Tag: মৃত্যুদণ্ড

  • শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়: এমপি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

    শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়: এমপি হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মামলার তদন্তে উঠে আসে, রাজধানী কলম্বোর অদূরে নিত্তাম্বুয়া এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি পথরোধ করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুলি ছোড়েন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এরপর জনরোষে তিনি ও তার দেহরক্ষী নির্মম গণপিটুনির শিকার হন। বাঁচতে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও হাজারো বিক্ষোভকারীর ভিড়ে তিনি অবশেষে নিহত হন।

    রায়ে আদালত ১২ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই মামলায় আরও ২৩ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা চাইলে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও গুরুতর অপরাধে আদালত নিয়মিতভাবে এ সাজা ঘোষণা করে থাকে।

    ২০২২ সালে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার জেরে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের সময় সহিংসতা বাড়লে ক্ষমতাসীন দলের বহু আইনপ্রণেতার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। টানা আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন।

    পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন নেতৃত্ব ব্যয় সংকোচনের নীতি অব্যাহত রেখে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

  • ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    এবিএনএ:  ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ এখন থেকে ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যেখানে দখলদার ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বা সহযোগিতাকে ‘পৃথিবীতে দুর্নীতির’ শামিল বলা হয়েছে।

    আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যারা ইসরায়েলকে সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, তাদের ‘কঠিনতম শাস্তি’ পেতে হবে।

    শুধু তাই নয়, স্টারলিংকসহ অনুমোদনবিহীন ইন্টারনেট সরঞ্জাম যেমন— রাউটার, রিসিভার ইত্যাদি বিক্রি, ব্যবহার বা মালিকানাকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দশটির বেশি সরঞ্জাম আমদানি বা তৈরি করলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানকে স্বাগত জানিয়ে পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    ইরান জানায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ইসরায়েল এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্দেহ পোষণ করছে যে, তেহরান পরোক্ষভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে।

    এদিকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের ডিফেন্স নিউজ পোর্টাল ডেফা প্রেস জানিয়েছে, এতে ইসরায়েলের অন্তত ৩১ হাজার ভবন ও ৪ হাজার যানবাহন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ইরানি হামলা ইসরায়েলের উপর “ব্যাপক ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি” ডেকে এনেছে।