Tag: যাত্রী ভোগান্তি

  • ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    ঈদযাত্রায় নতুন দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটে বাসের শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এবার ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার কারণে শুরুতে স্বস্তি থাকলেও নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট।

    পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে এখনো স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ। অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে বাসচালক ও মালিকদের। ফলে সময়মতো বাস ছাড়তে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে। এর আগে চার দিনের টানা ছুটির কারণে এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি।

    ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুতেও তেমন চাপ নেই বলে জানা গেছে।

    তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, তেলের অপ্রতুলতা এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাস কোম্পানি প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল পাচ্ছে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ট্রিপ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

    বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাপ বাড়লেও তেলের অনিশ্চয়তার কারণে বাসের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে চালানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে।

    অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহনে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, সামনে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে। সেই চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

    সব মিলিয়ে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও ‘তেলের টেনশন’ এখন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথ অচল: চার দিনে বাংলাদেশ থেকে বাতিল ১৩১ ফ্লাইট

    যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথ অচল: চার দিনে বাংলাদেশ থেকে বাতিল ১৩১ ফ্লাইট

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে একাধিক দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে টানা চার দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৩১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিনই ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চের সূচিতে থাকা আরও ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    ৩ মার্চের বাতিল তালিকায় রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজজাজির এয়ারলাইন্স–এর একাধিক ফ্লাইট।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাই রুটে ফ্লাইট চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে টিকিট ও সময়সূচি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত: আটকে পড়া যাত্রীদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা নেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়

    মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত: আটকে পড়া যাত্রীদের রাত কাটানোর ব্যবস্থা নেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জেরে ঢাকা থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য রাত কাটানোর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শনিবার রাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি সহায়তার জন্য বিমানবন্দরের নির্ধারিত ডেস্ক ও লাউঞ্জে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

    বিমান চলাচলে হঠাৎ স্থগিতাদেশে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা। সন্ধ্যার পর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত যাত্রী অনিশ্চয়তায় অপেক্ষা করছেন। অনেকে জানাচ্ছেন, কতদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তারা বিমানবন্দরেই থাকবেন নাকি অস্থায়ীভাবে কোথাও আশ্রয় নেবেন—এ নিয়ে দ্বিধায় আছেন।

    বিভিন্ন এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী ফ্লাইটে টিকিট রিশিডিউলের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ভিসার মেয়াদ নিয়ে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি ও চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।

    সরকারি সূত্র জানায়, যাত্রীদের অস্থায়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় খাবার ও প্রাথমিক সহায়তা দিতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আকাশপথ নিরাপদ হলেই ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।