Tag: রমজানের শেষ দশক

  • শবে কদরের নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? জেনে নিন ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

    শবে কদরের নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? জেনে নিন ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

    এবিএনএ: শবে কদর ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। ‘শব’ শব্দটি ফারসি, যার অর্থ রাত; আর ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা, সম্মান বা মহিমা। আরবি ভাষায় এই রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর—অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রাত। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ ফয়সালা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়।

    রমজান মাসে এই রাতের গুরুত্ব এত বেশি যে কোরআনে এটিকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। তবে কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, রমজানের কোন রাতটি শবে কদর। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন।

    এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিভিন্ন ইবাদতে মগ্ন থাকেন। নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া, ইস্তিগফার এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা—এসব ইবাদতের মাধ্যমে রাতটি কাটানো হয়।

    শবে কদরের নামাজের নিয়ত

    নফল নামাজের নিয়ত আরবিতে বলা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনেকেই আরবিতে নিয়ত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একটি প্রচলিত নিয়ত হলো—

    নিয়ত:
    নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তাআ’লা রাকআ’তাই সালাতি লাইলাতিল কদর নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শরীফাতি আল্লাহু আকবার।

    অর্থ:
    আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।

    শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

    লাইলাতুল কদরের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজের পদ্ধতি হাদিসে বর্ণিত নেই। সাধারণভাবে দুই রাকাত করে নফল নামাজ যত বেশি সম্ভব আদায় করা উত্তম। মুসল্লিরা দুই রাকাত করে ধারাবাহিকভাবে একাধিক নফল নামাজ পড়তে পারেন।

    এই রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, তওবা করা, ইস্তিগফার পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সূরা পড়ার প্রচলন থাকলেও এর নির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। তবে চাইলে সূরা কদর ও সূরা ইখলাস বেশি বেশি তেলাওয়াত করা যেতে পারে।

    শবে কদরের বিশেষ দোয়া

    হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতেই শবে কদর হতে পারে। তাই প্রতিটি বেজোড় রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান, তাহলে কোন দোয়া করবেন? উত্তরে নবী করিম (সা.) একটি দোয়া শিখিয়ে দেন।

    দোয়া:
    اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

    অর্থ:
    হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল ও মহানুভব। আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি: ৩৫১৩)