদত্যাগ করার অনুরোধ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধের পর তিনি পদত্যাগ করতে রাজি হন।

    আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব যে শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের বিচার এবং অপরাধ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে রয়েছে।

    এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।