Tag: যুবদল নেতা

  • ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ‘মঈন বাহিনী’ নামে একটি চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে এই চক্রটি এলাকায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেছে। শুধু হাসপাতালই নয়, সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বাহিনী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা দখলের হুমকি দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক জানান, আগে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। পরে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশ ও প্রতিষ্ঠান দখলের ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    চক্রটির বিরুদ্ধে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মোড়ে তাদের সদস্যরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

    গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মঈনের সঙ্গে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সক্রিয়ভাবে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় র‍্যাব অভিযান চালিয়ে প্রথমে কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে। পরে পৃথক অভিযানে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবশেষে মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্তের ভিত্তিতে একাধিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঈন বাহিনীর চাঁদাবাজির শিকার কেউ থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শেরেবাংলা নগর থানায় মঈন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আরও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।