Tag: যুবদল

  • বাগেরহাটে যুবদল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    বাগেরহাটে যুবদল নেতার ঘর পুড়ে ছাই, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় এবার জেলা সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে যুবদল নেতা আলিমুজ্জামান রানার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

    রবিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই যুবদল নেতার টিনশেড বাড়ীতে প্রতিপক্ষ দলের দুবৃর্ত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ফায়ার সাভির্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই অসবাবপত্র ও ১০ লখ টাকার মালামালসহ টিনসেড বাড়ীটি সম্পুর্ন পুড়ে শেষ হয়ে যায়। রাতেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এঘটনায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বাগেরহাট সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী আলিমুজ্জামান রানা তার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের জন্য প্রতিপক্ষ জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করে বলেন, এরআগে সংসদ নির্বাচনের পর দিন সকালে বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদের নেতাকর্মীরা আমার বাড়ীসহ মাদ্রা গ্রামে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিরাজসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের ১২টি বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। রবিবার দিবাগত রাতে আমার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাবার সময় জামায়াত নেতাকমীদের স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়েছে। আগুনে আমার বসত ঘরের অসবাবপত্র ও ১০ লখ টাকার মালামালসহ টিসেড বাড়ীটি সম্পুর্ন পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। যুবদল নেতার বাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার খবর যেয়ে সকালে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিএনপির প্রার্থী ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্দ জাকির হোসেনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ এঘটনায় জামায়াত নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।

    বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রায় যুবদল নেতা রানার বসত বাড়ীতে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। জড়িত দুবৃর্ত্তদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এরআগে এই এলাকায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • মিরপুরে যুবদল নেতা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে খুঁজছে পুলিশ

    মিরপুরে যুবদল নেতা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে খুঁজছে পুলিশ

    এবিএনএ: রাজধানীর মিরপুরে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বরের সি ব্লকের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালানো হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে করে তিনজন অস্ত্রধারী এসে দোকানের ভেতরে ঢুকে মাথা, বুক ও পিঠে টার্গেট করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে সাত রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিবরিয়াকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, নিহত কিবরিয়া যুবদলের স্থানীয় নেতা ছিলেন। কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও কেন তাকে টার্গেট করা হয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখনো হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

  • গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    এবিএনএ:   বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতেই নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় যুবদলের ৭৮ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্র রুদ্ধ করতে

    মির্জা ফখরুল বলেন,
    “আমরা গত ১৭ বছর ধরে এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। এখন যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

    তিনি বলেন,
    “চেষ্টা চলছে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে গণতন্ত্রের উত্তরণ ব্যাহত করতে। হাসিনা সরকারের নির্যাতন অতিক্রম করে আমরা এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ এসেছি। এখন আমাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ—ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি এবং রাজনীতি পুনর্গঠন।”

    বিএনপিই আগেও দেশ পুনর্গঠন করেছে

    বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, অতীতেও যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখন বিএনপিই দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এখন আবার সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত দলটি।

    রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

    সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন,
    “আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে এগিয়ে যাই। এটাই সময় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার। একযোগে কাজ করলেই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”

  • যুবদল নেতার মৃত্যু: যৌথ বাহিনীর ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    যুবদল নেতার মৃত্যু: যৌথ বাহিনীর ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

    এবিএনএ:  ঢাকার মিরপুরে যুবদল কর্মী আসিফ শিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে মামলাটি করেন নিহতের মা স্বপ্না বেগম। আদালত মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন রাজধানীর শাহআলী থানার ওসি শরিফুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মতিউর রহমান, ডিএমপির দারুসসালাম অঞ্চলের এসি এমদাদুল হক, এডিসি জাকারিয়া, মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মাকসুদুর রহমান, সায়েন্সল্যাব সেনা ক্যাম্পের মেজর মুদাব্বির, ক্যাপ্টেন তাম্মাম, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সিরাজ, আবুল কালাম আজাদ লেলিন, ইনফরমার খলিল এবং সিএনজি চালক ফরিদ।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই মধ্যরাতে আসিফ শিকদারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে শাহআলী থানায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

    পরদিন ২১ জুলাই ভোরে যৌথ বাহিনী মিরপুরের দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আসিফসহ তিন যুবদল কর্মীকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। আটক হওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন আসিফ। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    আসিফের পরিবার দাবি করেছে, আটক করার সময়ই নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আসিফ শিকদার ছিলেন যুবদলের সক্রিয় কর্মী এবং ছাত্রদলের ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব।

    পুলিশ সূত্র জানায়, আটককৃতদের প্রথমে সায়েন্সল্যাব সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে সেখান থেকে তিনজনকে ফের শাহআলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। দুপুরের দিকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    আসিফের বিরুদ্ধে এর আগে চাঁদাবাজি এবং থানার সামনে ঘেরাওয়ের মামলা ছিল। মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলায় জেল খেটে সম্প্রতি ছাড়া পান তিনি।

    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি এখন তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী।

  • দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এবিএনএ:  দলে একের পর এক অনিয়ম, সহিংসতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের কারণে চাপে পড়েছে বিএনপি। বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবার দলটি শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী এবং অপকর্মে যুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৩ সালের পর থেকে যারা দলে এসেছেন এবং রাজনৈতিক সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

    সম্প্রতি পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে এক ভাঙারির ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসায় দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলীয় ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় দায় চাপিয়ে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।

    ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    দলটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০০ জন বিএনপির, যাদের ৮০০ জন বহিষ্কৃত, ৭০০ জনকে নোটিশ, ৫০ জনের পদ স্থগিত, ১০০ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের আরও প্রায় ১২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের প্রতি অভিযোগ

    বিএনপি অভিযোগ করেছে, সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেমন, পাবনার সুজানগরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বিএনপির নেতারা নিজ উদ্যোগে অভিযোগ করেন।

    নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    বহিষ্কার করেও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

    দলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, অভিযোগ যাচাই ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ দ্রুতই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসছেন। খুলনায় গুলিতে নিহত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন বহিষ্কৃত, তবুও সক্রিয় ছিলেন দলীয় কর্মসূচিতে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাবে অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না।

  • পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ: বহিষ্কৃত ১০ নেতা, হাসপাতালে এক শীর্ষ নেতা

    এবিএনএ:  পাবনার সুজানগরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দলীয় সদস্য সচিব গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার জেরে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি একযোগে ১০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এ তথ্য জানানো হয়। সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

    বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন—সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ, ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার, যুবদল নেতা মনজেদ শেখ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খা, সাবেক নেতা কামাল শেখ, যুবদল সদস্য মানিক খা, কলেজ শাখা সভাপতি শাকিল খা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি রুহুল খা, কর্মী লেবু খা এবং যুবদল কর্মী হালিম শেখ।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধ থেকে। পরে বুধবার রজনী ঘোষ সিনেমা হলের সামনে দুই পক্ষ ফের মুখোমুখি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    এসময় সদস্য সচিব আব্দুর রউফ শেখ উভয় পক্ষকে থামাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকলেও তারা বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্র।

    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে।

  • বিএনপির নামে সন্ত্রাস করলে কেউ রেহাই পাবে না: রিজভীর কঠোর হুঁশিয়ারি

    বিএনপির নামে সন্ত্রাস করলে কেউ রেহাই পাবে না: রিজভীর কঠোর হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: বিএনপির নামে কেউ সন্ত্রাস বা সহিংসতায় জড়ালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বার্তা দেন।

    রিজভী বলেন, “দলের নামে অনৈতিক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে ভিডিও-অডিওসহ প্রমাণ যাচাই করা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”

    তিনি জানান, “দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন আচরণে জড়ালে কেউ রেহাই পাবে না। আমরা প্রতিদিনই তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ যেন আর সাহস না পায়, সে কারণেই এই বার্তা দেওয়া জরুরি।”

    সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হোসেন পাখি ও সদস্য আবদুল মতির শিরিনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, কুমিল্লার দক্ষিণ জেলার পাচঁথুবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দলীয় নাম ব্যবহার করে অস্ত্র প্রদর্শন ও সন্ত্রাসে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ভোলার তজুমদ্দিনে মহিলা দলের এক নেত্রীকে মারধর করায় ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাটগ্রামে থানায় হামলা ও কর্মী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগেও তদন্ত চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রিজভী।

    রাজধানীর বনানীতে যুবদলের আহ্বায়ক মুনির হোসেন নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় তাকেও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ামাত্র জাতীয়তাবাদী যুবদল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি এবার দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহিংসতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে বার্তা দিয়েছেন রিজভী আহমেদ। দলীয় ভেতরে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।