Tag: মেঘনা নদী

  • মেঘনা নদীতে মিলল সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ, পরিবারে শোকের ছায়া

    মেঘনা নদীতে মিলল সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ, পরিবারে শোকের ছায়া

    এবিএনএ:  নিখোঁজের একদিন পর মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো প্রবীণ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) মরদেহ। শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার কলাগাছিয়া এলাকার চর বলাকিয়ায় ভাসমান অবস্থায় তার দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নৌ–পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

    রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কীভাবে তিনি সেখানে গেলেন ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    নারায়ণগঞ্জ নৌ–পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি একদিন আগে মারা গেছেন। দেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই, তবে কিছুটা বিকৃত হতে শুরু করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাসা থেকে অফিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেও কর্মস্থলে যাননি। মোবাইল ফোনটিও বাসায় রেখে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

    আজকের পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট থেকে সাত দিনের ছুটিতে ছিলেন বিভুরঞ্জন সরকার। নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও সহকর্মীরা গভীর উৎকণ্ঠায় ছিলেন।

    তার ভাই চিররঞ্জন সরকার বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমার দাদা প্রতিদিনের মতো আজও অফিসে যাবেন বলে বের হন। কিন্তু কোথাও যাননি, কেউ তাকে দেখেনি, রাতেও বাসায় ফেরেননি।”

    এই ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

  • মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলার ডুবি, দুই পুলিশসহ নিখোঁজ ৭ যাত্রী

    মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে ট্রলার ডুবি, দুই পুলিশসহ নিখোঁজ ৭ যাত্রী

    এবিএনএ 

    নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে ভয়াবহ এক ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন অন্তত ৭ জন যাত্রী। শনিবার বিকালে করিম বাজার সংলগ্ন ডুবারচর এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে ৩৯ জন যাত্রী বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্যও।

    হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা জানান, “ভাসানচর থেকে একটি ট্রলার দুপুর ২টার দিকে আলী বাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন রোহিঙ্গা রোগী, চার পুলিশ সদস্য, আনসার, ও বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা। ট্রলারটি মেঘনার উত্তাল পানিতে পড়লে ৭-৮ কিলোমিটার যেতেই সেটি ডুবে যায়।”

    ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয় এবং তারা দ্রুত উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়। এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

    ভাসানচর থানার ওসি কুতুব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, “এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে ৩২ জন যাত্রী জীবিত রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।”

    এদিকে এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার সময় নদী ছিল অতি উত্তাল এবং হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রোধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।