Tag: মৃত্যু সংখ্যা

  • ডেঙ্গুতে ফের দুই প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৯৫ জন

    ডেঙ্গুতে ফের দুই প্রাণহানি, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৯৫ জন

    এবিএনএ:  

    দেশজুড়ে ফের ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী।

    রোববার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে রয়েছেন ৫৮ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, ঢাকার বাইরের এলাকায় ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৪ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৫০ জন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জন, রাজশাহীতে ৪৮ জন, রংপুরে ৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নতুন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯৩ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৪ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

    ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ হাজার ৬৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।

    গত এক দিনে মৃত্যুবরণকারী দুইজনের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম বিভাগ ও অন্যজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়ালো ৮৬ জনে।

    ২০২৪ সালে পুরো বছরজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেন ৫৭৫ জন। আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল আরও ভয়াবহ—আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মৃত্যু হয় ১ হাজার ৭০৫ জনের।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণই পারে মৃত্যুর হার কমাতে।

  • আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, জুলাইয়ে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগী

    আগস্টে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে, জুলাইয়ে শনাক্ত সর্বোচ্চ রোগী

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন, অথচ শুধু জুলাই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪০৬ জন।

    সর্বশেষ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৬ জন এবং মারা গেছেন দুজন পুরুষ। এ নিয়ে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। এর মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) সর্বোচ্চ ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার ভেতরে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলে ৬২ জন, রাজশাহীতে ৪৫ জন, খুলনায় ২৩ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে—৩৯ জন। জুনে মারা গেছেন ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন এবং মে মাসে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

    বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়—৪৬ জন। বরিশালে মারা গেছেন ১৬ জন। দক্ষিণাঞ্চলের এ বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

    জুলাইয়ে রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগস্টের পরিস্থিতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, “২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু বাংলাদেশে শুরু হলেও আজও এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি। মশা নিধন কার্যক্রমে বাস্তবায়নহীনতা ও সমন্বয়ের অভাবই সংক্রমণ বাড়ার মূল কারণ।”

    তিনি আরও বলেন, “আগস্টে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। এখনই নতুন পরিকল্পনা ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”