Tag: ম্যাচ রিপোর্ট

  • নেট রানরেটের হিসাব ভেস্তে গেল: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড, ছিটকে গেল পাকিস্তান

    নেট রানরেটের হিসাব ভেস্তে গেল: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড, ছিটকে গেল পাকিস্তান

    এবিএনএ: বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় রান তুলেও শেষ পর্যন্ত হাসতে পারল না পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান–এর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে দলটি ৮ উইকেট হারিয়ে সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করায়। সেমিফাইনালে যেতে হলে ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি নেট রানরেটে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল–কে পেছনে ফেলতে হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ইনিংস প্রত্যাশিত গতিতে এগোনোয় সেই হিসাব মিলল না। ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের, আর শেষ চারে ওঠে নিউজিল্যান্ড।

    লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল। ইনিংসের শুরুতে দ্রুতই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা বিদায় নেন। অন্য প্রান্তে কিছুক্ষণ লড়াই করলেও কামিল মিশরা বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লঙ্কানরা।

    দলের হাল ধরেন চারিথ আসালঙ্কা ও পবন রথনায়েকে। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটি রানরেট স্বাভাবিক রাখে। পরে কামিন্দু মেন্ডিস ও জানিথ লিয়ানাগে দ্রুত ফিরলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে অভিজ্ঞ দাসুন শানাকার সঙ্গে লিয়ানাগের জুটিতে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা।

    প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারের আগেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেওয়ায় পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। নেট রানরেটের সমীকরণ ভেঙে যাওয়ায় শেষ চারের টিকিট যায় নিউজিল্যান্ডের ঝুলিতে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেমিফাইনালের দিকে।

  • বিশ্বকাপে বাজিমাত জিম্বাবুয়ে! ওমানকে উড়িয়ে উড়ন্ত শুরু রাজার দল

    বিশ্বকাপে বাজিমাত জিম্বাবুয়ে! ওমানকে উড়িয়ে উড়ন্ত শুরু রাজার দল

    এবিএনএ: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর শুরুতেই নিজেদের শক্তির বার্তা দিল জিম্বাবুয়ে। কলম্বোতে ওমানের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয়ে টুর্নামেন্টে দাপুটে সূচনা করল আফ্রিকার দলটি। আগে ব্যাট করে ওমান থামে মাত্র ১০৩ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে জিম্বাবুয়ে।

    টস জিতে ওমানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের চাপে পড়ে যায় ওমানের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত লড়াই গড়ে তুলতে না পেরে তিন অঙ্কের ঘর পার করাই তাদের সান্ত্বনা হয়ে দাঁড়ায়।

    ওমানের হয়ে ভিনায়েক শুক্লা করেন সর্বোচ্চ ২৮ রান। সুফিয়ান মাহমুদ যোগ করেন ২৫ ও নাদিম খান ২০ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

    জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ে সমান তালে ধ্বংসযজ্ঞ চালান রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্রাড ইভান্স—তিনজনই নেন তিনটি করে উইকেট।

    লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩০ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তাদিওয়ানাসে মারুমানি ২১ রানে ও ডিওন মেয়ার্স শূন্য রানে ফেরেন। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও অভিজ্ঞ ব্রেন্ডেন টেইলর মিলে ৬৮ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। ৩১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন টেইলর। পরে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে সঙ্গে নিয়ে সহজেই ম্যাচ শেষ করেন বেনেট। অপরাজিত থাকেন বেনেট ৪৮ ও রাজা ৫ রানে।

  • রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    রিশাদের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিধ্বস্ত, দারুণ জয়ে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের তুলনামূলক স্বল্প রানের ২০৭ রানের সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে পরিণত হয়। রিশাদের অসাধারণ বোলিংয়ে ৭৪ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

    বাংলাদেশের হয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন রিশাদ হোসেন। তিনি ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচে তুলে নেন ৬টি উইকেট—যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০১৩ সালে।

    শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার ফিরলে চাপে পড়ে দল। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭১ রানের জুটি কিছুটা স্থিতি আনে। শান্ত ৬৩ বলে ৩২ রান ও হৃদয় ৯০ বলে ৫১ রানের ধীর ইনিংস খেলেন।

    অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলের রান দুইশ’র ঘরে তোলেন। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন—মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে ইনিংসে প্রাণ সঞ্চার করেন। ফলে দুই বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ২০৭ রানে।

    জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। তবে রিশাদের স্পিন জাদুতে মাত্র ৯২ রানেই পাঁচ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। তিনি একে একে ব্রেন্ডন কিং, কেসি কার্টি, শেরফান রাদারফোর্ডসহ শীর্ষ ব্যাটারদের বিদায় করেন। কিং সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্যরা ছিলেন পুরোপুরি অসহায়।

    মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান একে একে শেষ দিকের উইকেটগুলো তুলে নিলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রিশাদ হোসেন।