Tag: মেডিকেল বোর্ড

  • হাদির অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ, এখনো জীবনঝুঁকিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র

    হাদির অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ, এখনো জীবনঝুঁকিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ড। চিকিৎসকদের মতে, আপাত উন্নতির কিছু লক্ষণ থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় দিনের মতো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। এতে জানানো হয়, পরিস্থিতির প্রয়োজনে রোগীকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    মেডিকেল বোর্ড জানায়, রোগীর পরিবার অথবা সরকারিভাবে বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতাল পূর্ণ সহায়তা করবে। বর্তমান অবস্থায় রোগীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করাই বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য।

    এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওসমান হাদির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

    সর্বশেষ সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তার মস্তিষ্কে ফোলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা চিকিৎসকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। যদিও ফুসফুস ও কিডনির কার্যকারিতা আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে ব্রেন স্টেমে আঘাতজনিত জটিলতা থাকায় সার্বিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

    এদিকে চিকিৎসকরা রোগীর বিষয়ে গুজব ও অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছে মেডিকেল বোর্ড।

  • জীবন রক্ষায় ১১ দফা চিকিৎসা সিদ্ধান্ত, হাদিকে ঘিরে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের কঠোর নজরদারি

    জীবন রক্ষায় ১১ দফা চিকিৎসা সিদ্ধান্ত, হাদিকে ঘিরে বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের কঠোর নজরদারি

    এবিএনএ: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড। মাথায় গুলিবিদ্ধ এই রাজনীতিকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    শনিবার এক বিবৃতিতে হাসপাতালের আইসিইউ ও এইচডিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও সমন্বয়ক ডা. মো. জাফর ইকবাল জানান, বিভিন্ন বিভাগের ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড হাদির চিকিৎসা নিয়ে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতা মোকাবিলায় এখন কনজারভেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

    চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হাদির মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং ব্রেন সুরক্ষায় নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। ফুসফুসে আঘাত থাকায় ভেন্টিলেটর ও চেস্ট ড্রেইনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ বা এআরডিএসের ঝুঁকি না বাড়ে।

    এ ছাড়া কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে তরল ব্যবস্থাপনা, রক্ত জমাট ও রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সঞ্চালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ ওঠানামা করায় বিশেষ সাপোর্ট ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    মেডিকেল বোর্ড জানায়, রোগীর সামগ্রিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। পরিবারকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে এবং তারাই গণমাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনে ভিড় না করা, গুজব বা ভুল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

    চিকিৎসকরা বলেন, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে হাদির চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন মেডিকেল বোর্ড ও পরিবারের সদস্যরা।

  • জার্মানি থেকে চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে কাতার, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা অনিশ্চিত

    জার্মানি থেকে চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে কাতার, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা অনিশ্চিত

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার উদ্দেশ্যে জার্মানি থেকে একটি ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে উদ্যোগ নিয়েছে কাতার সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকায় কাতার দূতাবাস।

    দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ জানিয়েছেন, কাতার সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় জার্মানি থেকে এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে এবং সেটি ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। শনিবার বিকেলে এটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে—প্রক্রিয়াটি আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

    তিনি জানান, “শনিবার আসার মতো প্রস্তুতি এখনো পুরোপুরি নেওয়া হয়নি। সবকিছু নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার মেডিকেল টিমের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে শনিবার এটি আসছে না—এ বিষয়ে আমরা বেশ নিশ্চিত।”

    প্রথমে পরিকল্পনা ছিল কাতারের আমিরের নিজস্ব বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে পাঠানো হবে। কিন্তু ‘কারিগরি সমস্যার’ কারণে সেটি সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে জার্মানি থেকে চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন কাতার কর্তৃপক্ষ।

    বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোনো উড়োজাহাজ নামানোর জন্য আনুষ্ঠানিক শিডিউল জমা দেওয়া হয়নি। ফলে বেবিচকসহ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও প্রস্তুতি নেয়নি।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সকালে জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ‘কারিগরি সমস্যা’ থাকায় শুক্রবার এটি আসে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শারীরিক অবস্থা উপযুক্ত থাকলে এবং মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলে রোববার (৭ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে।

    তবে ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে তাকে নেওয়া কতটা সম্ভব—তা নির্ভর করবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মতামতের ওপর।

    গত ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেডিকেল বোর্ড বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেয় যে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া জরুরি।

    সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে চীনে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও ছিল এবং চীন থেকেও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর আগ্রহ দেখানো হয়। তবে তারেক রহমান লন্ডনে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন, কারণ কাতারের আমিরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সরাসরি ঢাকায় থেকে লন্ডনে পৌঁছাতে সক্ষম।

    এর আগে এই বছরের ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে একই বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উন্নতি নেই, বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উন্নতি নেই, বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তিনি আগের মতোই জটিল স্বাস্থ্য অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনও কোনো চূড়ান্ত মতামত দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “অতিরিক্ত ভিড় হলে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটে। তাই সবাইকে হাসপাতালের সামনে ভিড় না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করার অনুরোধ করছি।”

    তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং সবশেষ তথ্য জানাচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে সিসিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

    এর আগে অক্টোবরেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে আসেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

    গত মে মাসে লন্ডন থেকে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি ঢাকায় নিজ বাসায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। লন্ডনে অবস্থানকালে ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। তবে গুরুতর ঝুঁকি বিবেচনায় লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়নি বলেও জানানো হয়।

    দলীয় নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা জরুরি হলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে চিকিৎসক বোর্ড।