Tag: মৃত্যু সংবাদ

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    এবিএনএ: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোণা

    নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জ

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের এক কৃষক নিহত হন।

    অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    হবিগঞ্জ

    হবিগঞ্জে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নোয়াখালী

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলায় প্রাণহানির এ ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সুর থেমে গেল, ইতিহাস রইল: কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংগীতজগতে

    সুর থেমে গেল, ইতিহাস রইল: কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সংগীতজগতে

    এবিএনএ: ভারতের প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    শিল্পীর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আশা ভোঁসলে। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রোববার দুপুরে তিনি মারা যান।

    ১৯৩৩ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সঙ্গীতপ্রাণ মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তার বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চ ব্যক্তিত্ব। পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় আশার। কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার বড় বোন।

    কৈশোরে পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবি পরিবর্তন করে ‘ভোঁসলে’ গ্রহণ করেন। তবে সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; ১৯৬০ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বলিউডের খ্যাতিমান সুরকার ও গায়ক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আশা ভোঁসলে।

    সঙ্গীতজীবনে তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি কোনো এক ধারায়। শাস্ত্রীয়, আধুনিক, গজল, পপ, ক্যাবারে—সব ধরনের গানে সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। হিন্দি, বাংলা, মারাঠিসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

    অভাব-অনটনের সময় পরিবারকে সহায়তা করতে খুব অল্প বয়সেই গান গাওয়ার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন আশা। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়ে চলচ্চিত্র সংগীতে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান।

    সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য জীবদ্দশায় বহু সম্মাননায় ভূষিত হন আশা ভোঁসলে। ২০০০ সালে তিনি পান ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। এছাড়া ২০০৮ সালে তাকে দেওয়া হয় ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ।

    হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি শিল্পীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থনা পূরণ হয়নি।

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা অসংখ্য গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে যাবে।

  • হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে: ২২ দিনে ১১৩ মৃত্যু, একদিনেই আক্রান্ত প্রায় হাজার!

    হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে: ২২ দিনে ১১৩ মৃত্যু, একদিনেই আক্রান্ত প্রায় হাজার!

    মনোয়ার হোসেন অপু ,এবিএনএ: দেশে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মিজেলস বা হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ দিনে সারাদেশে হাম সন্দেহে মোট ৭ হাজার ৬১০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৯২৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যদিও পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।

    শুধু গত ২৪ ঘণ্টার চিত্রও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এই সময়ে হাম সন্দেহে মারা গেছে ১০ জন এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৪ জন। একই সময়ে ৬৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে ৩ হাজার ২৫৯ জন শিশু হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬৮। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেও শনাক্ত হওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ঢাকা বিভাগের।

    মৃত্যুর দিক থেকেও কিছু অঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি গুরুতর। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে, এরপরেই রয়েছে ঢাকা বিভাগ। তবে ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে এই সময়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না লিল্লাইহী রাজিউন)।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ আগামীকাল সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে।

    মৃত্যুকালে দিলারা হাফিজ স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    জানাজা অনুষ্ঠান আগামী ৩০ মার্চ সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজা-তে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে শায়রুল কবির জানিয়েছেন।

  • শেষ বিদায়ে প্রস্তুত দেশ, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা

    শেষ বিদায়ে প্রস্তুত দেশ, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই দাফন করা হবে।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামতে পারে—এমন প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে জানাজার স্থান ঘিরে।

    এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

    দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কিডনি ও যকৃতের জটিলতা, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

  • বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই: শেষবিদায়ে তারকাদের ঢল মুম্বাইতে

    বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই: শেষবিদায়ে তারকাদের ঢল মুম্বাইতে

    এবিএনএ: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং কিংবদন্তি তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর, আর মাত্র কয়েকদিন পরই তিনি পা দিতেন জীবনের ৯০তম বছরে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো দেওয়া হয়নি, তবে দ্য হিন্দু, এনডিটিভি ও ফিল্মফেয়ারসহ ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

    মুম্বাইয়ের পবন হংসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাঁর শেষকৃত্য। যেখানে উপস্থিত হয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, আমির খান, অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্তসহ অনেক তারকা। ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী হেমা মালিনী, দুই মেয়ে এষা দেওল ও আহনা দেওল এবং প্রথম সংসারের সানি ও ববি দেওলও ছিলেন সেখানে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, করণ জোহর, কারিনা কাপুর থেকে শুরু করে অসংখ্য তারকা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।

    গত কয়েকদিন ধরেই ধর্মেন্দ্রর অসুস্থতা নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। কিছু গণমাধ্যম ভুল সংবাদও প্রকাশ করে। পরে এষা দেওল সবাইকে জানান, তাঁর বাবার অবস্থা স্থিতিশীল। হেমা মালিনীও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এমন ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো আশঙ্কা। রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়; চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি।

    ১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া ধর্মেন্দ্রর প্রকৃত নাম ছিল ধর্মসিং দেওল। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই তাঁর সিনেমার প্রতি অদম্য আগ্রহ ছিল। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি মুম্বাইয়ে আসেন। ‘ফুল অউর পাথর’ ছবিটি তাঁকে প্রথম সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি দেয়।

    পরবর্তী দুই দশকে ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘ধর্মবীর’, ‘দোস্ত’সহ অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে। সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অধ্যায়।

    দুই স্ত্রী ও চার সন্তানের জনক ধর্মেন্দ্র ছিলেন বহু প্রজন্মের দর্শকের প্রিয় অভিনেতা। ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবন শেষে বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা রেখে গেলেন অমর স্মৃতি ও অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া সিনেমা।

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে প্রাণ হারালেন ৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে: একদিনে প্রাণ হারালেন ৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২

    এবিএনএ: সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪৯২ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১৫৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।

    এ সময়ের মধ্যে ৪১১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৪০৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৭৬৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এই মুহূর্তে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।