Tag: মুহাম্মদ ইউনূস

  • টেকসই সমুদ্রনীতি গড়তে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    টেকসই সমুদ্রনীতি গড়তে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতা আনার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

    বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে হাইড্রোগ্রাফি দিবস উদযাপন অব্যাহত থাকায় তিনি আনন্দিত। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Seabed Mapping: Enabling Ocean Action’ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং বাস্তবভিত্তিক।

    ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের ভূমিকা অপরিসীম। শুধু বাংলাদেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও এই সাগরের ওপর নির্ভরশীল।

    বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সঠিক, হালনাগাদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য অপরিহার্য।

    তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের, যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমার জরিপ, চার্ট তৈরিতে এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে।

    জাতিসংঘ সমুদ্র আইন অনুযায়ী মহীসোপান নির্ধারণ ও সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও এই বিভাগের অবদান উল্লেখযোগ্য।

    ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, শুধু নিরাপত্তা নয়, এই বিভাগ ভবিষ্যতে বন্দর উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    তিনি হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে নেওয়া সকল উদ্যোগের সফলতা কামনা করেন এবং সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

  • পরিবেশ ধ্বংস করে নয়, টেকসই উন্নয়নই চাই: প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা

    পরিবেশ ধ্বংস করে নয়, টেকসই উন্নয়নই চাই: প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ:  বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়ন’ প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

    প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ও ব-দ্বীপ অঞ্চল, তাই পানিপ্রবাহ রক্ষা করা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।”

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হো ইউন জোং, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

    প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন—
    ১. নদী ও পানিপ্রবাহ সংরক্ষণ,
    ২. অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যা ও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনা,
    ৩. আন্তর্জাতিক সংযোগ ও আঞ্চলিক বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা

    তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প বন্যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। উঁচু রাস্তা, সেতু বা রেলপথ বানানোর সময় সেই অবকাঠামো জনগণের জন্য আশ্রয় হবে, না বিপদ ডেকে আনবে—তা ভাবতে হবে।”

    এ সময় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উপযোগী করিডোর পরিকল্পনার আহ্বান জানান এবং প্রকল্পে পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পাশাপাশি একটি জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেন।

    সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান উদাহরণ টেনে বলেন, “হাওর এলাকায় এক সময় বিশাল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু পরে দেখা গেছে তা পুরো ইকোসিস্টেম ধ্বংস করেছে এবং মানুষকে চরম বন্যায় ফেলেছে। তাই প্রকল্পের আগে পরিবেশগত প্রভাব ভালোভাবে বিবেচনা জরুরি।”

    এই বৈঠকে উন্নয়নকে টেকসই, সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

  • রাজা চার্লসের সঙ্গে মুখোমুখি অধ্যাপক ইউনূস, বাকিংহাম প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাজপ্রাসাদে আলোচনার ঝলক

    রাজা চার্লসের সঙ্গে মুখোমুখি অধ্যাপক ইউনূস, বাকিংহাম প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাজপ্রাসাদে আলোচনার ঝলক

    এবিএনএ:

    ব্রিটেন সফরের সময় ঐতিহাসিক এক সৌজন্য সাক্ষাৎ হলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে।

    সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিশেষ মুহূর্তের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে রাজা চার্লস ও অধ্যাপক ইউনূসকে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপে মগ্ন দেখা যাচ্ছে।

    বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছালে রাজা চার্লস নিজেই অধ্যাপক ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য নির্মূল এবং পৃথিবীকে টেকসইভাবে রক্ষা করার জন্য ড. ইউনূসের ‘তিন শূন্যের’ আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, রাজা চার্লস বহুদিন ধরেই অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে আসছেন। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম হোক কিংবা সমাজকল্যাণে সামাজিক উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই ব্রিটিশ রাজা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি আরও জানান, রাজা চার্লস এক সময় ড. ইউনূসের একটি গ্রন্থের ভূমিকাও লিখেছিলেন, যা দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির মনের মিল ও মূল্যবোধের অভিন্নতার প্রমাণ।

    এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধু দুই দেশের বন্ধুত্বের ইঙ্গিত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী শান্তি, মানবতা ও টেকসই উন্নয়নের দিশাও দেখায়।

  • লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এয়ারবাস কর্মকর্তার গোপন বৈঠক: আলোচনার ইঙ্গিত কী?

    লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এয়ারবাস কর্মকর্তার গোপন বৈঠক: আলোচনার ইঙ্গিত কী?

    এবিএনএ:

    লন্ডনের এক বিলাসবহুল হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াউটার ভ্যান ওয়ার্শ।

    মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। যদিও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পরদিন মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে তিনি হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সফরের শুরুতেই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে।

  • ঈদ শুভেচ্ছায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    ঈদ শুভেচ্ছায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    এবিএনএ:

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
    শনিবার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    দুই বাহিনীর প্রধানই তাদের সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, এই সৌজন্য সাক্ষাতে পারস্পরিক শুভকামনা ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তাঁরা।
    এ সময় দেশের সামগ্রিক কল্যাণ, শান্তি ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ঈদ মানেই সৌহার্দ্য, সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বন্ধন আরও দৃঢ় করার সময়। এই সাক্ষাৎ সে বার্তাই বহন করে।”

  • নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাপানের পূর্ণ সহায়তা চান ড. ইউনূস

    নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাপানের পূর্ণ সহায়তা চান ড. ইউনূস

    এবিএনএ, ঢাকা :

    বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক অভিযানে জাপানের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
    জাপানের জেট্রো ও জাইকার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার”-এ বক্তব্যে ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রতি এক গভীর সংকট থেকে উঠে আসছে। গত ১৬ বছর ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো ভূমিকম্প। এখন আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার গড়তে চাই—একটি নতুন বাংলাদেশ।”

    জাপানকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন প্রকৃত বন্ধু কঠিন সময়ে পাশে থাকে, আর জাপান আমাদের সেই বিশ্বস্ত বন্ধু। অসম্ভবকে সম্ভব করার এই যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে চাই।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ কেবল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি সভ্যতা নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসকে আমরা দেখাতে চাই যে, হ্যাঁ, এটা করা সম্ভব। এবং জাপানের সহায়তায় আমরা সেই বাস্তবতাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”

    মাতারবাড়ি উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। এটি শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে।”

    এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সমুদ্রপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দরজা’ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

    ড. ইউনূস জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু টেক্সটাইল খাত নয়, আরও বহুমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব।”

    জাপানের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার তাকেউচি শিনজিও বলেন, “বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিন্দু। জাপান বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় এবং আমাদের বেসরকারি খাতকে সে অনুযায়ী উৎসাহিত করছে।”

    তিনি যোগ করেন, “অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জাপান সবসময় পাশে থাকবে।”

  • রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় সরকার গঠনের তৎপরতা, ইউনূসকে ঘিরে চাপে অন্তর্বর্তী প্রশাসন

    রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় সরকার গঠনের তৎপরতা, ইউনূসকে ঘিরে চাপে অন্তর্বর্তী প্রশাসন

    এবিএনএ: 

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী বিএনপি ও জামায়াত বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও, অন্যান্য দলের প্রতি তার অনীহা স্পষ্ট।

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই সঙ্কটের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গোপন ‘অশুভ চক্র’, যারা চায় না দেশ নির্বাচনমুখী হোক। তারা ইউনূসকে জনবিচ্ছিন্ন করে নিজেরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। এমনকি এই চক্র জরুরি অবস্থার গুজবও ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগছে। ইতোমধ্যে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি নির্বাচনের সম্ভাবনা।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আলী রীয়াজের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, সেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর বক্তব্য নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। একই দিনে উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ বৈঠকেও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়, যেখানে কিছু উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ড. ইউনূস।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূসের পদত্যাগই সংকটের সমাধান নয়। বরং সিদ্ধান্তহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনির্দিষ্টতা বেড়েই চলেছে, যার ফলে জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ গোপনে শুরু হয়েছে বলে কিছু সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    তবে প্রশাসনের একাধিক স্তরে এ নিয়ে মতভেদ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক দাবা খেলায় শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হয় এবং জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।

  • জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    জাতীয় সংকটে ইউনূসের পাশে দাঁড়ালেন নাহিদ ইসলাম — পদত্যাগ না করার আহ্বান

    এবিএনএ: 

    জাতীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’জনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে নাহিদ ইসলাম দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যুত্থানের শঙ্কার প্রেক্ষাপটে ইউনূসের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আপনার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া রাষ্ট্র ও জাতির জন্য নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”

    সাক্ষাতের বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে শুধু অনুরোধ নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই সময়ে আরও দৃঢ় থাকার প্রস্তাব দেন নাহিদ ইসলাম।

    উল্লেখ্য, এর আগে ড. ইউনূস তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাঁরা সংযত না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তারা সংযত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও ইউনূস নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানান, যা শুনে উপস্থিত উপদেষ্টারা তাকে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন।

    দেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে এমন এক সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন একটানা নেতৃত্ব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তাই নাহিদ ইসলামের অনুরোধ অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


  • চবির সমাবর্তনে ড. ইউনূসের আহ্বান: “নতুন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখো শিক্ষার্থীরা”

    চবির সমাবর্তনে ড. ইউনূসের আহ্বান: “নতুন বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখো শিক্ষার্থীরা”

    এবিএনএ:  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বৃহত্তম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের নতুন সমাজ অর্থনীতির স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কল্পনা করতে পারি এমন এক পৃথিবী, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার বাইরে গড়ে উঠবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের সমাজ কেমন দেখতে চায়, সেই স্বপ্নকে মনে গেঁথে রাখা এবং তা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া।”

    ড. ইউনূস বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আখ্যা দেন ‘ধ্বংসাত্মক অর্থনীতি’ হিসেবে। তার ভাষায়, “বর্তমানে যে অর্থনীতি চলছে, তা মানুষের জন্য নয়, বরং ব্যবসা মুনাফার জন্য তৈরি।” তিনি সতর্ক করেন, এই ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা টিকে থাকবে না, কারণ এর ভিত্তিই আত্মঘাতী।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের অতীতের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে আমি চবিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। এখানেই জন্ম হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংকের।”

    তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় চবির অর্থনীতি বিভাগ থেকেই জন্ম নেয় বিশ্ববিখ্যাত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ব্যাংক’। সময় তিনি জানান, “চবির ক্লাসরুমেই প্রথম আমরা ভাবি কীভাবে মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা যায়।”

    সমাবর্তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি লিট) উপাধিতে ভূষিত করে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার তাঁর হাতে এই সনদ তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম ফয়েজ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং প্রশাসনের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মো. কামাল উদ্দিন।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবর্তনের আয়োজন করে, যেখানে ২২,৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয়।

    এই ঐতিহাসিক আয়োজন ড. ইউনূসের অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবতে উৎসাহ জোগাবে — এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষাঙ্গনের।

  • সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধে আসছে নতুন অধ্যাদেশ

    সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধে আসছে নতুন অধ্যাদেশ

    এবিএনএ:   সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এবার সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

    রবিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই খসড়াটি অনুমোদিত হয়।

    বৈঠকের সারসংক্ষেপে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছিল সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ শাস্তি নিশ্চিত করতে। তবে বর্তমান আইনে কেবল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও কোনো সত্তা বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট ধারা ছিল না।

    নতুন সংশোধনীতে এই ফাঁক পূরণ করা হয়েছে। এখন থেকে যুক্তিসংগত প্রমাণের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে সন্ত্রাসে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।

    এছাড়াও, সংশোধিত অধ্যাদেশে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর প্রচারণা বন্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীটি অধ্যাদেশ আকারে আগামীকাল জারি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।