Tag: যৌথ বাহিনী

  • কুমিল্লায় জামায়াত নেতার মৎস্য খামার থেকে বিপুল দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

    কুমিল্লায় জামায়াত নেতার মৎস্য খামার থেকে বিপুল দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

    এবিএনএ: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় জামায়াত নেতার মৎস্য খামার থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মাগুয়া গ্রামে অবস্থিত ‘আল-বাশারাত’ মৎস্য খামারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নাঙ্গলকোট সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সার্জেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়ার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

    মৎস্য খামারের মালিক জামায়াতের যুব বিভাগের পেরিয়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল ইসলাম মামুন। অভিযানকালে খামার এলাকা থেকে ৫৯টি এসএস পাইপ, ৪৬টি জর্দার খালি কৌটা, ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম, ১০০ গ্রাম গন্ধক, ১২টি কস্টেপ এবং একটি ফুয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, এসব উপকরণ ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

    বাহিনী অনুমান করছে, আসন্ন নির্বাচনের সময় নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছিল। অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সরঞ্জামগুলো ককটেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার পর বলা যাবে। এ ঘটনায় কোনো কাউকে আটক করা হয়নি।

  • নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা: শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, শিক্ষককে কারাদণ্ড

    নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা: শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, শিক্ষককে কারাদণ্ড

    এবিএনএ: শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামী’র একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, অর্থ বিতরণের তালিকা এবং একটি ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর নড়িয়া থানা পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে পাঠায়।

    আটক গোলাম মোস্তফা ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চলমান নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

    নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, নির্বাচনী কার্যক্রমে অর্থ বিতরণের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এবং সেখানে তার উপস্থিতির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হয়।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ওই এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন। বুধবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

    এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের যাতায়াত ও খাবারের খরচের জন্য রাখা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে।

    অন্যদিকে, একই রাতে নড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় অর্থের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    উল্লেখ্য, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট আটজন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    নির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থানে ইসি: দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর টানা অভিযান শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব তথ্য নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

    এর আগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবও অংশ নেন। এর আগে একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা তফসিল ঘোষণার পর তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ইসির প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

  • সাদাপাথর লুটে প্রশাসনের কঠোর অভিযান, হাই কোর্টের কড়া নির্দেশ

    সাদাপাথর লুটে প্রশাসনের কঠোর অভিযান, হাই কোর্টের কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ:  সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাটের পর এবার নেমে এসেছে প্রশাসনের কঠোর অভিযান। জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ একত্রে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট সাদাপাথর। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট ইতিমধ্যে ধলাই নদী ও সাদাপাথর পর্যটন এলাকায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পাচারকালে আটক হয়েছে পাথরবোঝাই ১৩০টি ট্রাক।

    হাই কোর্টের নির্দেশে, লুণ্ঠিত সমস্ত পাথর সাত দিনের মধ্যে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়া, যারা পাথর উত্তোলন ও চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা তৈরি করে ৬০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রশাসনের সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাদাপাথর ও জাফলং এলাকায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে, অবৈধ ক্রাশিং মেশিন বন্ধ করা হবে এবং চেকপোস্টের মাধ্যমে পাচার প্রতিরোধ করা হবে। ইতিমধ্যেই সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে বসানো চেকপোস্টে বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ করা হয়েছে।

    উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে সাদাপাথর এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

    এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ জানিয়েছেন, প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং চুরি হওয়া পাথর নদীতে প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লুটপাট রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যুবদল নেতার মৃত্যু: যৌথ বাহিনীর ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    যুবদল নেতার মৃত্যু: যৌথ বাহিনীর ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    এবিএনএ:  ঢাকার মিরপুরে যুবদল কর্মী আসিফ শিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে মামলাটি করেন নিহতের মা স্বপ্না বেগম। আদালত মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন রাজধানীর শাহআলী থানার ওসি শরিফুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মতিউর রহমান, ডিএমপির দারুসসালাম অঞ্চলের এসি এমদাদুল হক, এডিসি জাকারিয়া, মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মাকসুদুর রহমান, সায়েন্সল্যাব সেনা ক্যাম্পের মেজর মুদাব্বির, ক্যাপ্টেন তাম্মাম, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সিরাজ, আবুল কালাম আজাদ লেলিন, ইনফরমার খলিল এবং সিএনজি চালক ফরিদ।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই মধ্যরাতে আসিফ শিকদারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে শাহআলী থানায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

    পরদিন ২১ জুলাই ভোরে যৌথ বাহিনী মিরপুরের দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আসিফসহ তিন যুবদল কর্মীকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। আটক হওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন আসিফ। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    আসিফের পরিবার দাবি করেছে, আটক করার সময়ই নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আসিফ শিকদার ছিলেন যুবদলের সক্রিয় কর্মী এবং ছাত্রদলের ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব।

    পুলিশ সূত্র জানায়, আটককৃতদের প্রথমে সায়েন্সল্যাব সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে সেখান থেকে তিনজনকে ফের শাহআলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। দুপুরের দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    আসিফের বিরুদ্ধে এর আগে চাঁদাবাজি এবং থানার সামনে ঘেরাওয়ের মামলা ছিল। মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলায় জেল খেটে সম্প্রতি ছাড়া পান তিনি।

    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি এখন তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী।